শতবর্ষ পেরিয়েও সেই সৃষ্টির অভিঘাত আজও অটুট। এবার সেই কিংবদন্তি পরিচালকের জীবনের অমূল্য স্মৃতি স্থায়ী ঠিকানা পেল কলকাতায়। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের সার্টিফিকেট, অসম্পূর্ণ ছবি ‘ভুবনেশ্বরী’-র আসল চিত্রনাট্য, ব্যক্তিগত চিঠিপত্র, ছবি এবং গীতা সেনের ব্যবহার করা নানা সামগ্রী নিয়ে গড়ে উঠছে বিশেষ আর্কাইভ।

শেষ আপডেট: 6 February 2026 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যাঁর নাম উচ্চারিত হলেই সময় ও সমাজের ছবি ভেসে ওঠে, তিনি মৃণাল সেন। তাঁর সিনেমা কখনও শুধুই বিনোদনের পর্দায় আটকে থাকেনি—বরং প্রতিটি ছবি হয়ে উঠেছে সমকালীন বাস্তবতার নির্ভরযোগ্য দলিল। শতবর্ষ পেরিয়েও সেই সৃষ্টির অভিঘাত আজও অটুট। এবার সেই কিংবদন্তি পরিচালকের জীবনের অমূল্য স্মৃতি স্থায়ী ঠিকানা পেল কলকাতায়। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের সার্টিফিকেট, অসম্পূর্ণ ছবি ‘ভুবনেশ্বরী’-র আসল চিত্রনাট্য, ব্যক্তিগত চিঠিপত্র, ছবি এবং গীতা সেনের ব্যবহার করা নানা সামগ্রী নিয়ে গড়ে উঠছে বিশেষ আর্কাইভ।
বর্তমানে মৃণাল সেনের পুত্র পরিবারের সঙ্গে শিকাগোয় বসবাস করছেন। গত রবিবার তিনি পরিচালকের সংরক্ষিত এই সব মূল্যবান স্মৃতিসামগ্রী কলকাতার জীবনস্মৃতি আর্কাইভে দান করেন। শিল্পী ও চলচ্চিত্র জগতের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও স্মারক সংরক্ষণের লক্ষ্যে এই আর্কাইভে তৈরি করা হয়েছে একটি পৃথক অংশ, যেখানে মৃণাল সেনের সংগ্রহ বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
সল্টলেকের করুণাময়ী অঞ্চলে অবস্থিত অন্যা থিয়েটার ভবনের মধ্যেই রয়েছে এই বিশেষ আর্কাইভ। এখানে সংরক্ষণের জন্য দেওয়া হয়েছে গীতা সেনের ভোটার আইডি কার্ড, শাল, গয়না, ব্যক্তিগত ডায়েরি, বিভিন্ন আলোকচিত্র ও একাধিক সিনেমার মূল স্ক্রিপ্ট। পাশাপাশি রাখা হচ্ছে মৃণাল সেনের লেখা চিঠি, ব্যক্তিগত নোট এবং তাঁর পরিচালিত ছবির নানা দুর্লভ ফটোগ্রাফ। পরিচালকের বাড়ি থেকে মোট প্রায় ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিসামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই আর্কাইভের বিশেষ দিক হল, এটি সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত। সিনেমাপ্রেমীরা এখানে এসে সরাসরি দেখতে পারবেন মৃণাল সেনের জীবন ও সৃষ্টির নানা অধ্যায়। শুধু চলচ্চিত্র ইতিহাস সংরক্ষণ নয়, বরং এটি হয়ে উঠবে কলকাতার সংস্কৃতি ও বিনোদনপ্রেমী মানুষের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ১৯৭০ ও ৮০-র দশকে বাংলা সিনেমা নির্মাণের ধারা, পরিচালক ও অভিনেতাদের ব্যক্তিগত লড়াই এবং একটি ছবির নেপথ্যের গল্প—সব কিছুই এই আর্কাইভে সংরক্ষিত স্মৃতিসামগ্রীর মধ্য দিয়েই নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে। যা নিঃসন্দেহে বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।