কিছু গল্পের শেষ বলে কিছু হয় না। তারা শেষ দৃশ্যের পরও বেঁচে থাকে। ‘মৃগয়া’ ঠিক এমনই এক অভিজ্ঞতা ছিল, যা শুধু দেখা হয়নি, অনুভব করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে প্রেক্ষাগৃহের অন্ধকার থেকে শুরু করে টেলিভিশনের পর্দা, তারপর ওটিটি—সবখানেই ছবিটি তার নিজস্ব ছাপ রেখে গিয়েছে।

শেষ আপডেট: 17 February 2026 11:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছু গল্পের শেষ বলে কিছু হয় না। তারা শেষ দৃশ্যের পরও বেঁচে থাকে। ‘মৃগয়া’ ঠিক এমনই এক অভিজ্ঞতা ছিল, যা শুধু দেখা হয়নি, অনুভব করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে প্রেক্ষাগৃহের অন্ধকার থেকে শুরু করে টেলিভিশনের পর্দা, তারপর ওটিটি—সবখানেই ছবিটি তার নিজস্ব ছাপ রেখে গিয়েছে। দর্শকের ভালবাসা যেমন উজাড় হয়ে এসেছিল, তেমনই সমালোচনার আলোও পড়েছিল তার উপর। কিন্তু সব মিলিয়ে ‘মৃগয়া’ একবার শুরু হয়ে থেমে যায়নি—তার অভিঘাত রয়ে গিয়েছিল।
সেই অদ্ভুত টান, যা ‘মৃগয়া’-র পরও দর্শকদের মন ছাড়েনি, সেখান থেকেই শুরু হল এক নতুন পথচলা। টেন্থ ডাইমেনশন এন্টারটেইনমেন্ট এবার সেই পরিচিত জগতকে আরও বিস্তৃত, আরও গভীর করে তুলতে এগিয়ে এসেছে। এই নতুন অধ্যায়ের প্রথম ইঙ্গিত মিলেছিল যখন দ্য ওয়াল ২রা ফেব্রুয়ারি এক্সক্লুসিভভাবে খবরটি প্রকাশ করে—‘নতুন জুটি, নতুন কেস! ‘মৃগয়া ১.৫’-এ একসঙ্গে ঋত্বিক-কৌশানী’ শিরোনামে।
সেই মুহূর্তেই স্পষ্ট হয়ে যায়, গল্প থেমে নেই—বরং আরও জটিল, আরও অন্ধকার এক যাত্রার প্রস্তুতি চলছে। জন্ম নিচ্ছে মৃগয়া ১.৫—যেখানে অপরাধ কেবল একটি ঘটনার বিবরণ নয়, বরং মানুষের মনের ভেতরের এক জটিল গোলকধাঁধা। পরিচালক অভিরূপ ঘোষ-এর দৃষ্টিতে থ্রিল মানে শুধু উত্তেজনার ওঠানামা নয়, বরং সেই অস্বস্তিকর সত্যের সামনে দাঁড়ানো, যাকে আমরা সচেতনভাবে এড়িয়ে চলি—যেখানে আলো আর অন্ধকারের ব্যবধান ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়, আর মানুষ নিজের অচেনা সত্তার মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়।
এই নতুন অধ্যায়ের গল্প অনুপ্রাণিত কলকাতা পুলিশ-এর বাস্তব কেস ফাইল থেকে। শহর কলকাতা আবারও এক অদ্ভুত আতঙ্কের সাক্ষী হয়। নিজের বাড়ির নিরাপদ চার দেওয়ালের ভেতরেই নির্যাতনের শিকার হয় এক তরুণী—শ্রেয়াংশী, যার চরিত্রে রয়েছেন অনন্যা ভট্টাচার্য। নিরাপত্তার সেই চেনা পরিসরই হঠাৎ করে হয়ে ওঠে ভয়ের কেন্দ্র।
এই ঘটনার তদন্তে নামেন শোভাবাজার থানার ওসি দেবাঞ্জন দত্ত, যার ভূমিকায় আছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী—একজন পুলিশ অফিসার, যার চোখে ক্লান্তি আছে, কিন্তু হার মানার কোনও চিহ্ন নেই। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন এস আই জয়িতা সেন, চরিত্রে কৌশানী মুখার্জী—একজন দৃঢ়চেতা অফিসার। এই তদন্তে তাঁদের পাশে দাঁড়ান এস আই পরিতোষ সাহা, চরিত্রে অর্পণ ঘোষাল, এবং সিনিয়র অফিসার অগ্নীশ্বর চ্যাটার্জী, যাঁর চরিত্রে দেখা যাবে মীর-কে। (mrigaya, mrigaya 1.5, Ritwick Chakraborty, Koushani Mukherjee, Mir)
কিন্তু এই তদন্ত কোনও সাধারণ অনুসন্ধান নয়। পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে যায় এক রহস্যময় আততায়ী—যার পরিচয় যেমন অস্পষ্ট, তেমনই তার উদ্দেশ্য। শুরু হয় এক অদৃশ্য লড়াই। প্রতিটি পদক্ষেপ যেন দাবার চালের মতো, যেখানে এক ভুলেই বদলে যেতে পারে পুরো খেলা। এই শিকার আর শিকারির মধ্যে সীমারেখা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই গল্পে শুধু একটি অপরাধের সমাধানই নয়, ফিরে আসবে দেবাঞ্জন দত্তের অতীতও—যে অতীত হয়তো তাঁর বর্তমানকে বদলে দিয়েছে, কিংবা এখনও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। সেই স্মৃতি, সেই ক্ষত, সেই না বলা সত্য—সব মিলে আসছে ‘মৃগয়া ১.৫’।
ছবির গল্প লিখেছেন দেবাশিষ দত্ত, চিত্রনাট্য রচনা করেছেন অরিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়, এবং অতিরিক্ত চিত্রনাট্য ও সংলাপে রয়েছেন সৌমিত দেব। ছবির আবহকে সাজাবেন সুরকার রানা মজুমদার। ক্যামেরার শুভদীপ নস্কর, আর সম্পাদনায় ছবিকে সম্পূর্ণতা দিতে চলেছেন সুমিত সি।
নতুন কাহিনি, নতুন চরিত্র এবং বাস্তব অপরাধ থেকে নেওয়া প্রেক্ষাপটে ‘মৃগয়া ১.৫’ দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চলেছে আরেকটি টানটান ক্রাইম থ্রিলার। চলতি মাসের মধ্যেই শুরু হচ্ছে ছবির শুটিং।