প্রলয়ের চলে যাওয়া শুধু এক পথচলা শেষ নয়, থমকে গেল এক পরিচিত কণ্ঠ, স্তব্ধ হয়ে গেল বহু স্মৃতি বোনা। পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো ও যথাযথ চিকিৎসা পেলে হয়তো এই অঘটন এড়ানো যেত। তাঁদের দাবি, চিকিৎসার গাফিলতিতেই প্রলয়কে হারাতে হয়।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 13 January 2026 13:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গানই ছিল তাঁর পরিচয়, মানুষের মাঝেই বুঁনতেন তাঁর স্বপ্ন। অথচ সেই মানুষটাই শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধ হারালেন, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন হাসপাতালের বিছানায়। রবিবার বাংলাদেশের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রয়াত হন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও আওয়ামী লীগ নেতা প্রলয় চাকী। শেষ দু’বছর ধরে পাবনা জেলা সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন।
প্রলয়ের চলে যাওয়া শুধু এক পথচলা শেষ নয়, থমকে গেল এক পরিচিত কণ্ঠ, স্তব্ধ হয়ে গেল বহু স্মৃতি বোনা। পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো ও যথাযথ চিকিৎসা পেলে হয়তো এই অঘটন এড়ানো যেত। তাঁদের দাবি, চিকিৎসার গাফিলতিতেই প্রলয়কে হারাতে হয়।
তবে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ মানতে নারাজ। পাবনা জেলা সংশোধনাগারের সুপার ওমর ফারুক জানিয়েছেন, প্রলয় দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক গুরুতর রোগে ভুগছিলেন। তাঁর কথায়, “ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগ—সব মিলিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছিল। রবিবার রাত ন’টার পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।”
সংশোধনাগার সূত্রে আরও খবর, কারাবন্দি অবস্থাতেই হঠাৎ করে প্রলয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে সংশোধনাগারের চিকিৎসকেরা তাঁকে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শুক্রবার গভীর রাতে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না।
গানের মঞ্চে যাঁর কণ্ঠে ভেসে উঠত মানুষের কথা, সেই প্রলয় চাকী রাজনীতির ময়দানেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন এবং দলের পাবনা জেলা শাখার সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতেন।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময় এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে নির্বাসনের পর দেশজুড়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযান শুরু হয়। সেই সময় দলের অন্যান্য সমর্থকদের সঙ্গে গ্রেফতার হন প্রলয়ও। ওই সময় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের হয়েছিল বলে জানা যায়।
আজ প্রলয় নেই। রয়ে গেল তাঁর গান, রয়ে গেল অজস্র প্রশ্ন। কারাগার থেকে হাসপাতাল—এই শেষ যাত্রার প্রতিটি মুহূর্ত জুড়ে কেবলই হাহাকার। একজন শিল্পীর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তাঁর পরিবার, অনুরাগী এবং সহকর্মীরা। প্রলয় চাকীর বিদায় যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল—গান থেমে গেলে নীরবতা কতটা গভীর হয়ে ওঠে।