ভোপালের নয়া পুরা এলাকার এই জমি দীর্ঘদিন ধরেই আইনি জটিলতায় আটকে ছিল। ১৯৯৮ সালে আকিল আহমেদ ও তাঁর সহযোগীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে দাবি করেন, ১৯৩৬ সালে ভোপালের তৎকালীন শাসক নবাব হামিদুল্লাহ খান তাঁদের পূর্বপুরুষদের এই জমি দান করেছিলেন।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 13 January 2026 15:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সইফ আলি খান, তিনি নবাব পুত্র। পতৌদি প্রাসাদের রাজপুত্র। তবে সম্পত্তির বেশ কিছুটা অংশ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছিল গোটা পরিবার। প্রায় সাড়ে ষোলো একর জমি হাতের বাইরে চলে যেতে বসেছিল এই পরিবারের। এই নিয়ে দীর্ঘ পঁচিশ বছরের আইনি টানাপড়েনের অবসান ঘটাল ভোপালের জেলা আদালত। মধ্যপ্রদেশের ভোপালে অবস্থিত ১৬.৬২ একর বিতর্কিত জমি সংক্রান্ত মামলায় চূড়ান্ত রায়ে জয়ী হলেন বলিউড অভিনেতা তথা পতৌদির নবাব সইফ আলি খান, তাঁর মা শর্মিলা ঠাকুর এবং দুই বোন। শুক্রবার আদালতের রায়ে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, জমির মালিকানা নিয়ে ওঠা সব দাবিই ভিত্তিহীন, ফলে মামলাটি খারিজ করা হয়।
ভোপালের নয়া পুরা এলাকার এই জমি দীর্ঘদিন ধরেই আইনি জটিলতায় আটকে ছিল। ১৯৯৮ সালে আকিল আহমেদ ও তাঁর সহযোগীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে দাবি করেন, ১৯৩৬ সালে ভোপালের তৎকালীন শাসক নবাব হামিদুল্লাহ খান তাঁদের পূর্বপুরুষদের এই জমি দান করেছিলেন। সেই দাবি তুলে ধরেই তাঁরা জমির উপর অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
তবে মামলার দীর্ঘ শুনানিতে সেই দাবি গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলাকারীরা তাঁদের দাবির সমর্থনে কোনও নির্ভরযোগ্য নথি বা প্রামাণ্য দলিল পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। পাশাপাশি, প্রায় ছয় দশক পরে এই মামলা দায়ের করার বিষয়টিকেও গুরুতর বিলম্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই মামলার বিচারক স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, জমির মালিকানা প্রমাণের মতো কোনও সরকারি রেকর্ড, দলিল বা আইনি নথি প্রতিপক্ষের তরফে উপস্থাপন না করার ফলে দাবি ভিত্তিহীন হয়ে যায়।
এই রায়ের ফলে ঐতিহাসিকভাবে ভোপালের প্রাক্তন রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত ১৬.৬২ একর জমির উপর পতৌদি পরিবারের উত্তরাধিকারী অধিকার পুনরায় স্বীকৃতি পেল। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের ইতি। সইফ আলি খান ও তাঁর পরিবারের কাছে নিঃসন্দেহে এক বড় স্বস্তির খবর। যদিও এই মর্মে পতৌদি পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও তথ্য সামনে আনা হয়নি, তবে এই জাটিলতা চলার ফলে উক্ত জমিতে কোনও প্রকার কাজ করতে পারছিলেন না তাঁরা। সম্পত্তি মামলার জেরে আটকে পড়েছিল। বর্তমানে যা তাঁদের দখলেই রয়ে গেল।