তিনি জন্মদিনের উপহার হিসেবে পেয়েছেন স্ক্রিপ্ট। সেই গিফ্ট তাঁকে দিয়েছিলেন পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরি। হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়ে যখন জয়া আহসান সেই কথা জানালেন, স্মৃতিতে ডুব দিলেন পুরনো সেই দিনটিতে, বললেন, ‘একজন অভিনেত্রীর কাছে ‘ডিয়ার মা’ ছবির চরিত্র, জীবনের সেরা উপহার হয়েই থেকে যাবে,’ তখন চারপাশে শুধু করতালির শব্দ।

জয়া আহসান
শেষ আপডেট: 18 June 2025 13:07
তিনি জন্মদিনের উপহার হিসেবে পেয়েছেন স্ক্রিপ্ট। সেই গিফ্ট তাঁকে দিয়েছিলেন পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরি। হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়ে যখন জয়া আহসান সেই কথা জানালেন, স্ম্ৃতিতে ডুব দিলেন পুরনো সেই দিনটিতে, বললেন, ‘একজন অভিনেত্রীর কাছে ‘ডিয়ার মা’ ছবির চরিত্র, জীবনের সেরা উপহার হয়েই থেকে যাবে,’ তখন চারপাশে শুধু করতালির শব্দ।
‘ডিয়ার মা’ অনিরুদ্ধর ছবি। তবে সে নামে তাঁকে খুব কেউ ডাকেন না। আদরের নাম ‘টোনিদা’। ১০ বছর বাংলা ছবিতে ফিরলেন পরিচালক। শেষ ছবি ছিল ‘বুনো হাঁস’ (২০১৪)। ‘ডিয়ার মা’-তে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন জয়া।
১৭ তারিখ সন্ধ্যায় শহরের এক পাঁচতারা হোটেলে আলোঝলমল পরিবেশে জয়ার শাড়ির রঙ যেন মিশে গিয়েছিল চারপাশের সাজসজ্জার সঙ্গে। আকাশনীল ও পিচ রঙের সিল্কের শাড়িতে তিনি যেন আরও বেশি মোহময়ী। ক্যামেরার একের পর এক ফ্ল্যাশ, সাংবাদিকদের প্রশ্ন আর অনুষ্ঠানের ব্যস্ততার মাঝেও একটু সময় করে 'দ্য ওয়াল'-এর ক্যামেরার সামনে ধরা দিলেন জয়া।
‘ডিয়ার মা’—এই দুটি শব্দ একসঙ্গে সাধারণত দেখা যায় কোনও চিঠিতে। এমন এক চিঠি, যেখানে মাকে বলা থাকে মনের গভীর কথা—তা হতে পারে যন্ত্রণার, না বলা কষ্টের কিংবা নিখাদ আনন্দেরও। কখনও কি এমন একটি চিঠি লিখেছেন?
জয়া একগাল হেসে বললেন, ‘আমি লিখেছি, প্রচুর লিখেছি। তখন হস্টেলে থাকতাম, তখন অনেক চিঠি লিখতাম। কিছু বানিয়ে বানিয়ে, মিথ্যে কথা, আমাকে নিয়ে যাও, এখানে খাবারদাবার ভাল নয়, খেতে কষ্ট হচ্ছে, আমি ঘুমোতে পারছি না, অন্য মেয়েরা আমাকে বুলি করছে, আমি ভূতের ভয় পাচ্ছি, নানা রকম। মাকে চিঠি লিখতাম, আর মাও কেন জানি ওই সব চিঠির জন্য বসে অপেক্ষাও করতো। মাসে একটা বা দুটো চিঠি পাঠাতাম। আমার মনে আছে, ছোট-ছোট হাতে, আকাবাঁকা অক্ষরে, কালির কলম দিয়ে, সেগুলো লিখতাম, আর মা পড়ে সেগুলো কষ্ট পেত।’
বলা হয়ে থাকে, মা হওয়া সহজ কথা নয়। এর জন্য প্রয়োজন অসীম সহ্যশক্তি ও আরও অনেক গুণ। তবে জয়ার ছবিতে মায়ের চরিত্রে ঢুকে পড়তে ঠিক কতটা সময় লেগেছিল? জয়া বললেন, ‘আসলে মাতৃত্ব সকলের মধ্যে থাকে। সেটাকে উস্কে দিলাম। টোনিদার চিত্রনাট্য অনেকটা সাহায্য করল, ওয়ার্কশপ, টিম বন্ডিং, বিশ্বাস করতে শুরু করলাম, এটাই আমার পরিবার, এভাবেই শুরুটা ছিল...’