
শেষ আপডেট: 22 November 2023 16:43
কোর্টে কেস চলছে, বাবু আর বাবুর বউয়ের ডিভোর্স হল বলে। বাবুর বউ শ্বশুরবাড়ির থেকে এক বছরের মধ্যেই বিদেয় হোক, মনেপ্রাণে তেমনটাই চায় বাবুর মা কৃষ্ণা। কৃষ্ণা আর তাঁর দলবলের প্ররোচনাতেই 'বাবু' সৃজন ভুল পথে পা দিয়েছে। কিন্তু এরইমধ্যে দত্ত পরিবারে এসে উপস্থিত ফুলকি আর তার পরিবার। সৃজন আর পর্ণার বিয়ের বছর ঘুরতেই তাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকী হাজির। আর সেই জন্যেই ফুলকি সিরিয়ালের টিম চলে এসছে 'নিম ফুলের মধু'-র সেটে। উপলক্ষ সাড়ম্বরে পর্ণা-সৃজনের বিবাহবার্ষিকী পালন। কিন্তু এই বুদ্ধির আসল কারিগর ঠাম্মি হেমনলিনী দেবী ওরফে লিলি চক্রবর্তী। তিনিই সবার আড়ালে ফোন করে ফুলকিকে বলেছেন এই বিবাহ বার্ষিকীর আয়োজন করতে। যাতে পর্ণা সৃজন কাছাকাছি আসে।
সৃজনের চরিত্রে রুবেল দাস, পর্ণার চরিত্রে পল্লবী শর্মা এবং শাশুড়ি কৃষ্ণার ভূমিকায় অভিনয় করছেন অরিজিতা মুখোপাধ্যায়।
ঠাম্মির মাস্টারস্ট্রোকে ক্লিন বোল্ড মেজবৌমা কৃষ্ণা। বাবু আর পর্ণা সব মান-অভিমান মিটিয়ে এমন কাছাকাছি এল ফুলশয্যা হয়ে গেল তাদের। জমল না কৃষ্ণার মাস্টারপ্ল্যান।
সৃজন-পর্ণার প্রথম বিবাহবার্ষিকী পালন করা হয়েছে প্রায় বিয়ের মতো করেই। গায়ে হলুদ থেকে মালা বদল, কেক কাটা- সবই হয়েছে তাতে। 'ঝুমকা গিরা রে' থেকে 'চোখ তুলে দেখো না কে এসেছে'। এদিকে তো একেবারে লুচির মতো ফুলছে বাবুর মা। সৃজন-পর্ণাকে যত কাছাকাছি দেখছে ততই তার রাগের পারদ চড়ছে।
শেষে ছেলে-বৌমার ফুলশয্যার প্ল্যান ভন্ডুল করতে ঈশার কুবুদ্ধিতে অজ্ঞান হওয়ার নাটক করে বাবুর মা। তবে পুত্রবধূ পর্ণা শাশুড়ির বদবুদ্ধি সবটাই বুঝতে পারে। একেবারে শক্ত হাতে জব্দ করে শাশুড়িকে। ঘরোয়া টোটকা প্রয়োগ করে হাতুড়ি দিয়ে কৃষ্ণার কপাল ফাটানোর কথা বলে পর্ণা। শাশুড়ি কৃষ্ণার রক্ত নাকি মাথায় উঠে গেছে। কৃষ্ণার মাথায় পর্ণা হাতুড়ি মারল বলে! আর তাতেই কাজ হয়। কৃষ্ণা ভয়ে সটান উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে। তারপরই শুরু হয় মালাবদল আর কেক কাটার অনুষ্ঠান।
তবে এখানেই শেষ নয়। ফের বিয়ের আনুষ্ঠানিক আয়োজন সব মেটার পর সৃজন মায়ের ইন্ধনে পর্ণাকে ডিভোর্স দেবে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়। উকিল বাবুর ফোনেই বিবাহ বার্ষিকীর রাতে ছন্দপতন। পরদিন নাকি কেসের তারিখ পড়েছে। বাবু তো রেগেমেগে আগুন পর্ণার উপর। বন্ধ ঘরের ঝগড়া বাইরে বের হওয়ার উপক্রম। এদিকে বাবুর মা তার দলবল নিয়ে ছেলের শোবার ঘরের দরজায় আড়ি পাতে। উঁকিঝুকি মারতে থাকে কৃষ্ণা। হঠাৎই পর্ণা ঘর থেকে বেরিয়ে দেখতে পায় সদলবলে তার শাশুড়ি দরজার বাইরে আড়ি পাতছে। কৃষ্ণার মুখের উপর বর সমেত দরজা বন্ধ করে দেয় পর্ণা। কৃষ্ণার তো মুখ পুড়ল। তবু আশা ছাড়ে না সে।
কিন্তু বিবাহ বার্ষিকীর রাতে বাবু আর মায়ের আঁচলে বাঁধা থাকে না। পর্ণা সৃজনের মান অভিমান চোখের জলে মিটে হয়ে যায় মধুরেণ সমাপয়েৎ। এক বছর পর প্রথম কাছাকাছি আসে পর্ণা-সৃজন। মায়ের চোখ রাঙানি হার মেনে গেল বউয়ের চোখের জলে। বিবাহ বার্ষিকীর রাত হয়ে ওঠে পর্ণা-সৃজনের ফুলশয্যার রাত। দর্শকরা বলছেন, মায়ের বাবুর এবার নিজের বাবু আসার সময় হল। ডিভোর্সের কেস উঠলেও এখন কৃষ্ণার নাতি হওয়ার খবর শোনার পালা। সেই ঘটনাই হয়তো মোড় ঘুরিয়ে দেবে নিম ফুলের মধু সিরিয়ালের গল্পের।