
শেষ আপডেট: 20 April 2022 14:38
গ্যাংস্টারের সঙ্গে অ্যাফেয়ার থেকে দুবাইয়ে দাউদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত, এসব বিতর্কে নাম জড়িয়েছিল নায়িকার। সিনে পত্রিকা গুলিতে জল্পনা-কল্পনা কম হয়নি নায়িকার যৌন জীবন নিয়ে। এরপর দীর্ঘ দশক লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান তিনি।
আশির দশকে ঝড়তোলা সেই নায়িকার নাম মন্দাকিনী (Mandakini)। ১৯৮৫ সালে রাজ কাপুরের ‘রাম তেরি গঙ্গা মাইলি’ (Ram Teri Ganga Maili) ছবির মাধ্যমে মাত্র ১৮ বছর বয়সে অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন বিড়াল চোখের মন্দাকিনী। রাজ কাপুরের প্রযোজনা ও পরিচালনায় রাজীব কাপুরের বিপরীতে অভিনীত ছবি মন্দাকিনীকে ব্যাপক সাফল্য এনে দিয়েছিল। শুধু নায়িকা নয়, শুরুতেই 'যৌনদেবী' তকমা সেঁটে যায় মন্দাকিনীর গায়ে।

রাজ কাপুর তাঁর ছোট ছেলে রাজীব কাপুরের ডেব্যু সিনেমা জন্য যখন নায়িকা খুঁজছিলেন ঠিক সেই সময় পরিচালকের নজরে পড়েন ব্রিটিশ ও কাশ্মীরি বংশোদ্ভুত ১৮ বছরের মেয়েটি। রাজ কাপুরই তাঁর নাম দেন মন্দাকিনী (Mandakini)। আসল নাম ইয়াসমিন জোসেফ।
ওই সিনেমায় রাজ কাপুরের ছেলে সেভাবে দর্শকের মন জিততে না পারলেও, সুপারহিট নায়িকা হয়ে যান মন্দাকিনী। বিশেষ করে ঝর্ণার নীচে ফিনফিনে সাদা শাড়ি পরে স্নান করতে করতে মন্দাকিনীর নাচের দৃশ্য সেইসময়ের আপামর দর্শকমহলে ঝড় তোলে। সিনেমা সুপারহিট হওয়ার পাশাপাশি সবেমাত্র সাবালিকা হওয়া মন্দাকিনীর অর্ধনগ্ন দৃশ্য তুমুল বিতর্কও সৃষ্টি করেছিল।

তারপর বহু ছবি যেমন করেছেন, তেমনই নানা বিতর্কেও জড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু নয়ের দশক থেকেই কমতে থাকে তাঁর ছবির সংখ্যা। নাম জড়ায় বিতর্কে। একরকম বিতর্ক থেকে বাঁচতেই বিয়ে করে নেন মন্দাকিনী। দীর্ঘ সময় রুপোলি পর্দা শুধু নয়, জনসমক্ষ থেকেও দূরে ছিলেন অভিনেত্রী। আড়াল হওয়ার ২৬ বছর পরে কামব্যাক করতে চলেছেন সেই ঝড়তোলা কন্যে।

‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’ ছবির পর মন্দাকিনী আরও বেশ কয়েকটি ছবি করেন, যেগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল সঞ্জয় দত্তের বিপরীতে ‘জিবা’। মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে ‘ডান্স ডান্স’ ছবিতেও দেখা যায় তাঁকে। 'তেজাব' ছবিতে তিনি ছিলেন স্পেশাল অ্যাপিয়ারেন্সে। জং বাজ, শেষ নাগ, কম্যান্ডো, পেয়ারকা সওদাগর-- পরের পর ছবি করেন তিনি।

শুধু তাই নয়, আমাদের বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও অভিনয় করতে এসেছিলেন মন্দাকিনী। তাপস পালের বিপরীতে 'অন্তরের ভালবাসা' ছবিতে নায়িকা হন তিনি। ১৯৯১ সালে ব্যাপক হিট করে এই বাংলা ছবি। মন্দাকিনীর লিপে হিট হয়েছিল বাপ্পি লাহিড়ির সুরে লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া গান, 'তোমার আমার ভালবাসা স্বপ্ন রঙিন এক আশা, এ যে অন্তরের ভালবাসা'। আইকনিক এ গানের লাইন সে যুগে প্রেমপত্রে লিখত প্রেমিক-প্রেমিকারা।
মিঠুনের বিপরীতেও বাংলা ছবি 'অন্ধ বিচার' করেন মন্দাকিনী। শক্তি সামন্তর ডবল রোল ছিল ছবিটিতে। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল মন্দাকিনীর শেষ হিন্দি ছবি।

