মাত্র ১১ থেকে ২০ শতাংশ রোগীকে ‘হাই রিস্ক’ হিসেবে ধরা হয়েছিল, অথচ পরবর্তীতে দেখা যায় এর বাইরে অনেকেরই হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। অর্থাৎ, বেশিরভাগ মানুষই আগাম সতর্কতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

এদেশে বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি
শেষ আপডেট: 2 April 2026 17:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়মিত চেকআপে (Daily Check-up) সব রিপোর্ট স্বাভাবিক, চিকিৎসকের চোখেও তেমন কিছু ধরা পড়ছে না যা দেখে ঝুঁকি বোঝা যাবে—তবু আচমকা হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack)! এমন ঘটনা এখন নিত্য ঘটছে। এদেশের নতুন এক গবেষণা বলছে, এই ঘটনাই এখন ক্রমশ সাধারণ হয়ে উঠছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, যাঁরা প্রথমবার হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশকে আগে ‘হাই রিস্ক’ (High Risk) হিসেবে চিহ্নিত করা যায়নি।
কী বলছে গবেষণা?
৫ হাজারের বেশি ভারতীয় রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, যে গ্লোবাল হার্ট রিস্ক ক্যালকুলেটরগুলি (Global Heart Risk Calculator) চিকিৎসকেরা ব্যবহার করেন, সেগুলি ভারতীয়দের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই সঠিকভাবে ঝুঁকি ধরতে ব্যর্থ হয়। মাত্র ১১ থেকে ২০ শতাংশ রোগীকে ‘হাই রিস্ক’ হিসেবে ধরা হয়েছিল, অথচ পরবর্তীতে দেখা যায় এর বাইরে অনেকেরই হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। অর্থাৎ, বেশিরভাগ মানুষই আগাম সতর্কতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হল পশ্চিমা দেশের মডেল দিয়ে ভারতীয়দের ঝুঁকি বিচার করা। ইউরোপ-আমেরিকার ডেটা দিয়ে তৈরি এই মডেলগুলিতে সাধারণত বয়স ও LDL কোলেস্টেরলের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, যেখানে হার্টের রোগ তুলনামূলক দেরিতে দেখা যায়। কিন্তু ভারতীয়দের ক্ষেত্রে ছবিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে হার্টের রোগ কম বয়সেই, গড়ে প্রায় ৫৪ বছর বয়সে ধরা পড়ছে এবং তার আচরণও আলাদা।
এদেশে কেন বাড়ছে ঝুঁকি?
গবেষণায় উঠে এসেছে তথাকথিত ‘সাউথ এশিয়ান ফেনোটাইপ’-এর কথা। অর্থাৎ, অনেক ভারতীয়ের শরীর বাইরে থেকে রোগা বা স্বাভাবিক মনে হলেও ভিতরে লুকিয়ে থাকে পেটের চর্বি। একই সঙ্গে দেখা যায় লো HDL বা ভাল কোলেস্টেরল কম এবং হাই ট্রাইগ্লিসারাইডের প্রবণতা। এমনকি স্বাভাবিক ওজনের মধ্যেও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থাকতে পারে। এর সঙ্গে যোগ হয় মানসিক চাপ, ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন—যা সামগ্রিকভাবে হার্টের অসুখের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু সবসময় প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা পড়ে না।
এই কারণেই অনেক রোগী ‘লো’ বা ‘ইন্টারমিডিয়েট রিস্ক’ ক্যাটেগরিতে থেকে যান, যা এক ধরনের ধূসর এলাকা। এই অবস্থায় সময়মতো ওষুধ শুরু করা, লাইফস্টাইল পরিবর্তন বা নিবিড় পর্যবেক্ষণ—সবকিছুই ঠিক মতো করা সম্ভব হয় না। ফলে রোগ অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার পর, প্রায় হঠাৎ করেই বড়সড় সমস্যা সামনে আসে।
যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে
চিকিৎসকদের মতে, শুধুমাত্র রিস্ক ক্যালকুলেটরের উপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। রোগীর পারিবারিক ইতিহাস, ডায়াবেটিস, মানসিক চাপ, জীবনযাত্রা—এই সব বিষয় একসঙ্গে বিচার করা জরুরি। তবেই প্রকৃত ঝুঁকির ছবি স্পষ্ট হবে।
তাই এখন থেকেই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত হার্ট চেকআপের পাশাপাশি নজর রাখতে হবে পেটের মেদ (Obesity), ব্লাড সুগার (Blood Suger), ট্রাইগ্লিসারাইডের (Triglyceride) মতো সূচকে। একই সঙ্গে দরকার নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ।
সবশেষে একটাই কথা—রিপোর্ট ‘নরমাল’ হলেই নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না। হার্টের ঝুঁকি অনেক সময় নীরবে বাড়তে থাকে। তাই নিজের শরীরের সংকেত বুঝে আগেভাগে সতর্ক হওয়াই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.