সামাজিক বিষয় নির্ভর ছবির জন্য পৃথক ধরনের একটি দর্শকমহল সৃষ্টি করেছিলেন পার্থ ঘোষ।

প্রয়াত পরিচালক পার্থ ঘোষ।
শেষ আপডেট: 9 June 2025 13:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রখ্যাত হিন্দি ছবি পরিচালক পার্থ ঘোষ প্রয়াত। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। নয়ের দশকে তাঁর তৈরি অসংখ্য ছবি দর্শকদের মন জয় করেছিল। বহু বিখ্যাত অভিনেতা-অভিনেত্রী তাঁর ছবিতে কাজ করেছেন। সামাজিক বিষয় নির্ভর ছবির জন্য পৃথক ধরনের একটি দর্শকমহল সৃষ্টি করেছিলেন পার্থ ঘোষ।
সূত্রে জানা গিয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত তাঁর মৃত্যু খবর দেন। পার্থবাবুর মৃত্যুতে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত একেবারে ভেঙে পড়েছেন। একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, মন একেবারে ভেঙে গেল। আমরা এক প্রতিভাকে হারালাম। একজন ভাল মানুষ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পরিচালক ছিলেন পার্থদা। তাঁর ছবির জন্য চিরকাল তাঁকে সিনেমা মহল মনে রাখবে।
পার্থ ঘোষকে নয়ের দশকের অন্যতম সেরা পরিচালকদের একজন বলে মনে করা হয়। ছবির ভাষায় সমাজের অনেক কথা বাস্তবের পটচিত্রে তুলে ধরতেন তিনি। এই কারণেই তাঁর ছবি দর্শক মহলের হৃদয় ছুঁয়ে যেত। বিভিন্ন সামাজির বিষয়ের উপর তিনি ছবি তৈরি করে গিয়েছেন।
হান্ড্রেড ডেজ (100 Days)-এ মাধুরী দীক্ষিতকে এক নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরেছিলেন পার্থবাবু। তেমনই ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবিতে দেখা মিলেছিল আরেক প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী মণীষা কৈরালাকে। ১৯৯৩ সালে মিঠুন চক্রবর্তী ও আয়েষা জুলকাকে নিয়ে তৈরি করেন ‘দালাল’ ছবি। ছবির ভিন্ন জাতের কাহিনির জন্য এই ছবি নিয়ে সেই সময় খুব বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
পার্থবাবুর শেষ হিট ছবি ছিল ‘গুলাম ই মুস্তাফা’। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায় এই ছবি। রবীনা ট্যান্ডন ও নানা পাটেকর ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। তারপরে তিনি আরও বেশ কয়েকটি ছবি তৈরি করলেও সেগুলি তেমন বাজারদর পায়নি। ছবি ছাড়াও তিনি বেশ কয়েকটি হিন্দি ও বাংলা টিভি শো করেছিলেন। সম্প্রতি তিনি হান্ড্রেড ডেজের এবং অগ্নিসাক্ষীর দ্বিতীয় পর্বের কাজ করছিলেন। কিন্তু তার আগেই তাঁর অকস্মাৎ মৃত্যুতে সবকিছু থমকে গেল।
পার্থবাবু থাকতেন মুম্বইয়ের মাড আইল্যান্ড এলাকায়। হিন্দি ছবির জগতে বলিউডে আসার আগে তিনি কয়েকটি বাংলা ছবিও করেছেন। জ্যাকি শ্রফ, মাধুরী দীক্ষিত, মুনমুন সেন, জাভেদ জাফরির মতো খ্যাতনামা অভিনেতারা তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন। পার্থবাবু ১৫টির বেশি ছবি পরিচালনা ও চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন।