প্রয়াত হলেও তার কণ্ঠ ও সাহসী কথাই চিরকাল অমর। জুবিন গর্গ বলেছিলেন—“আমি অসমেই রাজার মতো মরব, মুম্বইয়ে নয়।

জুবিন গর্গ
শেষ আপডেট: 20 September 2025 18:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জনপ্রিয় অসমীয়া গায়ক জুবিন গর্গের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো দেশ শোকে মূহ্যমান। ৫২ বছর বয়সী এই গায়ক সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রয়াত হন। তার গাওয়া ‘গ্যাংস্টার’ ছবির বিখ্যাত গান ‘ইয়া আলি’ তাকে সর্বভারতীয় খ্যাতি এনে দিলেও, তিনি বরাবরই মুম্বইয়ের চাকচিক্য এবং সেখানকার সংস্কৃতির সমালোচনা করে এসেছেন। সম্প্রতি একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে তার সেই অকপট মন্তব্য আবারও উঠে এসেছে, যা তার ব্যক্তিত্বের এক অন্য দিক তুলে ধরছে।
জানুয়ারি মাসে 'পপ পাভলোপেডিয়া'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জুবিন বলেছিলেন, তিনি কেন মুম্বাই ছেড়ে আসামে ফিরে এসেছিলেন। তিনি বলেন, “মুম্বাইয়ে অনেক ‘অ্যাটিটিউড’ আছে। আর সেটা থেকে মুক্তি পেতেই আমি তাদের বলেছিলাম এখানে আসতে। আমি এখানেই রাজার মতো মরব। আমার এখনও মুম্বাইয়ে একটি বাড়ি আছে, কিন্তু আমি সেখানকার বিশৃঙ্খলা পছন্দ করি না। সবকিছু বড্ড বেশি।”
জুবিন তার জীবনে এক কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি একসময় বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ অসম (ULFA)-এর বিরুদ্ধে একা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বলেন, “পুলিশ আমাকে চড় মেরেছিল... সেনাবাহিনীও... কিন্তু আমি তাদের বলেছিলাম, একদিন তোরা আমার সুরক্ষায় থাকবি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি খারাপ সময় দেখেছি—খুব খারাপ সময়। অনেক দিন ধরে আসামে ইউএলএফএ-র প্রভাব ছিল, আর আমিই একমাত্র ব্যক্তি যে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলাম। তারা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল। তারা আমাকে বলেছিল, ‘তুমি হিন্দি বা বাংলা গান গাইতে পারবে না।’ আমি উত্তরে বলেছিলাম, ‘তোমরা কে? আমি পরোয়া করি না।’ এরপর তারা আমাকে গুলি করার হুমকি দিয়েছিল। আমি বলেছিলাম, ‘ঠিক আছে, তুমি আমাকে গুলি করো, আমি তোমাকে গুলি করব।’ আমি এখনও এমনই আছি। আর এখন তারা আমাকে ভাইয়ের মতো দেখে। আমি এখানে একজন মাফিয়ার মতো থাকি।”
নিজের স্পষ্টভাষী এবং নির্ভীক স্বভাবের জন্য জুবিন যে সমস্যার মুখে পড়েছেন, তা স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমার কোনও অ্যাটিটিউড নেই—এটা আত্মসম্মান। আমি এখানে একজন রাজার মতো থাকি। আমি সবসময় বলি, একজন রাজার তার রাজ্য ছেড়ে যাওয়া উচিত নয়, কারণ রাজা যখন চলে যান, তখন তিনি আর রাজা থাকেন না।”
উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব ভারত উৎসবের সাংস্কৃতিক ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন জুবিন গর্গ। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় তিনি শ্বাসকষ্টের সম্মুখীন হন এবং দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তার মৃত্যু হয়।