হেভি মেটালের ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী শূন্যতা রেখে চলে গেলেন ‘প্রিন্স অফ ডার্কনেস’। ৭৬ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন ব্ল্যাক সাবাথ-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা, কিংবদন্তি ব্রিটিশ গায়ক ওজি ওসবোর্ন।

ওজি ওসবোর্ন
শেষ আপডেট: 23 July 2025 16:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হেভি মেটালের ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী শূন্যতা রেখে চলে গেলেন ‘প্রিন্স অফ ডার্কনেস’। ৭৬ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন ব্ল্যাক সাবাথ-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা, কিংবদন্তি ব্রিটিশ গায়ক ওজি ওসবোর্ন। পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২২ জুলাই, ২০২৫— প্রিয়জনদের পাশে নিয়েই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরেই শরীরের নানা জটিলতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই অদম্য শিল্পী।
১৯৪৮ সালের ডিসেম্বরে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের অ্যাস্টনে জন্ম ওজির। ADHD এবং ডিসলেক্সিয়ার মতো শৈশবের মানসিক ও শিক্ষাগত চ্যালেঞ্জের মধ্যেই সংগীত হয়ে উঠেছিল তাঁর বেঁচে থাকার হাতিয়ার। সেই হাত ধরেই ১৯৬৮ সালে গড়ে ওঠে ‘ব্ল্যাক সাবাথ’— টনি আইওমি, গিজার বাটলার ও বিল ওয়ার্ড-এর সঙ্গে, যা পরে হেভি মেটালের ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়।
তবে সাফল্যের পথ সহজ ছিল না। সত্তরের দশকে অতিরিক্ত নেশাজাত দ্রব্যের ব্যবহার ও অ্যালকোহল তাঁকে ব্যান্ড থেকে সরিয়ে দেয়। কিন্তু সেখান থেকেই ফিরে আসেন আরও দৃঢ়ভাবে— স্ত্রী শ্যারন ওসবোর্নের সহায়তায় শুরু করেন একক সংগীতযাত্রা। ১৩টি একক অ্যালবাম, গ্র্যামি জয়, বিশ্বজুড়ে মিলিয়ন মিলিয়ন শ্রোতা— ওজি হয়ে ওঠেন এক কিংবদন্তি।
২০০৩ সালে ATV দুর্ঘটনায় গুরুতর চোট পান, পরে ধরা পড়ে পার্কিনসনস। তবুও থামেননি। “আমি শুধু স্মরণীয় হতে চাই,”— ২০২০ সালে এই কথাই বলেছিলেন এক সাক্ষাৎকারে। ২০২২ সালে মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচারের পর মঞ্চে ফিরে আসেন NFL-এ পারফর্ম করে। কিন্তু ২০২৩ সালে, শারীরিক কারণে চিরতরে বিদায় জানান স্টেজ থেকে।
অবসরের পরেও তিনি থেমে থাকেননি। ২০২৫ সালের ৫ জুলাই, নিজের শহর বার্মিংহামে আয়োজিত এক বিশাল চ্যারিটি কনসার্টে শেষবারের মতো ‘ব্ল্যাক সাবাথ’-এর সঙ্গে গাইলেন। কনসার্টে সংগৃহীত হয় ১৯০ মিলিয়ন ডলার, যা ব্যবহৃত হবে পার্কিনসনের গবেষণা এবং শিশু হাসপাতালের উন্নয়নে।
শেষকৃত্য ঘিরে তাঁর স্ত্রী শ্যারন ও সন্তানরা অনুরোধ জানিয়েছেন, তাঁদের গোপনীয়তা বজায় রাখা হোক। সাংস্কৃতিক চেতনার মুখ, হেভি মেটালের বিদ্রোহী চিত্রপট, এবং নিজের শরীরের সীমানা পেরিয়ে যাওয়ার এক প্রতীক হয়ে থেকে গেলেন ওজি।