
শেষ আপডেট: 29 July 2023 15:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও এক মাসও হয়নি জি বাংলায় শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক 'কার কাছে কই মনের কথা' (Kar kache koi moner kotha)। শুরু হতে না হতেই দর্শকদের চর্চায় চলে এসেছে এই ধারাবাহিক। 'ধূলোকণা'র পর 'কার কাছে কই মনের কথা' দিয়েই ফের ছোটপর্দায় ফিরলেন মানালি। তবে শুধু মানালিই নয়, পাশাপাশি, স্নেহা চট্টোপাধ্যায়, বাসবদত্তা সহ আরও একাধিক অভিনেত্রীকে দীর্ঘদিন পর এই ধারাবাহিকে দেখা যাচ্ছে একই ফ্রেমে।
সম্প্রতি এই ধারাবাহিকে শিমূল ওরফে মানালির ফুলশয্যার পর্ব ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ার নেটিজেনরা একরকম দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। সেই পর্বে দেখানো হয়েছিল শিমূলের শাশুড়ি এসে ছেলের ফুলশয্যার খাটে শুয়ে পড়েছেন ছেলের সঙ্গে, অন্যদিকে সোফায় রাত কাটাতে হচ্ছে শিমূলকে। অনেকেই যেমন এই দৃশ্য দেখে মায়ের চরিত্রকে কেন এতটা নিকৃষ্ট দেখানো হবে সে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তেমনই অন্যদিকে মহিলা দর্শকদের একটি বড় অংশের মতে, এমন ঘটনা বাস্তবেও ঘটে থাকে।
সেই বিতর্ক মিটতে না মিটতেই এবার ফুলশয্যা পরবর্তী দৃশ্যও উঠে এল চর্চায়। স্ত্রী-র সঙ্গে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক গড়তে চাওয়া শিমূলের স্বামী পলাশের চরিত্রটিও যেন গড়পড়তা মধ্যবিত্ত ভীরু অথচ পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার স্বামীর নিখুঁত প্রতিচ্ছবি, মন্তব্য দর্শকদের। একই দৃশ্যে শিমূল ওরফে মানালির এই গার্হস্থ্য হিংসার প্রতিবাদও প্রশংসা কুড়িয়েছে দর্শকদের তরফে।
ফুলশয্যার পরে অষ্টমঙ্গলার পালা। কিন্তু তাতেও শিমূলকে বাপের বাড়ি যেতে দিতে চায় না শাশুড়ি। শিমূল অবশ্য আর মুখ বুজে থাকেনি, কারও তোয়াক্কা না করেই জানায়, পরাগ না গেলে না যাক, সে সে বাপের বাড়ি যাবেই। তার পরে যাও বা বাড়ি আসা হল, শিমূলের বন্ধুদের হইহইয়ের মাঝে পরাগ আর এক কৃপণতা করে বসল। সিনেমা দেখতে সে কিছুতেই যাবে না। অবশেষে শিমুলই নিজে ৫ হাজার টাকা বরের হাতে দিয়ে সিনেমা দেখতে যেতে রাজি করাল তাকে।
এর পরেই আসল ঘটনা। রাতের বেলা অনেক দেরি করে ঘরে আসে শিমূল, এদিকে বৌকে কাছে পাবে ভেবে অপেক্ষা করা পরাগের মেজাজের পারদ চড়ে গেছে। শিমূলের অবশ্য তাতে বয়ে গেছে, সে মনে করিয়ে দেয়, ফুলশয্যার রাতে তার অপেক্ষা নষ্ট করেছিলেন শাশুড়ি।
এর পরেও পরাগ শরীরিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতে এলে শিমূলের সপাট জবাব, ‘মন ছাড়া শরীর পাওয়া যায় না… আর তুমি যা অসভ্যতাটা করে চলেছো এরপর আস্তে আস্তে আমার মনটাই মরে গেছে। এরপর না পাবে আমার মন, না পাবে আমার শরীর।' শিমূল স্পষ্ট করে দেয়, পরাগ যতই ‘পুরুষ সিংহ’ হোক, অধিকার ফলাতে সে দেবে না। বলে দেয়, ‘তুমি আমার সঙ্গে যেমন ব্যবহার করবে, আমিও সেই ব্যবহার ফিরিয়ে দেব।’
যেখানে আগের দিন মা ফুলশয্যার ঘরে ঢুকে অসুখের বাহানায় শুয়ে পড়ার পরেও মুখ থেকে একটি বাক্যও খসায়নি পলাশ, সেখানে পরের দিন কোন অধিকারে সে স্বামীত্ব ফলাতে চায়? প্রশ্ন তোলে শিমূলরূপী মানালির। অভিনেত্রীর এই সংলাপ যেন সেই হাজার হাজার নারীর মনের কথা যারা প্রতিদিন বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার। পর্দার শিমূল মনের কথা বলবার মতো সঙ্গী পেলেও, তাঁদের জীবনে সেই একই প্রশ্ন, 'কার কাছে কই মনের কথা।'
ফুলশয্যায় ছেলের সঙ্গে মা! বাস্তবেও নাকি এমন হয়, বাংলা সিরিয়াল নিয়ে দু’ভাগ দর্শকরা