হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর তাঁকে আজই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়ি ফিরেছেন সুরকার।

শেষ আপডেট: 26 November 2025 18:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁদের বিয়ে পিছিয়ে গিয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য (Smriti Mandhana wedding postponed)। তার মাঝেই উঠে এসেছে নানা বিতর্ক, হবু স্ত্রীকে প্রতারণার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। তিন দিন মুম্বইয়ের হাসপাতালে কাটানোর পর অবশেষে ছাড়া পেলেন সুরকার পলাশ মুচ্ছল (Palaash Muchhal discharged)।
তীব্র বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট (chest pain breathing issues) শুরু হওয়ায় পলাশকে গোরেগাঁওয়ের SRV হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর তাঁকে আজই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়ি ফিরেছেন সুরকার।
পরিস্থিতি এখনও বেশ সংবেদনশীল। কিছুদিন আগেই অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়েছে স্মৃতি মান্ধানা ও পলাশ মুচ্ছলের বিয়ে। ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের তারকা স্মৃতির বাবার হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় দুই পরিবার বিয়ের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানাচ্ছে, এই সময় পলাশ প্রবল মানসিক চাপে ছিলেন। স্মৃতির বাবার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় তিনিই নাকি প্রথম অনুরোধ করেন, বিয়ে যেন তাঁর পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগে পর্যন্ত না করা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, মানসিক চাপই পালাশের শারীরিক অসুস্থতার অন্যতম কারণ। তাই তাঁর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ায় দুই পরিবারের মধ্যেও খানিক স্বস্তি ফিরেছে। যদিও কবে বিয়ের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি দুই পরিবার।
পলাশের মা জানিয়েছেন, “স্মৃতির বাবার সঙ্গে পলাশের সম্পর্ক খুব গভীর। ও একবারও রাজি হয়নি বিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে। আগে মানুষটা পুরোপুরি সুস্থ হোক, এটাই ওর ইচ্ছে।”
সম্পর্কে জটিলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে অন্য এক ঘটনা। স্মৃতি ইনস্টাগ্রাম থেকে বিয়েসংক্রান্ত সব পোস্ট মুছে ফেলেছেন, আর পলাশের দিদি পলকের অনুরোধ, “এই সময়ে পরিবারকে কিছুটা প্রাইভেসি দিন।”
ঠিক এমনই এক মুহূর্তে, একের পর এক ভাইরাল হতে লাগল কিছু স্ক্রিনশট - যেখানে দাবি, পলাশ নাকি অন্য এক মহিলার সঙ্গে গোপনে কথোপকথন চালাচ্ছিলেন। ইনস্টাগ্রামে “মেরি ড’কোস্টা” নামে এক ব্যবহারকারী সেই কথোপকথনের ছবি প্রকাশ করেন; পরে অবশ্য তাঁর অ্যাকাউন্ট দ্রুত প্রাইভেট হয়ে যায়।
সেই চ্যাটে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মে মাসে পলাশ ওই মহিলাকে সাঁতার কাটতে যাওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন। আর যখন মেরি প্রশ্ন করেন, “তুমি তো একটি সম্পর্কে আছ?”, পলাশের উত্তর আরও অনিশ্চয়তার—“কে বলেছে, সম্পর্কে থাকলে সাঁতার কাটা যায় না?” কথোপকথনে আরও উঠে আসে স্মৃতি ও পলাশের লং-ডিস্ট্যান্স সম্পর্কের প্রসঙ্গ, যেখানে তাঁকে বলতে দেখা যায়—দূরত্বে নাকি সম্পর্কে আগের টান কমে গেছে।
এমনও দেখা যায়, মেরির সঙ্গে দেখা করতে পলাশ খুবই আগ্রহ দেখাচ্ছেন। মেরি বলছেন, আশপাশের কেউ চিনে ফেলতে পারে—এই ভয়। আর তার উত্তরে পলাশ তাঁকেই আশ্বাস দিয়ে বলছেন, সমস্যা হবে না।
স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ায় ভাসতে থাকে সোশ্যাল মিডিয়া। কেউ লিখছেন—“পড়তে পড়তে মনের ভিতর কেমন একটা হল। একজন মানুষ কীভাবে এত ছলনা করতে পারে? স্মৃতির নাম, জন্মতারিখ, জার্সি নম্বর—সব ট্যাটু করা, আর পেছনে অন্য কাউকে দেখা করার প্ল্যান!”
আবার কেউ সন্দেহ করছেন এসবের সত্যতা নিয়েই—“এই যুগে ভুয়া স্ক্রিনশট বানানো কঠিন কিছু নয়।” তবে বেশিরভাগ মন্তব্যেই ছিল একটাই সুর—সম্ভবত স্মৃতি বড় বিপর্যয় থেকে বেঁচে গেছেন। পাশাপাশি তাঁর বাবার দ্রুত সুস্থতা কামনাও করেছেন বহু মানুষ।
এখন আপাতত চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে বিশ্রামে থাকবেন পলাশ। আর দুই পরিবারই নজর রাখছে স্মৃতির বাবার সুস্থতার দিকে। নতুন তারিখ? আপাতত সময়ই বলবে।