
রাজেশ খান্না
শেষ আপডেট: 26 February 2025 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের (Bollywood) প্রথম সুপারস্টার রাজেশ খান্নার (Rajesh Khanna) জীবন ছিল এক কিংবদন্তির মতো। যদিও কেরিয়ারের প্রথম কয়েকটি ছবি বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি, তবে শক্তি সামন্তের পরিচালনায় ‘আরাধনা’ ছবি মুক্তির পর রাজেশ খান্না বুঝিয়ে দেন, তিনি এসেছেন রাজত্ব করতে। সেই ব্লকবাস্টার ছবির পর একের পর এক হিট ছবি উপহার দেন— ‘সফর’, ‘আনন্দ’, ‘আন্দাজ’, ‘অমর প্রেম’— যা তাঁকে নিয়ে যায় শীর্ষে।
রাজেশ খান্নার নামে জুড়ে যায় ‘সুপারস্টার’ শব্দটি, যা বলিউডে তিনিই প্রথম অর্জন করেন। তবে কাছের মানুষরা ভালবেসে তাঁকে ডাকতেন ‘কাকাজি’ নামে। কিন্তু তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায় ছিল একেবারেই বেদনার। বিছানায় শুয়ে কাটত দিন, যেন সময় থমকে গিয়েছে।
রাজেশ খান্নার সাফল্য ছিল ঈর্ষণীয়। সেই সময় অমিতাভ বচ্চন ধীরে ধীরে বলিউডে জায়গা করে নিচ্ছেন। ‘আনন্দ’ ছবিতে রাজেশের সঙ্গে কাজ করার সময় বিগ বি মুগ্ধ হয়েছিলেন তাঁর অভিনয়ে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বলিউডে শুরু হয় পরিবর্তন। ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ ইমেজে জনপ্রিয়তা পাওয়া অমিতাভ বচ্চন যখন শীর্ষে উঠে আসেন, তখন রাজেশ খান্নার জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে ফিকে হতে থাকে। যদিও অনেকের মতে, নিজের বেপরোয়া জীবনযাপন, অতিরিক্ত অহংবোধ এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনই তাঁর পতনের কারণ।
সম্প্রতি অবন্তি ফিল্মস নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনিতা আডবাণী জানিয়েছেন, রাজেশ খান্নার শেষ দিনগুলো কতটা যন্ত্রণাময় ছিল। তিনি বলেন, রাজেশের ইচ্ছে ছিল তাঁর বাড়ি ‘আশীর্বাদ’ একদিন মিউজিয়াম হবে, যেখানে তাঁর সুপারস্টার জীবনের সমস্ত স্মৃতি জ্বলজ্বল করবে। কিন্তু যখন ১৫০ কোটির প্রস্তাবে সেই বাড়ি বিক্রির কথা উঠল, রাজেশ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং সেই প্রস্তাব সরাসরি ফিরিয়ে দেন।
অনিতা আরও জানান, রাজেশের শেষ দিনগুলো ছিল অসহনীয়। বিছানায় শুয়ে বারবার তিনি বলতেন, 'এই অবস্থা আমার সহ্য হচ্ছে না। তার চেয়ে আমাকে মেরে ফেল।' অনিতা চেষ্টা করতেন কথা বলে শান্ত করতে, পাশে থাকতেন তাঁর স্ত্রী ডিম্পল কাপাডিয়া এবং দুই মেয়ে। তবুও রাজেশের যন্ত্রণার অবসান হয়নি। আর শেষমেশ, তাঁকে আর বাঁচানো গেল না। পরে যখন তাঁর স্বপ্নের বাড়ি ‘আশীর্বাদ’ ভেঙে ফেলা হয়, অনিতার মনে সেই কষ্ট আরও গভীর হয়ে বসে।