'রাঙা ভাঙা চাঁদ' ছবির শুটিং বন্ধ হয়ে যেতে মিঠুর ফেরার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় তখন বম্বেতে থাকতেন মিঠু। অভিনেত্রীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠেছিল পরিচালক চন্দ্র বারোটের। ছ বছর পর 'রাঙা ভাঙা চাঁদ' ছবির কাজ আবার নতুন করে শুরু হয়। নাম বদলে হয় 'আশ্রিতা'।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 20 July 2025 20:09
বহুদিন এই পরিচালক কোনও খবরেই ছিলেন না। আজ সকালেই ভেসে এল তাঁর মৃত্যুর খবর। মুম্বইয়ের পরিচালক চন্দ্র বারোট। রবিবার মুম্বইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। 'ডন' ছবির পরিচালক রূপে তাঁকে আজও মনে রেখেছে দর্শক। একটি মাত্র বাংলা ছবিই করেছিলেন তিনি এবং সেই ছবি মারকাটারি হিট করে। ছবির প্রযোজক ছিলেন বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা মিঠু মুখোপাধ্যায়। আর সেই ছবির নাম 'আশ্রিতা'।
১৯৯০ সালে মুক্তি পায় চন্দ্র বারোট পরিচালিত 'আশ্রিতা'। কিন্তু এই ছবির পরিচালক প্রথমে চন্দ্র বারোট ছিলেন না। মিঠু বাধ্য হয়ে চন্দ্রকে নেন এবং শোনা যায় নায়িকার সঙ্গে সম্পর্কেও জড়িয়ে পরেন পরিচালক।
'আশ্রিতা' ছবির প্রথমে নাম ছিল 'রাঙা ভাঙা চাঁদ'। প্রতিভা বসুর গল্প নিয়ে ছবি করছিলেন এক স্বনামধন্য বাঙালি পরিচালক। মিঠুই প্রযোজক। মিঠু নায়িকা কুসুমের চরিত্রে। বিপরীতে ছিলেন ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে রাখী গুলজার, সন্তোষ দত্ত, রবি ঘোষের মতো অভিনেতারা। কিন্তু পরিচালকের সঙ্গে মতবিরোধ হওয়াতে ছবি বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে ততদিনে মিঠুর ক্যারিয়ারে ঢলতি দিক এসে গিয়েছে। মাঝে বলিউডে পাড়ি দিয়েছিলেন স্বয়ংসিদ্ধা। কিন্তু সেখানে বারবার পার্শ্বচরিত্রে কাস্ট হচ্ছিলেন মিঠু। এদিকে কলকাতা ফিরে এসে 'দুজনে','ভাগ্যচক্র','প্রার্থনা'র মতো কিছু ছবি করলেও সেসব ছবি মিঠুকে আগের জায়গা ফিরিয়ে দেয়নি। তখন টলিউডে শুরু হয়ে গিয়েছে মহুয়া রায়চৌধুরী, দেবশ্রী রায়দের যুগ।
'রাঙা ভাঙা চাঁদ' ছবির শুটিং বন্ধ হয়ে যেতে মিঠুর ফেরার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় তখন বম্বেতে থাকতেন মিঠু। অভিনেত্রীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠেছিল পরিচালক চন্দ্র বারোটের। ছ বছর পর 'রাঙা ভাঙা চাঁদ' ছবির কাজ আবার নতুন করে শুরু হয়। নাম বদলে হয় 'আশ্রিতা'। মিঠুর প্রযোজনায় চন্দ্র বারোট আসেন বাংলা ছবি করতে। এই প্রথম বাংলা ছবিতে আসা চন্দ্র বারোটের। যদিও এটিই তাঁর শেষ বাংলা ছবি। কাস্টিং বদলে গিয়ে মিঠুর বিপরীতে আসেন বম্বের কনওয়ালজিৎ। রাখীর জায়গায় অভিনয় করেন মিঠুর দিদি মঞ্জুলা দাস। এছাড়াও বম্বের প্রেমা নারায়ণ ও উৎপল দত্তের মেয়ে বিষ্ণুপ্রিয়া দত্ত ছিলেন কনওয়ালজিতের বান্ধবীর চরিত্রে। মনোজ মিত্র, বঙ্কিম ঘোষ, আলপনা গুপ্তর মতো দাপুটে অভিনেতারাও ছিলেন। বম্বের আরও কিছু তারকা ছিলেন এই ছবিতে।
লতা মঙ্গেশকর তিনটি গান গেয়েছিলেন 'আমি শুইনি সারা রাত', 'মা গো মা বল না' আর 'আজ নয় রাজা'। 'মা গো মা বলনা' দুই ম্যুডে দু বার। এই গানটির গীতিকার ছিলেন মিঠু মুখার্জী স্বয়ং। মিঠুর কথাতে গান গেয়েছিলেন লতা। সে গান আবার মিঠুর লিপে।
'আজ নয় রাজা' সবথেকে হিট করে। এই গানে লতার সঙ্গে গেয়েছিলেন লোকশিল্পী পঙ্কজ মিত্র।
'আমি শুইনি সারা রাত' লতার গানটা 'রাঙা ভাঙা চাঁদ' এ থাকলেও 'আশ্রিতা' ছবি থেকে বাদ পড়ে। কিশোর কুমারের গানটিও বেশ জনপ্রিয়তা পায় 'নীল নীল আকাশে'।

চন্দ্র বারোটের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন মিঠু। যদিও চন্দ্র বারোটের স্ত্রী হলেন অভিনেত্রী দীপা বারোট। 'আশ্রিতা'র পর মিঠু বিদায় নেন চলচ্চিত্র জগত থেকে। যদিও চন্দ্র বারোটের সঙ্গে মিঠুর সম্পর্কের গুঞ্জন থামেনি। রেকর্ড হিট করে ১৯৯০ সালে 'আশ্রিতা' ছবি। ঘরেঘরে ভিসিআর এনে 'আশ্রিতা' দেখত মানুষেরা। মিঠুর প্রযোজনায় চন্দ্র বারোট আর একটি বাংলা ছবি করবেন কথা হয়েছিল। কিন্তু সে ছবি আর শুরু হয়নি। শোনা যেত মিঠুর সঙ্গে নাকি চন্দ্র বারোট দীর্ঘ লিভ ইন সম্পর্কে ছিলেন। কিন্তু মিঠুর অন্তরাল জীবনের খবর পরে আর সামনে আসেনি।
আজ চন্দ্র বারোটের প্রয়াণে কী চোখের জল ফেলছেন 'মৌচাক' ছবির নায়িকা? মিঠুর মনের খবর যে জানা অসাধ্য। তবু 'আশ্রিতা' একটি মাত্র ছবি দিয়ে মিঠু আর চন্দ্র বাংলা ছবির ইতিহাসে রয়ে যাবেন।