ভাষণ শেষ হতেই করতালি। মোদীর মুখেও স্বস্তির ছাপ। তাঁকে ঘিরে রেখেছিলেন রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখেরা। হাজির ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তীও। গত বিধানসভা ভোটের আগেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন যিনি।

মাথা ঝোঁকাতেই ঘটে গেল কী?
শেষ আপডেট: 18 July 2025 19:46
সকাল থেকেই সেজেছিল দুর্গাপুর (Narendra Modi in Durgapur) । সময় যত বাড়ছিল প্রধানমন্ত্রীকে দেখার উচ্ছ্বাসও বাড়ছিল পাল্লা দিয়ে। অবশেষে তিনি এলেন। হাত নাড়লেন। বাঙালি আবেগকে উস্কে দিয়ে জয় শ্রী রাম নয়, মঞ্চ থেকে বলে উঠলেন, 'জয় মা দুর্গা, জয় মা কালী'।
ভাষণ শেষ হতেই করতালি। মোদীর মুখেও স্বস্তির ছাপ। তাঁকে ঘিরে রেখেছিলেন রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখেরা। হাজির ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তীও। গত বিধানসভা ভোটের আগেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন যিনি। বক্তৃতা শেষ হতে প্রথমেই 'মিঠুনদা'র দিকেই এগিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। হাত ধরে কিছু বললেন, মুখে হাসি দু'জনরেই। মিঠুনকে বিদায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী অন্য দিকে পা বাড়াবেন ঠিক সেই মুহূর্তেই আচমকাই ঘটে গেল এক ঘটনা!
সভামঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রীর পা লক্ষ্য করে ঝুঁকে প্রণাম করতে উদ্যত হলেন 'মহাগুরু'। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই মিঠুনকে বাধা দিয়ে কাঁধে হাত দিয়ে প্রণাম থেকে বিরত করলেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। হাতের ইশারায় বারণ করতেও দেখা গেল তাঁকে। বরং আরও একবার বুকে জড়াতে দেখা গেল তাঁকে।
হিসেব বলছে প্রধানমন্ত্রীর থেকে মাস কয়েকের বড় মিঠুন। একই বছরে তিনি জন্মেছেন জুন মাসে। ওদিকে মোদীর জন্ম মিঠুনের জন্মের ৩ মাস ১ দিন পর। বয়সে ছোট দলনেতাকে প্রণাম করার তাগিদ কি নেহাতই শ্রদ্ধা নাকি রাজনৈতিক সৌজন্য? উঠছে প্রশ্ন। মোদীর বুকে জড়িয়ে বাধা দেওয়াও কুড়িয়েছে প্রশংসা।
এ দিন নরেন্দ্র মোদীর আগেই ভাষণ দিতে উঠেছিলেন মিঠুন। চোখ থেকে সানগ্লাস খুলেই চোখে চোখ রেখেছিলেন আমজনতার। এই বার না হলে আর কখনও নয়। বাংলায় বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে এটাই শেষ লড়াই-- ঠিক এই বার্তাই দিয়েছিলেন সভাস্থল থেকে। শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে খোঁচা দিতেও দেখা গেল তাঁকে। তাঁকে বলতে শোনা যায়, "আমি ‘কম্প্রোমাইজ় পলিটিক্স’করি না। জীবনে কখনও কম্প্রোমাইজ়ের রাজনীতি করিনি। গায়ের জোর আমারও আছে। তবে কখনও কারও উপর খাটাইনি। কাউকে বলি না যে, ‘আপনাকে মারব, ধরব।’ কিন্তু এটা ভাববেন না যে, আমি করতে পারি না। আমরা ভিতু নই। শুধু পুলিশকে বলুন, ‘তোমরা নিরপেক্ষ হয়ে যাও।’’
২০২১ সালের ৭ মার্চ ব্রিগেডে বিজেপির সভামঞ্চে হাতে পতাকা তুলে দিয়ে মিঠুনকে স্বাগত জানিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ ও কৈলাস বিজয়বর্গীয়। নির্বাচনী প্রচারেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। যদিও তীরে এসে তরী ডুবেছিল অচিরেই। ২৬-এর ভোটেও যে মিঠুন-ম্যাজিক কাজে লাগাবে বিজেপি তা প্রমাণিত। শিকে ছিঁড়বে কি? সে উত্তর যদিও সময়ের হাতে।