মঙ্গলবার সকাল আটটা নাগাদ তাঁর শেষকৃত্যের কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে। হাজার হাজার ভক্ত সেখানে ভিড় জমাবেন বলে প্রশাসনের তরফে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

জুবিন গর্গ
শেষ আপডেট: 22 September 2025 18:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমে (Assam) জুবিন গর্গকে (Zubeen Garg) শেষ বিদায় জানানোর প্রস্তুতি চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। সোনাপুরের (Sonapur) কামারকুচির হাটিমুরায় প্রায় ১০ বিঘা জমিতে তাঁর সমাধিস্থল (Samadhisthal) গড়ে তোলা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশে প্রশাসন দিনরাত সমান তালে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রী, আধিকারিক ও স্থানীয় সংগঠনের নেতারা প্রত্যেকেই তদারকিতে রয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল আটটা নাগাদ তাঁর শেষকৃত্যের কাজ (Final Rites) শুরু হবে বলে জানা গেছে। হাজার হাজার ভক্ত সেখানে ভিড় জমাবেন বলে প্রশাসনের তরফে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সোমবার সকালেও নিজে গিয়ে পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘‘সমাধিস্থলের নকশা চূড়ান্ত হচ্ছে। আজকের মধ্যেই তা হাতে পাব। সবাই নিরলসভাবে কাজ করছেন যাতে রাতের মধ্যেই প্রস্তুতি শেষ হয়।’’
শুধু সরকার নয়, রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সব দলের নেতারা একসঙ্গে এই আয়োজনের অংশ হতে চলেছেন। রবিবার রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে অসম জাতীয় পরিষদের সভাপতি লুরিনজ্যোতি গগৈ বলেন, ‘‘আমাদের সমাজের এক মহানায়ক চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এখানে। তাঁর শেষ আশ্রয় যেন মর্যাদাপূর্ণ হয়, সেটাই আমাদের দায়িত্ব। এটি শুধু একটি সমাধিস্থল নয়, গোটা রাজ্যের এক সাংস্কৃতিক সম্পদ হবে।’’
অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (AASU) সভাপতি উৎপল শর্মা সোমবার সকালের পরিদর্শনে বলেন, ‘‘শুরু থেকেই আমরা চাইছিলাম যাতে শেষকৃত্য যথাযোগ্য মর্যাদায় হয়। পরিবার গৌহাটি সংলগ্ন জায়গায় সমাধিস্থল চেয়েছেন, সেই কারণেই সোনাপুরে জমি দেওয়া হয়েছে। আমাদের একমাত্র অনুরোধ - এমনভাবে নির্মাণ হোক যাতে মানুষ আসতে পারেন, জুবিনকে যেন তাঁরা অনুভব করতে পারেন।’’
এদিকে, দিমোরিয়া কলেজ জুবিন গর্গের অন্ত্যেষ্টির জন্য ২৫ বছরের একটি চন্দন গাছ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে এও জানা গেছে, জুবিনের কন্ঠস্বর যাতে কেউ অপব্যবহার না করতে পারেন, সে কারণে তাঁর আওয়াজ ডিজিটালি সংরক্ষণ করা হবে।
গায়কের দীর্ঘদিনের সহকর্মী, সুরকার-গায়ক মানস রবিন জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তি বিশেষত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) যুগে ইন্টারনেট থেকে নেওয়া জুবিনের কণ্ঠস্বর অন্যরা ব্যবহার করে নিজেদের নামে চালিয়ে দিতে পারেন (AI Temparing)। তাই তাঁর কণ্ঠকে একটি বিশেষ 'ডিজিটাল স্বাক্ষর' (Digital Signature) দেওয়া হবে, যাতে কোনও রেকর্ড বাজলেই সহজে তার উৎস শনাক্ত করা যায়।
মানস রবিনের কথায়, ‘‘যেমন কারও মুখ অন্য কারও শরীরে বসানো হলে তা শনাক্ত করা যায়, তেমনই ডিজিটাল ভয়েস সিগনেচারের মাধ্যমে কণ্ঠস্বরের আসল উৎসও চিহ্নিত করা সম্ভব।’’ তিনি আরও জানান, জুবিনের বহু গান ইতিমধ্যেই সংরক্ষিত হয়েছে। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই এক বিশেষ আর্কাইভের উদ্বোধন করেছিলেন শিল্পী নিজে। তাঁর ইউটিউব চ্যানেল এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও চলছে এই কাজ। এবার কণ্ঠস্বরের ডিজিটাল সুরক্ষাই মূল লক্ষ্য।