১৫ বছর পর ফাঁস হল ‘ব্যান্ড বাজা বারাত’-এর অজানা কাস্টিং কাহিনি! রণবীরকে নিতে কেন দ্বিধায় ছিলেন সবাই? আর অনুষ্কা কেন প্রথম দিন থেকেই ‘শ্রুতি’? পড়ে নিন পুরো গল্প।

‘ব্যান্ড বাজা বারাত’
শেষ আপডেট: 10 December 2025 17:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ব্যান্ড বাজা বারাত’ (Band Baaja Baaraat) মুক্তির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে চলচ্চিত্রের পরিচালক মনিষ শর্মা (Maneesh Sharma) একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানালেন ছবির অজানা নানা দিক। তাঁর কথায়, রণবীর সিংকে (Ranveer Singh) মুখ্য চরিত্রে নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রথম দিকে প্রায় কেউই মানতে পারেননি। শুধু তিনিই এবং আদিত্য চোপড়া নিশ্চিত ছিলেন রণবীরকেই ‘বিট্টু’-র চরিত্রে নেওয়া হবে।
মনিষ তখন ‘রব নে বনা দি জোড়ি’–তে আদিত্য চোপড়ার সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। সেই শুটিং শেষ হতে না হতেই আদিত্য তাঁকে নিজের ডেবিউ ফিল্মের জন্য গল্প তৈরি করতে বলেন। মনিষ প্রথমে ‘ফ্যান’ বানাতে চাইলেও, আদিত্য বলেন সেটা ডেবিউর জন্য খুব বড় প্রোজেক্ট। ঠিক সেই সময় মুম্বই থেকে দিল্লি যাওয়ার বিমানে তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে একটি ম্যাগাজিন পড়ে তাঁর মাথায় আসে দুই তরুণ–তরুণীর গল্প। এভাবেই তৈরি হয় দুটি চরিত্র। বিট্টু ও শ্রুতি।
এরপর দিল্লিতে ‘দো দুনি চার’ শুট করছিলেন লেখক হাবিব ফয়সল। মনিষ তাঁকে গল্প শোনান। হাবিব বলেন, “টেম্পারামেন্ট মিলে যায়, কাজ করব।” দু’জনে মিলে গল্পের মূল সংঘাত তৈরি করেন ‘পেয়ার বনাম ব্যবসা’, এরপর থেকেই গল্প চলতে থাকে দারুণভাবে।
মনিষ দিল্লির ছেলে হওয়ার কারণে জায়গা, ভাষা, মানুষের চরিত্র সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল। কিন্তু ছবির সংলাপের কৃতিত্ব তিনি পুরোপুরি দেন হাবিব ফয়সলকে। সংলাপেই ফুটে ওঠে দিল্লির স্বাভাবিক টোন ও লোকাল স্বাদ।
কাস্টিং ডিরেক্টর শানু শর্মার পরামর্শে রণবীরের অডিশন দেখতে পান মনিষ। প্রথম থেকেই তিনি নিশ্চিত হন, এই ছেলেই বিট্টু। যদিও সেই সময়ে প্রায় কাউকেই রণবীরকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মনে হয়নি। শুধু মনিষ এবং আদিত্য চোপড়া প্রথম দিন থেকেই তাঁকে সমর্থন করেছিলেন।

অনুষ্কা শর্মা কেন ছিলেন প্রথম পছন্দ?
‘রব নে বনা দি জোড়ি’-র সময় থেকেই অনুষ্কার সঙ্গে মনিষের একটি ভাল সামঞ্জস্য তৈরি হয়েছিল। তাই গল্প লেখার সময় থেকেই তিনি জানতেন শ্রুতির চরিত্রে অনুষ্কাকেই চান।
যেভাবে তৈরি হয়েছিল সঙ্গীত
সালিম–সুলেমানের সঙ্গে আগেই কাজ করেছিলেন মনিষ। তাই এই ছবিতেও তাঁদেরই বেছে নেন। ‘বারি বরসি’ ছিল প্রথম তৈরি হওয়া গান। ‘অ্যাঁইভাই অ্যাঁইভাই’ আগেই তৈরি ছিল, পরে ছবিতে দারুণ মানিয়ে যায়। ‘দম দম’ মূলত ‘রব নে…’–র জন্য বানানো হয়েছিল, পরে এটি এখানে ব্যবহার হয়। ‘তারকিবেঁ’ ছিল ছবির এনার্জি তুলে ধরার জন্য, যা দিয়ে ওপেনিং মনটাজ তৈরি হয়।

ইয়াশ রাজ ফিল্মসের ধাঁচের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা
মনিষ শুরু থেকেই চেয়েছিলেন সাধারণ ‘গ্লসি’ ওয়াইআরএফ–স্টাইলের রোম–কমের বাইরে বেরিয়ে একদম বাস্তব, অথেনটিক টোনে গল্পটি বলতে। স্ক্রিপ্ট পড়ে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন এটি আর পাঁচটা ইয়াশ রাজ ওয়েডিং ফিল্ম হয়ে যাবে। কিন্তু মনিষ পরিষ্কার বলেন “আমি টিপিক্যাল ওয়াইআরএফ–স্টাইলে শুট করব না।” আদিত্যও সঙ্গে সঙ্গে সম্মতি দেন। এই বিশ্বাস ও ইনস্টিঙ্কটই শেষ পর্যন্ত ‘ব্যান্ড বাজা বারাত’-কে একটা আলাদা জায়গা করে দেয় বলিউডে।