অটোর ধাক্কায় দুলতে দুলতে তোলা একখানা ছোট্ট সেলফি-ভিডিয়ো— আর তাতেই যেন ঝলকে উঠল স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের সম্পূর্ণ নতুন গল্প।

স্বস্তিকা।
শেষ আপডেট: 15 November 2025 15:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অটোর ধাক্কায় দুলতে দুলতে তোলা একখানা ছোট্ট সেলফি-ভিডিয়ো— আর তাতেই যেন ঝলকে উঠল স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের সম্পূর্ণ নতুন গল্প। খোলা চুলে হাওয়া লেগে আছে, চোখে সেই চেনা কাজল, কিন্তু সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ল তাঁর শার্প হয়ে ওঠা চিবুকের রেখা। মনে হল যেন কয়েক মাসের মধ্যেই স্বস্তিকা নিজের ভরসা, নিজের শরীর— দু’টোকেই যত্ন করে গড়ে তুলেছেন। তাই স্বাভাবিক ভাবেই বিস্ময়ে নেটিজেনদের প্রশ্ন— “এত ওজন কমালে কীভাবে?”
এক মহিলা প্রশ্ন করেছিলেন সরল কৌতূহলে— ‘কীভাবে এত রোগা হলে, স্বস্তিকা?’ উত্তর দিতে স্বস্তিকা কুণ্ঠিত হননি। বরং খোলাখুলি জানাতে চাইলেন তাঁর ছ’মাসের নিঃশব্দ সেই লড়াইয়ের গল্প।
তিনি লিখলেন—“হ্যাঁ, ছ’মাস ধরেই কমিয়েছি। রোজ ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের ব্রিস্ক ওয়াক। দিনে মাত্র একবেলা খাবার। রুটি-ভাত-পাউরুটি একেবারে বন্ধ। ভাজাভুজি থেকে দূরে। মিষ্টি বা চকোলেট ছাড়া আমার পক্ষে অসম্ভব— তাই সেগুলো বাদ দিইনি ঠিকই, কিন্তু বাকি সব মেদ-টানা খাবারকে বলেছি না। একটু সময় লাগে, তবে লেগে থাকলে ফল পাওয়া যায়।”
শব্দগুলোর সরলতায় রয়েছে এক নারীর দৃঢ়তা। আলো-ঝলমলে জীবনে থেকেও শরীর-মনকে নিয়ে নিজের মতো করে পথ চলার এক কঠিন সিদ্ধান্ত। আর সেই সিদ্ধান্তই আজ তাঁকে বদলে দিয়েছে এতখানি।

এই সময়ে সমাজমাধ্যমে ‘ওয়ান মিল আ ডে’— মানে ‘ওম্যাড’— যেন এক নতুন ঢেউ তুলেছে। করণ জোহর থেকে শাহরুখ খান— বলিউডের তারকারাও নাকি ভরসা রাখছেন এই নিয়মে। দিনে মাত্র একবার খাওয়া। এক ঘণ্টার জানলার মধ্যে গুছিয়ে নিতে হয় সব প্রয়োজনীয় খাবার। বাকিটা দিন শুধু জল বা পানীয়। অটল শৃঙ্খলা আর নিজের শরীরকে নতুন করে বোঝার ক্ষমতা— এই ডায়েট সেই দু’টোরই পরীক্ষা নেয়। তবে স্বস্তিকাও মনে করিয়ে দিলেন— কোনও নতুন খাদ্য-বিধি শুরু করার আগে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।
শেষ পর্যন্ত ওজন কমানো শুধু ক্যালোরির হিসেব নয়— নিজেকে ভালোবাসার এক অন্তর্মুখী যাত্রা। আর সেই যাত্রায় স্বস্তিকা প্রমাণ করলেন— লড়াইটা কঠিন হলেও, ধারাবাহিকতা থাকলে জয় অবধারিত।
ওম্যাড ডায়েট কী?
ওম্যাড বা ‘ওয়ান মিল আ ডে’ ডায়েট হল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দিনে একবার খাবার খাওয়ার নিয়ম। সাধারণত এক ঘণ্টার মধ্যে সব প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করতে হয়। বাকি সময় শরীর থাকে উপবাস-মোডে, যা অনেকের ক্ষেত্রে ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে সবার শরীর আলাদা— তাই এই ডায়েট শুরু করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন।