‘নন্দী বাড়ির বড় বৌ—রাজলক্ষ্মী।’ নামটার মধ্যেই যেন এক অদৃশ্য ভার। সংসারের ভরকেন্দ্র, সকলের ভরসা, এক নীরব শক্তির প্রতীক।

শেষ আপডেট: 24 March 2026 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘নন্দী বাড়ির বড় বৌ—রাজলক্ষ্মী।’ নামটার মধ্যেই যেন এক অদৃশ্য ভার। সংসারের ভরকেন্দ্র, সকলের ভরসা, এক নীরব শক্তির প্রতীক। এতদিন সবাই জানত, এই বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে তার কাঁধেই। কিন্তু গল্প তো কখনও একরৈখিক থাকে না। একদিন হঠাৎ সব বদলে যায়। কী ঘটে? কেন ভেঙে পড়ে সেই অটল ভরসা? এই অজানা প্রশ্নের ভিতরেই তৈরি হচ্ছে নতুন এক আবেগঘন পরিসর, যার দরজা খুলে দিচ্ছে ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড।
সম্প্রতি ছবির নির্মাতারা প্রকাশ করেছেন একটি চরিত্র পোস্টার—যেখানে রাজলক্ষ্মী হয়ে ধরা দিয়েছেন কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। পোস্টারে লাল পাড় সাদা শাড়ি নয়, বরং গাঢ় লাল ঐতিহ্যবাহী শাড়িতে মোড়া এক দৃঢ়, সংযত উপস্থিতি। সূক্ষ্ম নকশার শাড়ি, ভারী সোনার গয়না—সব মিলিয়ে তার সাজে আছে এক ধরনের ক্ষমতা, এক অদৃশ্য আধিপত্য। কিন্তু চোখের দৃষ্টিটাই যেন সবচেয়ে বেশি কথা বলে—সেখানে আছে চাপা যন্ত্রণা, অভ্যন্তরীণ লড়াই, আর অজস্র না-বলা গল্পের ইঙ্গিত।
এই চরিত্র শুধু বাহ্যিক শক্তির নয়, ভিতরের স্তরগুলোতেও গভীর। সেই গভীরতাকেই সামনে আনতে চলেছেন পরিচালক জুটি নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাদের হাত ধরে তৈরি হওয়া গল্পে বরাবরই থাকে সমাজের স্পর্শ, মানুষের ভেতরের টানাপোড়েন। সেই ধারাবাহিকতায় এই ছবিও যেন এক নতুন সংযোজন হতে চলেছে।
এই ছবির মাধ্যমে আবারও তাদের সঙ্গে কাজ করছেন কনীনিকা—একটা দীর্ঘ বিরতির পর। আগে ‘হামি’ বা ‘কণ্ঠ’-এর মতো ছবিতে এই ত্রয়ীর কাজ দর্শকদের মনে দাগ কেটেছিল। তাই ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’-এ তাদের পুনর্মিলন স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা বাড়াচ্ছে।
প্রযোজনায় রয়েছে Windows Productions, যারা ইতিমধ্যেই বাংলা ছবিতে নিজেদের একটি আলাদা জায়গা তৈরি করেছে। ২০২৬-এর গ্রীষ্মে মুক্তির লক্ষ্যে তৈরি হওয়া এই ছবিটি, নাম ঘোষণার পর থেকেই কৌতূহল জাগিয়েছে। চরিত্র পোস্টার প্রকাশের পর সেই আগ্রহ আরও কয়েকগুণ বেড়েছে।
রাজলক্ষ্মীকে নিয়ে নিজের অনুভূতির কথাও ভাগ করে নিয়েছেন কনীনিকা। তার কথায়, এই চরিত্রটা তার খুব কাছের। এর মধ্যে যে নীরব শক্তি আর জটিলতা আছে, সেটার সঙ্গে তিনি প্রথম থেকেই এক অদ্ভুত সংযোগ অনুভব করেছেন। ‘কণ্ঠ’-এর পর আবার নন্দিতা দি আর শিবু দার সঙ্গে কাজ করা, যেন তার কাছে ঘরে ফেরার মতোই।
তিনি জানালেন, যখন শিবপ্রসাদ ফোন করেছিলেন, তখন তিনি বিদেশে। সেই মুহূর্তটাও তার কাছে বিশেষ হয়ে আছে। তার কথায়, এই সুযোগটা তার কাছে অনেক বড় পাওয়া। কারণ Windows-এর সঙ্গে কাজ করতে তার সবসময়ই ভালো লাগে। নন্দিতা রায়কে তিনি গভীরভাবে সম্মান করেন—এমন একজন মানুষ, যাকে তিনি শুধু পছন্দই করেন না, বরং যাঁর উপস্থিতিতে থাকতে ভালো লাগে। আর শিবপ্রসাদের প্রতি তার মুগ্ধতা তো ছোটবেলা থেকেই—অভিনেতা হিসেবে, পরিচালক হিসেবে, এমনকি তার চিন্তাভাবনার জন্যও।
কনীনিকার মতে, এখনকার দিনে শুধু পরিচালনা দিয়ে সিনেমা তৈরি হয় না—ব্যবসার দিকটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গাতেও শিবপ্রসাদের বুদ্ধিমত্তা তাকে মুগ্ধ করে। এই সব কারণ মিলিয়েই, তার কাছে এই ফিরে আসাটা শুধু কাজ নয়, একান্ত ব্যক্তিগত আনন্দেরও জায়গা।
সব মিলিয়ে, ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’ ধীরে ধীরে তৈরি করছে নিজের আলাদা আবহ। শক্তিশালী অভিনয়, অনুভবের গভীরতা আর অভিজ্ঞ নির্মাতাদের দৃষ্টিভঙ্গি—সবকিছু মিলিয়ে ছবিটি ২০২৬-এর অন্যতম প্রতীক্ষিত বাংলা ছবি হয়ে উঠছে।
আর রাজলক্ষ্মী? সে হয়তো শুধু এক চরিত্র নয়। সে এক প্রশ্ন—সংসারের স্তম্ভও কি কখনও ভেঙে পড়ে? আর যদি পড়ে, সেই ভাঙনের শব্দ কি কেউ শোনে?