এই গোটা সময়ে বারবারই বড় বড় বিতর্কে জড়িয়েছে সুন্দরী নায়িকার নাম। মন্দাকিনীর সঙ্গে মুম্বইয়ের ডন দাউদ ইব্রাহিমের সম্পর্কের কথা বিভিন্ন জায়গায় চাউর হতে শুরু করে সেই সময়ে। কিন্তু সেই সম্পর্কের কথা নিজের মুখে কখনওই স্বীকার করেননি মন্দাকিনী। তবে দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে যে তিনি দেখা করতে যান, সেই ঘটনাটি মেনে নিয়েছিলেন অভিনেত্রী।

মারফি রেডিওর বিজ্ঞাপনের সেই শিশুশিল্পীকে মনে পড়ে? তিনিই মন্দাকিনীর স্বামী। ১৯৯০ সালে মারফি রেডিয়োর বিজ্ঞাপনের শিশুশিল্পী কাগুরকে বিয়ে করেন তিনি। মন্দাকিনীর স্বামী বর্তমানে ডাঃ কাগুর পি রিনপোচ ঠাকুর। স্ত্রীর সঙ্গে দাউদের যোগ মিডিয়ার কাছে সবসময় অস্বীকার করেছেন কাগুর। তিনি স্ত্রীর চরিত্রের কালো দিকের প্রভাব তাঁদের সংসার জীবনে নিয়ে আসতে চাননি। ডাঃ কাগুর মন্দাকিনীকে দিয়েছেন সুন্দর ও নিরাপদ জীবন। দলাই লামার শিষ্য তাঁরা দু'জনেই।

কাগুরকে বিয়ে করার পর বৌদ্ধ ধর্মালম্বী হয়ে যান নায়িকা। তিব্বতে যোগা ক্লাস নিতে শুরু করেন তিনি। দুই ছেলে মেয়ে ও বউমাকে নিয়ে সুখে সংসার করেছেন রাম তেরি গঙ্গা মইলির (Ram Teri Ganga Maili) নায়িকা। এই গোটা সময়ে মিডিয়ার হাতছানি থেকে দূরে ছিলেন অভিনেত্রী। ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলেও তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা এত কম ছিল, মনেই হতো না তিনি সেই এক সময়ের ঝড় তোলা নায়িকা। সে যাই হোক না কেন, মন্দাকিনী আজও সুন্দর।

প্রায় ২৬ বছর পর কামব্যাক করতে চলেছেন মন্দাকিনী। পরিচালক সাজন আগ্ররওয়াল তাঁকে ফিরিয়ে আনছেন। তবে ছবি নয়, এটি একটি মিউজিক ভিডিও। এই মিউজিক ভিডিওতে তাঁর সঙ্গে দেখা যাবে নিজের ছেলে রাবিল ঠাকুরকে। মিউজিক ভিডিওটির শিরোনাম ‘মা ও মা’। মা ও ছেলের মিষ্টি সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হয়েছে এই মিউজিক ভিডিও।

এই প্রসঙ্গে মন্দাকিনী বলেন, 'মা ও মা গানটি খুব সুন্দর। সব থেকে ভাল ব্যাপার হল, এই গানে প্রধান ভূমিকায় থাকছি আমি ও আমার ছেলে।' এটি মন্দাকিনীর ছেলে রাহুলের ডেবিউ কাজ হতে চলেছে। ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন সাজন আগরওয়াল।

পরিচালকের কথায়, 'মন্দাকিনী আর আমার জন্মস্থান একই জায়গায়। আমরা দুজনেই মীরাটের। তাই ওঁর সঙ্গে কাজ করে দারুণ লাগছে। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার, আমি, মন্দাকিনী ও তাঁর ছেলে একসঙ্গে কাজ করতে পারছি।' মন্দাকিনী জানিয়েছেন, 'অনেকদিন ধরেই সাজনকে চিনি। প্ল্যানও করছিলাম বেশ কয়েকদিন ধরেই। তবে শেষমেশ কাজটা হল।'

‘মা ও মা’ গানটির সুর করেছেন বাবিল হক ও মীরা। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন ঋষভ গিরি। সজন আগরওয়াল শুধু গানটি পরিচালনাই নয়, গানটি লিখেওছেনও তিনি। সাজনের লেখা একটি শর্ট ফিল্মেরও অংশ হবেন মন্দাকিনী। মন্দাকিনীর কামব্যাক নিয়ে রীতিমতো উচ্ছসিত ভারতবাসী।
শুধু কাজ নয়, আমি যেন বয়াই হয়ে গেছিলাম, প্রাণ পেয়েছিল চরিত্র: চিত্রা সেন