সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম উচ্চারণ করলেই অনিবার্যভাবে ফিরে আসে সত্যজিৎ রায়ের কথা। এই দুই সৃষ্টিশীল মন একসঙ্গে বাংলা ছবিকে উপহার দিয়েছিল এমন এক স্বর্ণযুগ, যা আজও অক্ষয়।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 19 January 2026 13:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ তিনি নেই, আছে নীরব স্মরণ, গভীর কৃতজ্ঞতা আর একরাশ আবেগ। আজও বাঙালির মনে বারবার ফিরে আসে সেই পরিচিত মুখ, নানান চরিত্রের মোড়কে, শান্ত অথচ দৃপ্ত কণ্ঠ, মেধা আর মননের দীপ্তি, তিনি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।
তিনি শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না, ছিলেন বাঙালির চিন্তা, সংস্কৃতি আর আত্মপরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। নায়ক, চরিত্রাভিনেতা, কবি, নাট্যকার, সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সৌমিত্র হয়ে উঠেছিলেন বাংলার গৌরব। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও যেন কখনও ক্লান্ত হননি শিল্পীর মন। আজ তাঁর জন্মদিনে মনে হয়, এত কাজ, এত চরিত্র, তবু আরও কত কী বাকি থেকে গেল।
তাঁর অভিনীত চরিত্রেরা পর্দায় অমর, প্রতিটা চরিত্রই যেন একে অপরকে ছাপিয়ে যায়। তবে একটি চরিত্র হয়ে তিনি গোটা বাংলার বুকে রাজত্ব করেছেন, আর তা হল প্রদোষচন্দ্র মিত্র। সত্যজিৎ রায়ের ফ্রেমে তিনিই বাংলার প্রথম ফেলুদা।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম উচ্চারণ করলেই অনিবার্যভাবে ফিরে আসে সত্যজিৎ রায়ের কথা। এই দুই সৃষ্টিশীল মন একসঙ্গে বাংলা ছবিকে উপহার দিয়েছিল এমন এক স্বর্ণযুগ, যা আজও অক্ষয়। তাঁদের সহযোগিতায় জন্ম নিয়েছিল একের পর এক কালজয়ী চরিত্র—যেগুলি কেবল পর্দায় নয়, বাঙালির হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে রয়েছে।
আর ফেলুদা—এই একটি নামেই যেন বাঙালির আবেগ বাঁধা। পর্দায় গোয়েন্দা প্রদোষচন্দ্র মিত্রের প্রথম মুখ ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। চুরুটের ধোঁয়া, কাঁধে চাদর, গভীর চোখের দৃষ্টি—এই সব মিলিয়ে তিনি শুধু একটি চরিত্র অভিনয় করেননি, তিনি একটি প্রজন্মের কল্পনা গড়ে দিয়েছিলেন। আজও ফেলুদা মানেই সৌমিত্র, এই সমীকরণ বদলায়নি, বদলাবে না।
সত্যজিৎ রায় যখন ‘সোনার কেল্লা’ চলচ্চিত্রায়ণের সময় ফেলুদার ভূমিকায় তাঁকে বেছে নেন, তখন সেই উত্তেজনা আজও গল্প হয়ে ফিরে আসে। পরবর্তী সময়ে বইয়ের পাতায় ফেলুদার যে অবয়ব আঁকা হয়েছে, সেখানেও সৌমিত্রই হয়ে উঠেছেন মুখ—অক্ষরে অক্ষরে। তাঁকে সামনে বসিয়েই সত্যজিৎ রায় সে স্কেচ তৈরি করেছিলেন।
তবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শিল্পসত্তা ফেলুদাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রেমিক নায়ক থেকে আত্মসংঘাতে জর্জরিত মানুষ, ক্ষমতালোভী চরিত্র থেকে নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ, সব রূপেই তিনি ছিলেন বিশ্বাসযোগ্য, গভীর, মানবিক। তাঁর অভিনয়ে ছিল না বাড়াবাড়ি, ছিল না কৃত্রিমতা—ছিল নিঃশব্দ এক তীব্রতা, যা দর্শকের মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়।