ইনস্টাগ্রামে করা ওই পোস্টে নীলাঞ্জনা কোনও ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করলেও, তাঁর কথার গভীরতা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে জীবনের একটি বড় অধ্যায় শেষ হওয়ার দিকে।

শেষ আপডেট: 8 February 2026 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টলিপাড়ায় আবারও জোরালো হয়েছে যিশু সেনগুপ্ত (Jissu sengupta) ও নীলাঞ্জনা শর্মার (Nilanjana Sharma) সম্পর্ক ভাঙন নিয়ে চর্চা। দীর্ঘদিন ধরে যে গুঞ্জন চলছিল, নীলাঞ্জনার সাম্প্রতিক একটি সোশাল মিডিয়া পোস্ট সেই জল্পনাকেই নতুন করে উসকে দিয়েছে। প্রযোজক ও প্রাক্তন অভিনেত্রীর লেখা দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সম্পর্কের ইতি আইনি রূপ পেল?
ইনস্টাগ্রামে করা ওই পোস্টে নীলাঞ্জনা কোনও ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করলেও, তাঁর কথার গভীরতা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে জীবনের একটি বড় অধ্যায় শেষ হওয়ার দিকে। তিনি লেখেন, কোনও কিছুর শেষ মানে তার গুরুত্ব ফুরিয়ে যাওয়া নয়, বরং এমন সময়ও আসে যখন, কোনও সম্পর্ক বা পর্বের জীবনে আর নতুন দেওয়ার থাকে না। এই সমাপ্তির মুহূর্তে তাঁর অনুভূতি দুঃখের নয়, বরং কৃতজ্ঞতার, এমনটাই ফুটে ওঠে লেখায়।
পোস্টের পরের অংশে নীলাঞ্জনা নিজের আত্মপরিচয়ের কথা বলেন। তিনি জানান, একসময় নিজেকে না চেনার মধ্যেও তিনি শিখেছেন মর্যাদা ধরে রাখতে, পেয়েছেন স্বাধীনতা এবং ধীরে ধীরে নিজের আত্মসম্মানকে ‘নন-নেগোশিয়েবল’ করে তুলেছেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, তিনি লিখেছেন, তিনি নিজের কণ্ঠস্বর খুঁজে পেয়েছেন।
নীলাঞ্জনার পোস্ট চোখে পড়তেই কমেন্ট করেন অভিনেত্রী বরখা বিস্ত সেনগুপ্ত। তাঁর কথায়— ‘তোমার পরিস্থিতি অনুভব করতে পারছি, ঈশ্বর তোমায় শক্তি দিন’— এই জল্পনাকে আরও গভীর করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
তবে বিষয়টি নিয়ে একটি ভিন্ন ব্যাখ্যাও উঠে আসছে টলিপাড়ার অন্দরমহলে। শোনা যাচ্ছে, নীলাঞ্জনার প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে নির্মিত ধারাবাহিক ‘আনন্দী’ নাকি শেষের পথে। ফলে এই পোস্ট কি ব্যক্তিগত জীবনের ইঙ্গিত, না কি পেশাগত কোনও অধ্যায়ের সমাপ্তি— তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
পেশাগত দিক থেকে যিশু সেনগুপ্ত সম্প্রতি সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি সৌরভ দাসের সঙ্গে যৌথভাবে নতুন প্রযোজনা সংস্থাও শুরু করেছেন তিনি। অন্যদিকে নীলাঞ্জনা শর্মা তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘নিনি চিনিস মাম্মা’র ব্যানারে একের পর এক ধারাবাহিক প্রযোজনা করে টেলিভিশন দুনিয়ায় নিজের জায়গা আরও পোক্ত করছেন।
সব মিলিয়ে নীলাঞ্জনার এক টুকরো লেখাই এখন টলিপাড়ার আলোচনার কেন্দ্রে। এটি কি নিছক কাজের পর্ব শেষ হওয়ার ইঙ্গিত, না কি বহু বছরের সম্পর্কের উপর অবশেষে পড়ল চূড়ান্ত সিলমোহর— সেই উত্তর আপাতত সময়ই দেবে।