রাজেশ খান্নার সাম্রাজ্য শেষ হয়ে গিয়েছিল অমিতাভ বচ্চনের জনপ্রিয়তায়। অমিতাভ যখন 'কৌন বনেগা ক্রোড়পতি' গেম শো করলেন তখন তা ভারতীয় টেলিভিশনের বাঁকবদল শো হয়ে গেল। কিন্তু রাজেশের ছোট পর্দায় আগমন হল ভরাডুবি।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 18 July 2025 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাতের দশকের শুরুতে তিনিই ছিলেন বলিউডের (bollywood) সুপারস্টার। তাঁর একটা অটোগ্রাফ ছিল সারা বিশ্বের কাছে মহামূল্যমান। ক্লিন শেভড হিরো রূপে তিনি জিতে নিয়েছিলেন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার মন। কিন্তু সত্তরের শেষ থেকেই তাঁর সাম্রাজ্যের পতন হতে শুরু করে। কমতে থাকে হিরো হিসেবে তাঁর আকাশচুম্বী চাহিদা।
কিন্তু জীবনের শেষলগ্নেও তিনি কামব্যাক করতে চেয়েছিলেন পর্দায়। একাধিক ছবি সই করেও ভরাডুবি হয় তাঁর। তিনি রাজেশ খান্না (Rajesh Khanna)।
আটের দশকের শেষ দিক থেকেই রাজেশ খান্নার ঢলতি দিক শুরু হয়। নয়ের দশকে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ছবির জগৎ থেকে বহু দূরে সরে গিয়েছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে ১০টি নতুন ছবি একসঙ্গে সই করেন রাজেশ খান্না। সেগুলি হল বিজয়, দ্য উইনার অল দ্য ওয়ে, হ্যালো কৌন হ্যায়, জান লেভা, ৬ ডিসেম্বর, ওয়াফা, কাশ মেরে হতে, ব্ল্যাকমেলার, ফার্স্ট টাইম পহেলি বার, দো দিল কী খেল মে' এবং রাজা বুন্দেলার একটি নাম ঠিক না হওয়া ছবি।
কিন্তু এতছবির মধ্যে ২০০৮ সালে শেষ অবধি মুক্তি পায় 'কাশ মেরে হতে' আর 'ওয়াফা'। দুটিই বিশাল ভাবে ফ্লপ করে। ছবির নামও কেউ জানে না। বাদ বাকি সব ছবি বন্ধ হয়ে যায়।
২০০৮ সালে 'রঘুকুল' দূরদর্শনের সিরিয়াল দিয়ে ছোট পর্দাতেও কামব্যাক করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তখন আর দূরদর্শন জনপ্রিয় চ্যানেল ছিল না, কেবল টিভির দৌলতে। রাজেশ খান্নার কামব্যাক নিয়ে মানুষের মধ্যে কোনও উৎসাহ ছিল না।
রাজেশ খান্নার সাম্রাজ্য শেষ হয়ে গিয়েছিল অমিতাভ বচ্চনের জনপ্রিয়তায়। অমিতাভ যখন 'কৌন বনেগা ক্রোড়পতি' গেম শো করলেন তখন তা ভারতীয় টেলিভিশনের বাঁকবদল শো হয়ে গেল। কিন্তু রাজেশের ছোট পর্দায় আগমন হল ভরাডুবি।
২০০৯ সালে রাজেশ খান্নার হাতে কোনও কাজ ছিল না। কাজ না পাওয়ার অবসাদে মদকেই সঙ্গী করে নেন তিনি। যা তাঁকে ঠেলে দেয় আরও একাকীত্বের দিকে। আর কোনও ভক্ত তাঁর 'আশীর্বাদ' বাড়ির সামনে ভিড় জমাত না। একেবারেই খবরের বাইরে চলে গিয়েছিলেন তিনি। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা রাজেশ খান্নার নাম অবধি জানত না।
কিন্তু রাজেশ খান্নার হাতে যথেষ্ট টাকা ছিল অথচ তিনি নিম্নমানের ছবিতে পার্শ্ব অভিনেতার রোল তিনি নিতেন। আর পরপর ফ্লপের মুখ দেখতেন।
সেসময় কিছু অ্যাওয়ার্ড শো থেকে লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার পেয়ে নিয়েছিলেন তিনি। ২০১০ সালে 'রিয়াসাৎ' নামে একটি ছবি সাইন করেন। এসব করে নিজেকে নতুন ভাবে লঞ্চ করে শেষ কিস্তি খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। ২০১১ সালে কিডনি আর লিভারের অসুখে আক্রান্ত হন বর্ষীয়ান অভিনেতা। ওজন কমে যেতে থাকে তাঁর। তাঁর পর্দায় কামব্যাক করার ইচ্ছে থাকলেও তিনি মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন না।
২০১২ সালে ১৮ জুলাই দীর্ঘ অসুস্থতার পর প্রয়াত হন অভিনেতা। যার প্রয়াণে বম্বে শহরে মানুষের ঢল নামা উচিত ছিল তা কিন্তু ঘটেনি।
রাত গায়ি বাত গায়ি, যেন ছিল রাজেশের জীবন। সুপারস্টার হয়েও সেই স্টারডম তিনি ধরে রাখতে পারেননি। অনেকে বলেছিল অতি অহংকার রাজেশ খান্নার কাল হল।