৪ মার্চ হোলি। অথচ সেদিন বা তার আশেপাশে মুক্তির তালিকায় নেই কোনও উল্লেখযোগ্য বলিউড সিনেমা। প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের একাংশ ইতিমধ্যেই শো কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন কনটেন্ট না থাকায় দর্শক টানার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেই তাঁদের দাবি।

শেষ আপডেট: 3 March 2026 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রঙের উৎসব মানেই সিনেমা হলের সামনে ভিড়। বহু বছর ধরে হোলি বলিউডের জন্য লাভজনক মুক্তির সময় হিসেবে ধরা হয়েছে। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, ছুটির আমেজ—সব মিলিয়ে বড় বাজেটের ছবির জন্য আদর্শ স্লট। কিন্তু ২০২৬ সালে সেই চেনা ছবিটা বদলে গেল। প্রায় ১৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম হোলির সময় কোনও বড় হিন্দি ছবি মুক্তি পাচ্ছে না।
৪ মার্চ হোলি। অথচ সেদিন বা তার আশেপাশে মুক্তির তালিকায় নেই কোনও উল্লেখযোগ্য বলিউড সিনেমা। প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের একাংশ ইতিমধ্যেই শো কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন কনটেন্ট না থাকায় দর্শক টানার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেই তাঁদের দাবি।
গত দেড় দশকে হোলির সময় একাধিক সফল ছবি মুক্তি পেয়েছে। যেমন Chori Chori Chupke Chupke, Malamaal Weekly, Race, Badrinath Ki Dulhania, Kesari এবং Tu Jhoothi Main Makkaar—এই ছবিগুলো উৎসবের আবহে মুক্তি পেয়ে ভালো ব্যবসা করেছে। তাই এবারের ফাঁকা ক্যালেন্ডার স্বাভাবিকভাবেই ইন্ডাস্ট্রিতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত কেন? ইন্ডাস্ট্রির সূত্রে জানা যাচ্ছে, বড় প্রযোজকরা এবার ঈদের স্লটকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। মার্চের মাঝামাঝি মুক্তি পেতে চলেছে দুটি বড় ছবি—Dhurandhar 2 এবং Toxic। এই দুই ছবিকে ঘিরে বড়সড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ফলে নির্মাতারা হোলির বদলে ঈদের সময়টাই বেছে নিয়েছেন।
এর পাশাপাশি চলতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এবং রমজান মাসকেও কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্রিকেটের বড় ম্যাচ চললে দর্শকের একটা বড় অংশ টেলিভিশন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যস্ত থাকে। আবার রমজানের সময়সূচিও অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস বদলে দেয়। সব মিলিয়ে প্রযোজকদের মতে, হোলির স্লট এই বছর ঝুঁকিপূর্ণ।
এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রেক্ষাগৃহ ব্যবসায়। বড় মাল্টিপ্লেক্স থেকে একক স্ক্রিন—অনেকেই শো সংখ্যা কমাচ্ছেন। কিছু হল মালিকের মতে, নতুন সিনেমা না থাকলে উৎসবের দিনেও দর্শক টানার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। পুরনো বা চলতি ছবির উপর নির্ভর করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন।
যদিও অতীতে দু-একবার হোলির সময় বড় রিলিজ না থাকার ঘটনা ঘটেছে, তবে গত ১৫ বছরে এমন নজির নেই। সেই কারণেই এবারের পরিস্থিতি ব্যতিক্রমী।
তবে ইন্ডাস্ট্রির অনেকে এটাকে কৌশলগত বিরতি হিসেবেই দেখছেন। উৎসবের সঙ্গে আবেগ জড়িত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয় ব্যবসার অঙ্ক। কোন ছবির জন্য কোন সময় লাভজনক—এখন সেটাই মূল বিবেচ্য।
এ বছর হোলির দিনে বড় পর্দা নতুন গল্প দেখাবে না। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই ঈদের রিলিজ ঘিরে আবার জমে উঠবে বক্স অফিস। আপাতত রঙের উৎসব থাকবে রাস্তায়, বাড়িতে, মানুষের মুখে—কিন্তু সিনেমা হলের পোস্টারে নতুন মুখ দেখা যাবে না। ১৫ বছরের রেওয়াজ ভেঙে হোলি ২০২৬ তাই বলিউড ক্যালেন্ডারে এক আলাদা চিহ্ন রেখে গেল।
কী কী গান রয়েছে তালিকায়?
২০০০ লে চল আপনে সঙ্গ, সুলতান
২০০১ চোরি চোরি চুপকে চুপকে
২০০২ উল্লেখযোগ্য রিলিজ নেই
২০০৩ উল্লেখযোগ্য রিলিজ নেই
২০০৪ ইনসাফ: দ্য জাস্টিস
২০০৫ জেহের, ট্যাঙ্গো চার্লি
২০০৬ মালামাল উইকলি, জিগ্যাসা
২০০৭ নেহলে পে দেহল্লা, নিশব্দ
২০০৮ রেস
২০০৯ ১৩বি, ঢুঁঢতে রহ জাওগে, করমা অউর হোলি
২০১০ কার্তিক কলিং কার্তিক, টিন পাত্তি
২০১১ উল্লেখযোগ্য রিলিজ নেই
২০১২ কাহানি, চার দিন কি চান্দনি
২০১৩ আত্মা, রংরেজ
২০১৪ বেওকুফিয়া
২০১৫ ডার্টি পলিটিক্স, হে ব্রো, বদমাশিয়া
২০১৬ রকি হ্যান্ডসাম
২০১৭ বদ্রিনাথ কি দুলহনিয়া
২০১৮ পরি, ভিরে কি ওয়েডিং
২০১৯ কেসরি, মরদ কো দরদ নেহি হোতা
২০২০ বাগি ৩, কামিয়াব
২০২১ সাইনা
২০২২ বচ্চন পান্ডে
২০২৩ তু ঝুঁটি ম্যায় মক্কার
২০২৪ মাডগাঁও এক্সপ্রেস, স্বাধীনত্য বীর সাভারকর
২০২৫ দ্য ডিপ্লোম্যাট