পার্ক স্ট্রিটের গোমাংস বিতর্কে চার দিনের হেফাজতের পর অবশেষে জামিন পেলেন অলি পাবের বেয়ারা।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 3 February 2026 18:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরজুড়ে প্রতিবাদের আবহে গ্রেফতারির চার দিন পর অবশেষে জামিন পেলেন পার্ক স্ট্রিটের একটি পানশালার বেয়ারা (Oli Pub Waiter)। শুক্রবার রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর পার্ক স্ট্রিট থানায় গোমাংস পরিবেশনের অভিযোগে বেয়ারার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন সায়ক চক্রবর্তী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে শেখ নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে তোলা হলেও সেদিন জামিন মেলেনি তাঁর। বরং তিন দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয় তাঁকে।
বেয়ারার গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই শহরজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ ওঠে। ‘শ্রমজীবী’ এক বেয়ারাকে গ্রেফতারের ঘটনায় সরব হন কলকাতার এক বড় অংশ। এমনকি আইনজীবীদের একাংশ প্রকাশ্যে তাঁর হয়ে আইনি লড়াইয়ের আগ্রহও জানান। টানা চার দিন হেফাজতে থাকার পর অবশেষে অলি পাবের ওই বেয়ারা জামিন পেলেন।
জানা গিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় বেয়ারার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছিল। এই ধারায় কোনও শ্রেণির ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃত আঘাত করার অভিযোগে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে গত রবিবার সোশাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁ ‘অনিচ্ছাকৃত ভুলের’ জন্য ক্ষমা চাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেয়ারার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করেন সায়ক চক্রবর্তী।
তবে বেয়ারার জামিন মিললেও বিতর্ক এখানেই শেষ হয়নি। খবর অনুযায়ী, সাম্প্রদায়িক হিংসায় উসকানির অভিযোগে অভিনেতা-ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে যে এফআইআর দায়ের হয়েছিল, তা এখনও বহাল রয়েছে। শনিবার রাতে নাট্যব্যক্তিত্বের তরফে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ওই অভিযোগ দায়ের করা হয়।
গত কয়েক দিনে গোমাংস বিতর্ককে ঘিরে সোশাল মিডিয়ায় তীব্র ঝড় বয়ে গিয়েছে। বেয়ারার ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগে সায়ক চক্রবর্তীও সমালোচনার মুখে পড়েন। এই ইস্যুতে অনেকেই তাঁকে ‘বিজেপির পোস্টার বয়’ বলেও আখ্যা দেন।
বিতর্কে ইতি টানতে পরে একটি দীর্ঘ বিবৃতি জারি করেন সায়ক চক্রবর্তী। সেখানে তিনি জানান, “অলি পাব ক্ষমা চেয়েছে। তাই দয়া করে আর অন্য গল্প বানাবেন না। স্ক্রিপ্ট বা ওই জাতীয় কিছুর থিওরি আমাকে অবাক করছে। রাগের মাথায় থানায় গেছিলাম, ঠিক। এই ভুলে অলি পাবের গাছাড়া ভাবে আমার মাথার ঠিক ছিল না। আমি কোনওদিনও গোমাংস মুখে নিইনি। এবার থেকে দেখেশুনে বুঝে চলব। আমি জনগণের উপর নির্ভরশীল, তাই জনগণ যা বলবেন সেটাই ঠিক, হয়ত।”
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট বেয়ারা ও অলি পাবের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ তিনি প্রত্যাহার করছেন। একই সঙ্গে নিজের প্রতিক্রিয়াকেও ভুল বলে স্বীকার করে ক্ষমা চান অভিনেতা-ইনফ্লুয়েন্সার। সায়ক বলেন, ভবিষ্যতে ভ্লগ বা ইনস্টাগ্রাম কনটেন্ট বানানোর ক্ষেত্রে তিনি আর এই ধরনের বিতর্কে জড়াতে চান না। তাঁর কথায়, তাঁর কোনও হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের সমস্যা নেই, তিনি শুধু নিজের কিছু ব্যক্তিগত আচার মেনে চলতে চান। অনিচ্ছাকৃত ঘটনার জন্য তিনি আবারও দুঃখপ্রকাশ করেন।