দিল্লি থেকে এসেছেন স্পেশাল ফোর্স অফিসার পঙ্কজ সিনহা। তাঁর সুঠাম চেহারা। ইয়া চওড়া গোঁফ। গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী মুনীর আলমকে ধরতে মিশনে নেমেছেন। ডান হাতে পিস্তল ধরে পঙ্কজ যখন নিশানা করেন, সে দৃশ্য দেখার মতো। হাততালি পড়ে প্রেক্ষাগৃহে।

আবির চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 16 September 2025 20:12
দিল্লি থেকে এসেছেন স্পেশাল ফোর্স অফিসার পঙ্কজ সিনহা। তাঁর সুঠাম চেহারা। ইয়া চওড়া গোঁফ। গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী মুনীর আলমকে ধরতে মিশনে নেমেছেন। ডান হাতে পিস্তল ধরে পঙ্কজ যখন নিশানা করেন, সে দৃশ্য দেখার মতো। হাততালি পড়ে প্রেক্ষাগৃহে।
কাট টু। শাল গাছের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে তীব্র গতিতে ছুটছেন সাব ইনস্পেক্টর সুমন্ত ঘোষাল। বাঁ হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরা পিস্তল। রেঞ্জের মধ্যে পেলেই বিক্রমের পায়ে গুলি করে দেবেন...। সে ছবির মধ্যেও নাটকীয়তা ও থ্রিল ষোলো আনা।
দুজনেই পুলিশ। ফারাক শুধু পদ মর্যাদার। আর ফারাক বলতে সুশান্ত-র বাঁ হাত চলে, আর পঙ্কজের ডান হাত। অথচ বাস্তবে তাঁরা তো একজনই। আবীর চট্টোপাধ্যায়। যিনি বহুরূপীতে সাব ইনস্পেক্টর সুশান্ত, তিনিই রক্তবীজে পুলিশ সুপার পঙ্কজ সিনহা। দুটি চরিত্রকে আলাদা করে রাখা কঠিন নয়? নাকি তিনি সত্যিই সব্যসাচী!
অভিধান মতে, যাঁর দু’হাত সমান চলে তিনিই সব্যসাচী। ভিন্ন অর্থে এই পুজোতেও ‘সব্যসাচী’ যেন সেই আবীরই। সম্ভবত বহুবছর বাদে পুজোর বক্স অফিসে কোনও নায়কের একই সঙ্গে দুটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে। দু’হাতে দুটি ছবি। যত কাণ্ড কলকাতাতেই এবং রক্তবীজ ২। একটিতে গোয়েন্দা, অন্যটিতে পুলিশ।
এ হেন নায়কের সঙ্গে মঙ্গলবারই আড্ডায় বসেছিল দ্য ওয়াল। আবীরকে প্রশ্ন করা হয়, ‘বহুরূপী’-তেও তিনি পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তা হলে ‘রক্তবীজ-২’র আইজি পঙ্কজ সিনহা আর ‘বহুরূপী’র এসআই সুমন্ত ঘোষালের মধ্যে কী কোনও পার্থক্য তিনি অভিনয়ে আনতে পেরেছেন? দুটি চরিত্র একই পেশার হলেও, মানসিকতা বা কাজের পদ্ধতিতে আলাদা কি কিছু ছিল?
আবীর উত্তর দেন শান্ত গলায়—“অভিনয়ের পর অভিনেতা আলাদা করে বলতে পারে না, সে কী কী করেছে, বা কী পার্থক্য তিনি আনতে পেরেছেন। তার কাজ শুধুমাত্র অভিনয়। যদি দর্শকের চোখে ভিন্নতা ধরা পড়ে, তাহলেই কাজটা সার্থক। না হলে সেই অভিনয় ব্যর্থ। দর্শক যদি বলেন তাঁরা আলাদা কিছু পেলেন, তাহলে বোঝা যাবে সেটা কোথাও গিয়ে ‘ওয়ার্ক’ করেছে। তবে একটা বাহ্যিক পার্থক্য ছিল— সুমন্ত বাঁ হাতে বন্দুক ধরত, আর পঙ্কজ ধরে ডান হাতে।”
আবীর কি নিজেকে ‘সব্যসাচী’ প্রমাণ করতে চাইলেন— কিন্তু তাঁর কাজই যেন সেটার সাক্ষী।
প্রসঙ্গত, ২০২৫-এর দুর্গাপুজোয় আবীর চট্টোপাধ্যায় অভিনীত দুটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে। অনীক দত্তর ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ ছবিতে তিনি গোয়েন্দা তোপসে, আবার ‘রক্তবীজ-২’-তে পরিচিত মুখ আইজি পঙ্কজ সিনহা।
দুই হাতে বন্দুক ধরার মতোই তিনি সামলেছেন দুটি চরিত্র, দুটি সিনেমা, তবে ছবি প্রমোশনে খানিক মোড় ঘুরে যায় বেঘোরে। কারণ ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ প্রমোশনে আবীর ছিলেন অনুপস্থিত।
ফলত ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ প্রমোশন নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। প্রযোজক ফিরদৌসুল হাসানের প্রেস বিবৃতি থেকে অনীক দত্তর মন্তব্য— “আবীর ফেঁসে গেছে”— সবকিছু নিয়েই জলঘোলা হয়েছে। তবু আবীর চট্টোপাধ্যায় শান্ত মাথায় গোটাটা সামলে দিয়েছেন, প্রকৃত এক ‘সব্যসাচী’র মতো।
ঢাকের বাদ্যি বাজতে আর দেরি নেই। আর তার সঙ্গে দর্শকের অপেক্ষায় শুধু চার-চারটি নতুন ছবির। নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘রক্তবীজ ২’, অনীক দত্তের ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’, শুভ্রজিৎ মিত্রর ‘দেবী চৌধুরাণী’ এবং ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রঘু ডাকাত’। চারটি ছবির মধ্যে দুটিতেই আবীর ‘হিরো’ তাই এ যেন নিজের সঙ্গেই আবিরের এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা হতে চলেছে।
কে জিতবে? তোপসে, না আইজি পঙ্কজ? পুজোর অঘোষিত চ্যাম্পিয়ন কি এবার নতুন রেকর্ড গড়বেন? নাকি হঠাৎই পড়বেন কোনও ‘ডাকাত’-এর পাল্লায়?