রবিবার থেকে শুরু হওয়া জেন জি প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ সোমবার হঠাৎই রূপ নেয় হিংসাত্মক সংঘর্ষে। পার্লামেন্ট চত্বরে ঢুকে পড়েন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ।

মনীষা কৈরালা
শেষ আপডেট: 9 September 2025 18:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালে তুমুল অশান্তি (Nepal Clash) ঘিরে ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা (Manisha Koirala)। প্রতিবেশী দেশে চলমান বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন ইতিমধ্যে। তাছাড়া আহত হয়েছেন আড়াইশোর মতো মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে বলিউড অভিনেত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর প্রতিক্রিয়া জানালেন। বললেন, ‘‘আজ নেপালের কালো দিন (Black Day for Nepal)। যখন দুর্নীতি বিরোধী স্লোগান ও ন্যায়ের দাবির জবাব গুলি দিয়ে দেওয়া হয়, তখন সেটাই দেশের জন্য কালো অধ্যায় হয়ে থাকে।’’

মনীষা নিজের পোস্টে একটি রক্তমাখা জুতোর ছবি শেয়ার করেছেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের কণ্ঠস্বর দমন করতে রক্তপাত কোনও দিনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
রবিবার থেকে শুরু হওয়া জেন জি প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ সোমবার হঠাৎই রূপ নেয় হিংসাত্মক সংঘর্ষে। পার্লামেন্ট চত্বরে ঢুকে পড়েন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা নামানো হয় রাজধানী কাঠমান্ডুতে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একাধিক শহরে জারি হয় কার্ফু। কাঠমান্ডুর পাশাপাশি যার মধ্যে রয়েছে বিরগঞ্জ, ভৈরহাওয়া, বুটওয়াল, পোখরা, ইটাহারি ও দামাকে। এই ঘটনার দায় স্বীকার করে ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক।
ওলি সরকারের সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। অনলাইনে শুরু হলেও মুহূর্তে রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী।
বস্তুত, প্রত্যাশা মতোই মঙ্গলবারেই ইস্তফা দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। জেন জির দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার বিরোধী আন্দোলনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তারপরই একের পর এক মন্ত্রীরা পদত্যাগ করতে শুরু করেন। বিরোধী দলও তাঁর পদত্যাগ দাবি করে।
অন্যদিকে, এদিনই সকালে নেপালে ‘জেন জি’ (Gen G) প্রজন্মের প্রবল সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল অবস্থায় পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সর্বদল বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় ওই বৈঠক হবে বলে স্থির হয়েছিল। আর তাতেই বিভিন্ন মহলে তাঁর সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়েছিল। তিনিও শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মতো দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন বলে সংবাদ মহলে খবর ছড়িয়েছে।