ধারাবাহিকটি এখনও ‘আদর্শ নারী মানেই আত্মত্যাগী’এই পুরনো ছাঁচ থেকে বেরোতে পারেনি ঠিকই, কিন্তু সৌন্দর্য সংক্রান্ত অবাস্তব মানদণ্ডকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে গিয়েছে।

কিঁউকি-তে স্মৃতি যেমন
শেষ আপডেট: 3 August 2025 18:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোপ অপেরা বা ধারাবাহিকগুলোতে আদর্শ নারীচরিত্রের ছড়াছড়ি। বয়স বাড়ে গল্পে, কিন্তু চরিত্রগুলোর মুখে-চোখে তার ছাপ পড়ে না। ‘অনুপমা’ ধারাবাহিকে যেমন অনুপমা এখন ঠাকুমা, কিন্তু মুখ দেখলে তা বোঝা দায়। অল্প বয়সের মহিলাদের দেওয়া হয় ভারী চরিত্রে, এই অভিযোগ তো টলিউড থেকে বলিউড, সর্বত্র ঘুরে বেড়ায়। সম্প্রতি এর জন্য কাজ ছেড়েছেন শ্রীময়ী চট্টরাজের মতো অভিনেত্রীও।
কিন্তু ‘কিঁউকি সাস ভি কভি বহু থি ২’ এর একেবারে বিপরীত, ব্যতিক্রম। চেনা ছক ভেঙে একদম সাদামাটা মায়ের চরিত্রে ধরা দিচ্ছেন স্মৃতি ইরানি। চেহারায় ভার এসেছে, মুখে বলিরেখা স্পষ্ট। বয়স আটকে রাখার বা লুকিয়ে রাখার কোনও চেষ্টাই নেই। স্মৃতি ইরানির টেলিভিশনে প্রত্যাবর্তন তাই শুধু ‘নস্টালজিয়া’ নয় বরং এক নতুন বাস্তবধর্মী দৃষ্টিভঙ্গির উপস্থাপনও।
ধারাবাহিকটি এখনও ‘আদর্শ নারী মানেই আত্মত্যাগী’এই পুরনো ছাঁচ থেকে বেরোতে পারেনি ঠিকই, কিন্তু সৌন্দর্য সংক্রান্ত অবাস্তব মানদণ্ডকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে গিয়েছে।
তৃতীয় এপিসোডেই স্পষ্ট হয় মহিলাদের শারীরিক পরিবর্তনের বাস্তবতা নিয়েই আলোচনা করতে চায় এই শো। মিহির (অমর উপাধ্যায়) যখন ওজন মাপার যন্ত্রে দাঁড়ান, তখন তাঁর ওজন ৬০ কেজি। তুলসি তাঁকে প্রোটিন শেক বানিয়ে দেয়। মিহির চলে যাওয়ার পর তুলসি নিজে দাঁড়ান ওজন যন্ত্রে, কাঁটা গিয়ে দাঁড়ায় ৮০ কেজিতে। লজ্জায় চুপিচুপি নেমে যান।
পরের দৃশ্যে, পারিবারিক এক পার্টিতে তুলসিকে তাঁর মেয়ে সরাসরি বলে বসে, 'তুমি এত মোটা হয়ে গিয়েছ! আমার বন্ধুদের মায়েদের দেখ, তারা তো কত ফিট! তুমি নিজের দিকে একটু নজর দাও না?' অতিথিরাও পেছনে ফিসফিস করে, 'মিহির তো কত ফিট, এ আবার ওর বউ?' কেউ কেউ বলেন, 'ওকে দেখলে মনে হয় যেন দশ বছর বড়।'
এই অপমানগুলোকে চুপচাপ হজম করে নেন না তিনি। তৃতীয় এপিসোডে দেখা যায়, তুলসি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখতে দেখতে সেই সব কথা ভাবতে থাকেন। তখনই মিহির এসে দাঁড়ান পাশে। তাঁর সংলাপ যেন নতুন পথ দেখায় হিন্দি ধারাবাহিককে, 'হ্যাঁ, তোমার ওজন বেড়েছে। জামাকাপড় আগের মতো মানাচ্ছে না। কিন্তু লোকেরা সহজেই গৃহবধূদের শরীর নিয়ে বিচার করে ফেলে। তোমার বাহু ভারী হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই বাহুতেই তো তুমি গোটা সংসারের ভার টেনেছ। মা হওয়ার পর একটা মেয়ের শরীর কতভাবে বদলায়, সেটা মানুষ বোঝে না।'
কিঁউকি সাস ভি কভি বহু থি ২-এর মূল দর্শকবৃন্দ মধ্যবয়স্কা। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ গৃহবধূও বটে। তাঁদের জীবনের বাস্তবতা যদি এবার টিভির পর্দাতেও ফুটে ওঠে, সেটা নিঃসন্দেহে বড় পরিবর্তন, বলছে বিনোদন জগতের অনেকেই। বহু বছর ধরে যে সিরিয়াল-ইন্ডাস্ট্রি গৃহবধূদের মুখে নিখুঁত মেকআপ আর পরিপাটি জুঁইফুলের খোঁপা বসিয়ে এসেছে, সেখানে এই বদল প্রশংসনীয়।
পর্দায় বয়সের ছাপ, ওজন বেড়ে যাওয়া, সংসারের চাপ, সব মিলিয়ে যে সত্যিটা দিনের পর দিন আড়ালে ছিল, সেটাই উঠে আসছে এই ধারাবাহিকের হাত ধরে। যেখানে অধিকাংশ টিভি মায়েরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আরও কম বয়সি হয়ে যান, সেখানে বলা ভাল তুলসি বিরানি হয়ে উঠছেন নতুন যুগের মুখ।