'হান্ড্রেড ডেজ' বাংলায় ডাবড করে '১০০ দিন' নামে রিলিজ করেছিল পরে। এই ছবির সাফল্যের পর পার্থ ঘোষ '১০১ ডেজ' বলে আর একটি ছবি বানিয়েছিলেন। কিন্তু শ্যুট শেষ হলেও সেই ছবি আর মুক্তি পায়নি।

১০০ দিন । গ্রাফিক্স দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 10 June 2025 15:34
বলিউডের এই বাঙালি পরিচালক বহুকাল খবরের বাইরে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর তাঁকে আবার প্রচারের আলোতে আনল। তিনি পার্থ ঘোষ। 'অগ্নিসাক্ষী', 'মেরা দামাদ', 'দালাল' এর মতো হিন্দি ছবি সহ 'সিঁদুরখেলা', 'রহমত আলি'র মতো বাংলা ছবিও করেছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় তিনি আর ছবি পরিচালনা করেননি। পার্থ ঘোষের সবথেকে চর্চিত ছবি হল ‘হান্ড্রেড ডেজ’। ভয় আর থ্রিলার গল্পের এই সিনেমা প্রায় সবার দেখা। 'হান্ড্রেড ডেজ' ছবি হওয়ার পেছনে আসল কারিগর ছিলেন অভিনেত্রী মুনমুন সেন।
'হান্ড্রেড ডেজ' আদতে ছিল 'Nooravathu Naal' তামিল ছবির রিমেক। তবে সেটিও ছিল ইতালীয় ছবি 'The Psychic or Seven Notes in Black' ও আমেরিকান ছবি 'Eyes of Laura Mars'-এর অনুকরণে। তবে বলিউড ছবি 'হান্ড্রেড ডেজ' সবথেকে হিট করেছিল সারা দেশে।

দুই বোনের গল্প। দিদি রমা খুন হয় নিজের বাড়িতেই। যার মরদেহ বাড়ির মধ্যেই দেওয়াল গেঁথে রেখে দেয় খুনি। সেই খুনি বোন দেবীকেও খুন করতে চায়। দেবী কী ভাবে দিদির খুনের কিনারা করে আর নিজেকে বাঁচায় সেই নিয়েই ছবি। মুনমুন সেনের চরিত্রের নাম একমাত্র এই ছবিতে তাঁর মায়ের ডাক নামে 'রমা' হয়েছিল। মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের ডাক নাম রমা।
সে সময় মুনমুন সেন পার্থ ঘোষের 'তেরে বিনা ভি ক্যায়া জিনা' ছবির শ্যুটিং করছিলেন। তখনই মুনমুন পার্থকে 'হান্ড্রেড ডেজ' ছবি করার কথা বলেন। প্রযোজক প্রাণলাল মেহতার কাছে 'হান্ড্রেড ডেজ' ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে গেলে তিনি পার্থ ঘোষকে জানিয়ে দেন এই কাহিনি নিয়ে ছবি করতে তিনি এখন চাননা। তাঁর বলা কাহিনি নিয়েই অন্য ছবি করতে বাধ্য হন পার্থ ঘোষ। পার্থ সেসময় 'হান্ড্রেড ডেজ' এর চিত্রনাট্য পরিচালক অরুণ ভট্টকে দিয়ে দেন। ভাস্কর শেট্টি ঐ হাউজ থেকেই 'জওয়ানি জিন্দাবাদ' ছবি পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু ভাস্কর গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান হঠাৎই। সে সময় প্রযোজক পান্নালাল মেহতা অরুণ ভট্টকে বলেন 'জওয়ানি জিন্দাবাদ' ছবিটি পরিচালনা করতে। তখন 'হান্ড্রেড ডেজ' ছবিটি পরিচালকহীন হয়ে পড়ে। পান্নালাল তখন শেষমেশ ফিরে আসেন পার্থ ঘোষের কাছে। পার্থ ঘোষ ছবি করার স্বপ্নে বিভোর হয়ে পান্নালালকে বলেছিলেন 'হান্ড্রেড ডেজ' তিনি বিনা পয়সায় করে দেবেন। তবে শেষ অবধি দিন প্রতি ৫০০০ টাকা পারিশ্রমিকে ছবি পরিচালনা শুরু করেন পার্থ ঘোষ।

'হান্ড্রেড ডেজ' ছবি কিন্তু প্রথমে ভাবা হয়েছিল জাভেদ জাফরি আর নীলমকে হিরো-হিরোইন ভেবে। তাঁদের নাম ঘোষণাও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নীলম ডেট দিতে না পারায় ছবিটি ছেড়ে দেন। যার ফলে কাস্টিং বদলে জ্যাকি শ্রফ ও মাধুরী দীক্ষিতকে আনা হয়। জাভেদ জাফরির চরিত্রটি সহ-অভিনেতার হয়ে যায়।
এমনকি জ্যাকির চরিত্রটি পুরোপুরি ভিলেন চরিত্র ছিল। কিন্তু ছবির শেষ বদলাতে পার্থ ঘোষকে বাধ্য করেন জ্যাকি। যাতে ছবির শেষে জ্যাকির নায়ক ইমেজ বজায় থাকে। এতজনকে খুশি করতে গিয়ে ছবির গল্পে অনেক আপস করেছিলেন পার্থ ঘোষ।
তবে বক্সঅফিসে ভাল সাফল্য পেয়েছিল 'হান্ড্রেড ডেজ'।
মুনমুন সেন ভূত হয়ে সাদা শাড়ি পড়ে সারা ছবি জুড়ে ঘুরে বেড়াতেন। 'দেবী ও দেবী' বলে তিনি ডাকতেন বোনকে। শ্বেতশুভ্র শাড়িতে মুনমুনের লিপে লতা মঙ্গেশকরের গান ' প্যায়ার তেরা পেয়ার' বিশাল হিট করেছিল। এই গানটি মুনমুনের ক্যারিয়ারে বলিউডে সেরা হিট। জ্যাকি-মাধুরীর 'শুন বেলিয়া' গানটিও বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

'হান্ড্রেড ডেজ' বাংলায় ডাবড করে '১০০ দিন' নামে রিলিজ করেছিল পরে। এই ছবির সাফল্যের পর পার্থ ঘোষ '১০১ ডেজ' বলে আর একটি ছবি বানিয়েছিলেন। কিন্তু শ্যুট শেষ হলেও সেই ছবি আর মুক্তি পায়নি। পরিচালকের মৃত্যুর পর '১০১ ডেজ' রিলিজ করা গেলে তা শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধার্ঘ্য হবে।
