মুক্তির পরই বিতর্কে শ্রীরাম রাঘবনের ‘ইক্কিস’। পাকিস্তানি সেনা আধিকারিকের মানবিক চরিত্রের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া পাকিস্তানবিরোধী ডিসক্লেমার ঘিরে সোশাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া।

‘ইক্কিস’
শেষ আপডেট: 6 January 2026 17:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পয়লা জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েই চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে শ্রীরাম রাঘবন (Sriram Raghavan film) পরিচালিত ছবি ‘ইক্কিস’ (Ikkis controversy)। একদিকে ধর্মেন্দ্রর শেষ সিনেমা, অন্যদিকে অমিতাভ বচ্চনের নাতি অগস্ত্য নন্দার ডেবিউ, এই দুই কারণেই ছবিটি আগেই নজর কেড়েছিল। তবে মুক্তির পর ছবির গল্প নয়, বরং একটি ‘পাকিস্তানবিরোধী ডিসক্লেমার’ ঘিরেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
কী নিয়ে এই বিতর্ক?
‘ইক্কিস’ ছবিতে পাকিস্তানি সেনা আধিকারিক ব্রিগেডিয়ার কেএম নিসারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়দীপ আহলাত। ছবির একটি দৃশ্যে তাঁর মানবিক আচরণকে তুলে ধরতে গিয়ে নির্মাতাদের তরফে একটি স্পষ্ট বার্তা বা ডিসক্লেমার দেখানো হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, “পাক ব্রিগেডিয়ার কেএম নিসারের মানবিক আচরণ একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। অন্যথায় আমাদের প্রতিবেশী দেশটি মোটেও বিশ্বাসের যোগ্য নয়। আমাদের জওয়ান এবং নিরীহ নাগরিকদের সঙ্গে বরাবরই অত্যন্ত নিষ্ঠুর, অমানবিক আচরণ করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। তারা একাধিকবার জেনেভা চুক্তিও লঙ্ঘন করেছে। পাকিস্তানের মদতে চালানো যাবতীয় সন্ত্রাসলীলার কথা বিবেচনা করে, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমাদের সবসময়ে সতর্ক এবং প্রস্তুত থাকতে হবে।”
A disclaimer is played at the end of Ikkis. It says, Nisar, the character played by Jaideep Ahlawat, "is an exception; Pakistanis are not to be trusted".
byu/Embarrassed_Freak inBollyBlindsNGossip
এই সতর্কীকরণই এখন আগুনে ঘি ঢেলেছে। সোশাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একদল দর্শক নির্মাতাদের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের মতে, ইতিহাস ও বাস্তব প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে। আবার অন্য একটি অংশের অভিযোগ, গোটা পাকিস্তানের নাগরিকদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করাটা আপত্তিকর।
ছবির চিত্রনাট্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই গল্পে শহিদ সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট অরুণ ক্ষেত্রপালের বাবা মদনলালকে লাহোরে বিশেষভাবে অভ্যর্থনা জানান পাক ব্রিগেডিয়ার কেএম নিসার। শুধু তাই নয়, মদনলালকে তাঁর পুরনো ভিটে সারগোদা গ্রামেও নিয়ে যান তিনি। এমনকি যে জায়গায় যুদ্ধ চলাকালীন বীরের মতো লড়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন অরুণ, সেই স্থানেও পুত্রহারা বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে যান নিসার। এই মানবিক আচরণকে ‘ব্যতিক্রমী’ বলেই ছবিতে আলাদা করে তুলে ধরতে চেয়েছেন নির্মাতারা এবং সেখান থেকেই এসেছে ওই বিতর্কিত ডিসক্লেমার।
তবে এই প্রথম নয়। সম্প্রতি পাকিস্তানবিরোধী প্রেক্ষাপটের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নিষিদ্ধ হয়েছিল আরেকটি ছবি, ‘ধুরন্ধর’। সেই অভিজ্ঞতার পর প্রশ্ন উঠছে, ‘ইক্কিস’-এর ক্ষেত্রেও কি তেমন কিছু ঘটতে চলেছে? আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে সিনেমা মহল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘ইক্কিস’-এ শহিদ সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পিভিসি অরুণ ক্ষেত্রপালের বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ধর্মেন্দ্র। অরুণ ক্ষেত্রপালের চরিত্রে দেখা যাবে অগস্ত্য নন্দাকে। আর পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার কেএম নিসারের চরিত্রে রয়েছেন জয়দীপ আহলাত। যুদ্ধ, মানবিকতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার টানাপোড়েন, সব মিলিয়ে ছবিটি যে মুক্তির পরেও দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে, তা বলাই যায়।