বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় ঝড় তুলে এগোচ্ছিল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’। টিআরপি তালিকায় দাপিয়ে প্রথম পাঁচে থাকা এই ধারাবাহিক কতবার যে শীর্ষে উঠেছে, তার ঠিক নেই।

জীতু-দিতিপ্রিয়া।
শেষ আপডেট: 15 November 2025 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় ঝড় তুলে এগোচ্ছিল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’। টিআরপি তালিকায় দাপিয়ে প্রথম পাঁচে থাকা এই ধারাবাহিক কতবার যে শীর্ষে উঠেছে, তার ঠিক নেই। অথচ পর্দার সাফল্যের আড়ালে নাকি দিনদিন ঘনীভূত হচ্ছে অশান্তি। এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে পরিস্থিতি যে দর্শকদের ভরসাই নড়বড়ে— যে কোনও দিন হয়তো আচমকাই ‘চিরদিনই’ শেষ হয়ে যেতে পারে!
শুক্রবার ভোর থেকেই বিভিন্ন মহলে কানাঘুষো—নায়িকা দিতিপ্রিয়া রায় নাকি প্রযোজনা সংস্থার খুব ঘনিষ্ঠ! তাই ঘুরিয়েফিরিয়ে চাপ দেওয়া হচ্ছে নায়ক জিতু কামালকেই ধারাবাহিক ছাড়ার জন্য। দিনভর সেই গুঞ্জন চড়ে পৌঁছয় সোশ্যাল মিডিয়ার দেয়ালে। ধারাবাহিকের পক্ষ থেকে একটি ছোট্ট ক্লিপিংস শেয়ার হতেই যেন আগুনে ঘি— কমেন্ট বক্সে ঝড় উঠল জিতু ভক্তদের বিক্ষোভের।
কেউ লিখলেন, “দিতিপ্রিয়াকে নায়িকা হিসেবে দেখতে চাই না। ওকে রিপ্লেস করুন। কিন্তু জিতুকে যদি সরান, তা হলে ভাল হবে না। এখনও সময় আছে, ঠিক করুন সবটা। #wewantJeetukamal #SVFTelevision”
আরেক জনের অনুরোধ, “নায়িকাকে পাল্টান, নায়ককে রাখুন। দুদিন মন খারাপ হবে, তারপরও সব ঠিক হয়ে যাবে।”
তৃতীয়জনের ক্ষোভ আরও তীব্র— “এক ফালতু নায়িকার ন্যাকামিতে কাহিনির বারোটা বাজছে। এখন নায়ক বেরিয়ে গেলে সিরিয়াল আর দেখব না।”
সোশ্যাল মিডিয়ার চর্চা সেখানেই থামেনি। চাউর হয় আরেক বিস্ফোরক খবর—জিতুর সঙ্গে রোম্যান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি নন দিতিপ্রিয়া! এমনকী শর্ত দিয়েছেন— নায়ক যেন তাঁকে ছুঁতেও না পারে। এই কথা ছড়িয়ে পড়তেই আরও তপ্ত হয়ে ওঠে টেলিপাড়া।
ঠিক এই গুঞ্জনের মধ্যেই শুক্রবার সন্ধ্যায় নীরবতা ভেঙে দীর্ঘ পোস্ট করেন জিতু। সেখানে তিনি জানান, দিতিপ্রিয়ার একাধিক অভিযোগ তাঁর কানে এসেছে প্রযোজনা সংস্থার মাধ্যমে। অভিযোগ— “আমি নাকি খুব খারাপ মানুষ, মহিলা অভিনেত্রীদের সঙ্গে অভিনয়ের যোগ্য নই। অসুস্থতার নাম করে নাকি মিথ্যে নাটক করছি। তা না হলে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ফিরে ১০ ঘণ্টা কাজ কীভাবে করি?”
জিতুর কথায়, সবই নাকি মৌখিক! তিনি লিখলেন, “এবার সত্যিই প্রশ্নের মুখে পড়েছি— আমার কি কোনও আত্মসম্মান নেই? তাই আমিও কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে কারও বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযোগ নেই।”
এদিকে ধারাবাহিকের শুটিং ফ্লোরেও নাকি জমেছে আলগা উত্তাপ। কয়েক দিন আগেই সিনেমার শুটে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন জিতু। সুস্থ হয়ে কাজে ফিরতেই নাকি শুরু হয় অস্বস্তি। জিতুর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি জানান, নায়ক সেটে উপস্থিত, কিন্তু নায়িকাকে ডাকলেও নাকি বারবার দেরি! অভিযোগ, “প্রযোজনা সংস্থাকে বলেও লাভ হয়নি। বলা হয়েছে, এবার থেকে নাকি দু’জনের আলাদা শট নেওয়া হবে। এটা কি করে সম্ভব?”
অন্যদিকে দিতিপ্রিয়া অবশ্য কোনও অভিযোগ মানতে রাজি নন। তাঁর বক্তব্য— সবকিছু নিয়মমাফিক চলছে, কেন এমন রটছে তিনিও জানেন না।
কিন্তু ফ্লোরের কানে-কথা নাকি আরও জটিল। শোনা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহে ডেকে পাঠানো হতে পারে নায়ক-নায়িকাকে, সঙ্গে দলের আরও কয়েকজনকে— স্থায়ী সমাধানের জন্য বিশেষ মিটিং! সমাধান না মিললে জিতু আদৌ এই ধারাবাহিকে থাকবেন কি না, তা নিয়েই ঘোর অনিশ্চয়তা।
বাংলা ধারাবাহিকের বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে অনেক সিরিয়াল দু’মাসেও টিকে থাকতে পারে না, সেখানে ‘চিরদিনই’ বিপুল সাফল্য, দেশ-বিদেশে জনপ্রিয়তা— এই ধারাবাহিকই ছিল টেলিপাড়ার আশার আলো। অথচ নায়ক-নায়িকার অভিমান, আড়াল-গোপন রেষারেষি— সব মিলিয়ে সেই আলোতে যেন কালো ছায়া।
শুক্রবার শুটিংয়েও যাননি জিতু। আগামী দিনে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পথ খুলবে? নাকি চিরতরে ইতি টানবে এক অতি জনপ্রিয় পর্দার জুটি?