ভোর চারটে। আকাশ তখনও আধো অন্ধকার। সবুজ রঙা বালুচরী শাড়িতে শুভশ্রী, যেন ঠিক তাঁরই চরিত্র—নটী বিনোদিনীর মতোই রাজসিক, ভাবগম্ভীর।

শুভশ্রী
শেষ আপডেট: 16 July 2025 20:03
ভোর চারটে। আকাশ তখনও আধো অন্ধকার। সবুজ রঙা বালুচরী শাড়িতে শুভশ্রী, যেন ঠিক তাঁরই চরিত্র—নটী বিনোদিনীর মতোই রাজসিক, ভাবগম্ভীর। গলায় ভারি গয়না, মুখে প্রশান্তির ছায়া। তিনি পা রাখলেন পুরীর জগন্নাথ ধামে। আজ ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবির শেষ দৃশ্যের শুটিং। নাট্যাচার্য গিরীশচন্দ্র ঘোষের সঙ্গে দেখা। একান্ত কথোপকথন, আবেগপ্রবণও বটে। এবং কাট...
তারপরই চোখ ছলছল শুভশ্রীর। এই দৃশ্য শুধু ক্যামেরার নয়, বাস্তবেও এক বিদায়ের পালা। তাঁকে ছাড়তে হবে এই রূপ, এই সাজ, এই সজ্জা। ঠিক যেমন যাত্রার শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বিনোদিনীর হৃদয়ের গভীর থেকে জন্ম নিচ্ছিল এক নিঃশব্দ কান্না।
আজ যেন ‘বিনোদিনী’র মতোই শুভশ্রী।
বুধবার সকালে পুরীর জগন্নাথ ধামে তখন ভিড় উপচে পড়ছে। দর্শনার্থীদের চোখে অবিশ্বাসের ছায়া—এত কাছে পর্দার তারকা! কেউ ডাকছেন নাম ধরে, কেউ বা হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন সম্মোহিত ভক্তিতে। তাঁর পাশে দেহরক্ষীরা, ভিড় সামলানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু শুভশ্রী শান্ত গলায় বললেন, “বাধা দিও না।” দৃশ্যটা যেন একদম বিনোদিনীর মতোই—নির্বিকার, অথচ অতল আবেগে ডুবে থাকার মতো।
![]() | ![]() |
শুভশ্রী ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছেন মন্দিরের দিকে। কেউ কেউ সেলফির আবেদন জানাচ্ছেন, কিন্তু তিনি মাথা নেড়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন, “ধর্মস্থানে নয়।” অভিনেত্রীর মধ্যে যে শ্রদ্ধা আর সংযম থাকতে পারে, তা যেন বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন তিনি।
কিন্তু ঠিক তখনই ঘটে যায় এক অনভিপ্রেত ঘটনা। পাশের এক মন্দিরে যাওয়ার সময় এক দর্শনার্থী তাঁর গায়ে হাত দিতে যান। সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদ করেন শুভশ্রী। তাঁর দেহরক্ষীরা তাঁকে ঘিরে ফেলেন, এবং ওই ব্যক্তিকে সরিয়ে নিয়ে যান। স্বাভাবিকভাবেই, এমন ঘটনায় খানিকটা মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন শুভশ্রী।
![]() | ![]() | ![]() |
তবে, এই একমাত্র ছিটেফোঁটা ছায়া বাদ দিলে, ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’র শুটিং নির্বিঘ্নে সম্পূর্ণ হয়েছে। আর এই শেষ দিনে, আবেগে ডুবতে ডুবতে, ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি তুলে বলে উঠলেন শুভশ্রী, “আমি গত ১২ বছর ধরে জগন্নাথ ধাম দর্শন করে চলেছি। যতদিন বাঁচব, ততদিন আসব।”
কলকাতায় ফেরার আগে, বিদায় জানাতে গিয়েও যেন কিছু রেখে যেতে চাইছিলেন তিনি। বিনোদিনীর সাজে জগন্নাথ ধামের সেই শেষ দৃশ্য যেন বাস্তব ও সিনেমার মাঝে এক সেতু—এক জীবন্ত ছবি, যা থেকে যাবে দর্শকের মনে দীর্ঘদিন। জগন্নাথের মন্দির চত্বরে ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে ছিল আবেগ, শান্তি, শ্রদ্ধা আর এক অভিনেত্রীর নিঃশব্দ সংলাপ। আজ শুভশ্রীর বিদায়, তবে ‘বিনোদিনী’ রয়ে গেলেন—জগন্নাথ ধামে।