ভালবাসায় পাগল মীনার পক্ষে ধর্মেন্দ্রর এই অবহেলা সহ্য করা সম্ভব ছিল না। একা বাড়িতে তিনি ধর্মেন্দ্রর ছেড়ে যাওয়া সব স্মৃতি খুঁজে বেড়াতেন।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 1 August 2025 17:44
'ডাকিছে দাদুরী মিলনতিয়াসে,
ঝিল্লি ডাকিছে উল্লাসে।
পল্লীর বধু বিরহী বঁধুরে
মধুর মিলনে সম্ভাষে।
আমারো যে সাধ বরষার রাত
কাটাই নাথের সাথে।—
নিদ নাহি আঁখিপাতে। ... '
মীনাকুমারী (Meenakumari) ছিলেন আবেগ ও সুষমাদীপ্ত অভিনয়ের ট্র্যাজেডি কুইন। রিল থেকে রিয়েল জীবনে ব্যর্থ প্রেমে শেষ হয় নায়িকার জীবন। বর, ঘর সব পেয়েও পাননি নিজের স্বাধীনতা। পরবর্তী জীবনে যে অসম বয়সী উদ্দাম প্রেম এসেছিল তাও নেভে প্রতারণায়। মীনাকুমারীর শেষ প্রেমিক ছিলেন ধর্মেন্দ্র (Dharmendra)। সেসময় হিম্যান ধর্মেন্দ্রর আশ্লেষে ডুব দেন মীনা। ওদিকে উঠতি অভিনেতা হিরো হতে মীনাকুমারীর আঁচলে বাঁধা পড়েন। এদিকে তখন ধর্মেন্দ্র বিবাহিত। খুব ছোট বয়সেই বিয়ে হয় ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে প্রকাশ কৌরের। কিন্তু দুই সন্তান স্ত্রী থাকার পরেও ধর্মেন্দ্র মীনাকুমারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন।

ধর্মেন্দ্রর আকর্ষণ ছিল মীনার প্রতি। কিন্তু সেটাকে ভালবাসা বলা যায় না। নিজের কেরিয়ারের উন্নতির জন্য ধর্মেন্দ্র মীনাকুমারীর সঙ্গে সহবাসে রাজি হয়ে যান। মীনা সেই মরীচিকাকেই ভালবেসে ফেলেন।
পরিচালক স্বামী কামাল আমরোহীর হাত ধরেই মীনার অভিনয় জীবনে উত্তরণ। আমরোহী মধুবালা সহ অনেক মহিলা সঙ্গে অভ্যস্ত ছিলেন। মীনাকুমারীর জীবনেও এসে পড়েন ধর্মেন্দ্র। আমরোহী শেষ অবধি মীনার সঙ্গে আলাদা থাকতে শুরু করেন। মীনার সেই একলা জীবনে ভরসা হয়ে ওঠেন ধর্মেন্দ্র।
মীনা নাকি নিজের ইচ্ছেমতো ধর্মেন্দ্রকে চালাতেন, আর ধর্মেন্দ্রর কাছে মীনাকুমারী ছিলেন উপরে ওঠার সিঁড়ি। সেই সঙ্গে, যুবক ধর্মেন্দ্রর পুরুষালি আকর্ষণও ছিল বয়সে অনেক বড় মীনার প্রেমে পড়ার বড় কারণ। পূর্ণিমা (১৯৬৫) থেকে বাহারোঁ কি মঞ্জিল (১৯৬৮), ৩ বছরে একাধিক ছবি করেছিল মীনা-ধর্মেন্দ্র জুটি।
মীনাকুমারীর সঙ্গে 'ফুল অউর পাত্থর' ছবি করেই ধর্মেন্দ্র প্রথম হিটের মুখ দেখেন। এক বিধবা আর এক চোরের সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হয়েছিল এই ছবি। মীনার হাত ধরেই সাফল্যের হদিশ পান ধর্মেন্দ্র।

বিবাহিত ধর্মেন্দ্র প্রকাশ্যে বলেছিলেন তিনি মীনাকুমারীকে বিয়ে করতে না পারলে আর কোনও নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়াবেন না। কিন্তু সেই ধর্মেন্দ্র মীনাকে ছেড়ে মন দেন হেমা মালিনীকে।
ভালবাসায় পাগল মীনার পক্ষে ধর্মেন্দ্রর এই অবহেলা সহ্য করা সম্ভব ছিল না। একা বাড়িতে তিনি ধর্মেন্দ্রর ছেড়ে যাওয়া সব স্মৃতি খুঁজে বেড়াতেন।
'আশায় আশায় তবু এই আমি থাকি
যদি আসে কোনও দিন সেই সুখ পাখি
এই চেয়ে থাকা আর প্রাণে সয় না
সবাই তো সুখী হতে চায়
তবু কেউ সুখী হয় কেউ হয়না...'
না ঘরছাড়া পাখি আর ঘরে ফেরেনি। বসল গিয়ে অন্য গাছের ডালে। ক্রমশ সুরাপ্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন। মীনা বন্ধ করে দেন নিজের মনের দরজা। চোখের জল আর মদ ছিল তাঁর শেষ সম্বল। ঠিক যেন সেই 'সাহেব বিবি গোলাম' ছবির পটেশ্বরী ছোট বৌয়ের। নায়িকার জীবন নিভেছিল অকালেই। হেমার সঙ্গে ঘর বাঁধেন ধর্মেন্দ্র। মীনার জন্য পড়ে থাকে শুধু চোখের জল। জীবন নেভে নায়িকার অকালেই।