ইমারর্জেন্সির সময় কেন্দ্রীয় সরকার থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পঙ্কজকুমার মল্লিকের সংগীত পরিচালনায় আকাশবাণীর 'মহিষাসুরমর্দিনী'র বদলে এবার শোনা যাবে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সংগীত পরিচালনায় 'দেবী দুর্গতিহারিণীম'।

গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 20 September 2025 20:13
'বাজল তোমার আলোর বেণু' (Bajlo Tomar Alor Benu) যে গান দিয়েই হয় দেবীপক্ষের সূচনা। এই গান যেন বাংলা সংস্কৃতিতে এক নবজাগরণ। যাঁর কণ্ঠে এই গান আইকনিক তিনি কিংবদন্তি শিল্পী সুপ্রীতি ঘোষ ( Supriti Ghosh) । এই একটি গান দিয়েই তিনি চিরকাল কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন। কিন্তু নানা ধারার গানে সুপ্রীতি ঘোষ ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। অথচ তাঁর অন্যদিকগুলো আলো পায়নি। দ্য ওয়াল 'মহালয়া আড্ডা'য় এলেন সুপ্রীতি ঘোষ কন্যা চৈতী চট্টোপাধ্যায়। কেমন ভাবে তৈরি হয়েছিল আকাশবাণীর 'মহিষাসুরমর্দিনী' থেকে সুপ্রীতি ঘোষের অন্যদিকগুলো সেভাবে আলো পেল না, সেই নিয়েও অকপটে কথা বললেন তাঁর কন্যা চৈতী চট্টোপাধ্যায়।

এভাবেই গল্পে গল্পে উঠে এল ১৯৭৬ সালের ঘটনা। যে বছর মহালয়ার ভোরে 'বাজল তোমার আলোর বেণু' বাজল না, বাজানো হল বম্বের লতা মঙ্গেশকর থেকে আশা ভোঁসলের দুর্গা বন্দনা। পুরনো মহালয়ার অনুষ্ঠানকে সরিয়ে আনা হল নতুন অনুষ্ঠানকে। নতুনে একেবারেই ডাক পেলেন না সুপ্রীতি ঘোষ। যাতে আরও আঘাত পেলেন শিল্পী। সেই আঘাতের সুর উঠে এল সুপ্রীতি কন্যা চৈতী চট্টোপাধ্যায়ের কথায়।
চৈতী দেবী নবনালন্দা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষিকা। আজও তিনি গানের চর্চা করেন। তাঁর স্বামী আশিস চট্টোপাধ্যায় বেসরকারী কোম্পানিতে উচ্চপদস্থ কাজ করার পাশাপাশি ছিলেন গুণী গীতিকার। পাশাপাশি অভিনয়েও দেখা মিলত তাঁর। নয়ের দশক জুড়ে বিজ্ঞাপনের চেনা মুখ ছিলেন তিনি।
'মহিষাসুরমর্দিনী'র বদলে 'দেবী দুর্গতিহারিণীম' অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হল ১৯৭৬ সালে। ইমারর্জেন্সির সময় কেন্দ্রীয় সরকার থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পঙ্কজকুমার মল্লিকের সংগীত পরিচালনায় আকাশবাণীর 'মহিষাসুরমর্দিনী'র বদলে এবার শোনা যাবে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সংগীত পরিচালনায় 'দেবী দুর্গতিহারিণীম'। নতুন অনুষ্ঠানে শোনা গেল না বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর চণ্ডীপাঠ। তাঁর জায়গায় এলেন উত্তমকুমার থেকে বসন্ত চৌধুরীরা। বাদ গেল 'বাজল তোমার আলোর বেণু'। এমনকি নতুন প্রভাতী গীতিআলেখ্যতে নতুন গান গাইতেও ডাক পেলেন না সুপ্রীতি ঘোষ?
চৈতী চট্টোপাধ্যায়ের কথায় ' মা খুব আঘাত পেয়েছিলেন। বলেছিলেন এই বদল হবে হেমন্ত একবার আমায় বলল না। এমনকি নতুন অনুষ্ঠানে অন্য কোনও গান গাইতেও হেমন্ত আমাকে ডাকল না। অথচ মায়ের সঙ্গে অজস্র বার রবীন্দ্রনাথের গান গেয়েছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। 'চণ্ডালিকা' তে প্রকৃতির মা সুপ্রীতি ঘোষ আর বুদ্ধ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।'

চৈতী দেবী আরও বললেন 'যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় স্ট্রাগল করছেন তখন ওঁর পাশে আমার মা ছিলেন। মায়ের কাছে গল্প শুনেছি তখন মা অনেক গানের টিউশনি করতেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আমাদের এই বাড়ির দরজায় এসে সাইকেল চড়ে বলতেন "কী সুপ্রীতি তোমার স্টুডেন্টদের থেকে আমায় কিছু দাও!"
শুনলেই যা রোমাঞ্চ লাগে। তখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় স্ট্রাগল করছেন। তখন থেকে মায়ের সঙ্গে ওঁর বন্ধুত্ব। তারপর তো বম্বে গিয়ে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সংগীত পরিচালক থেকে সফল প্রযোজকও হয়ে গেলেন। কিন্তু 'মহিষাসুরমর্দিনী' বদলে মা দুঃখ তো অবশ্যই পেয়েছিলেন। শ্রোতাদের বিপুল চাহিদায় পরের বছর আবার 'মহিষাসুরমর্দিনী' বাজাতে বাধ্য হয় আকাশবাণী।'
চৈতী চট্টোপাধ্যায়ের সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকার দেখুন লিঙ্ক থেকে