দর্শকের ধৈর্য পরীক্ষা নেওয়ার পর অবশেষে যেন একসঙ্গে দু’টি খবর এসে পড়ল টেলিভিশনের দরজায়। গত সপ্তাহের টিআরপি এল দেরিতে—সোমবারে প্রকাশ পেল ২০২৬ সালের প্রথম রেটিং।

শেষ আপডেট: 22 January 2026 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দর্শকের ধৈর্য পরীক্ষা নেওয়ার পর অবশেষে যেন একসঙ্গে দু’টি খবর এসে পড়ল টেলিভিশনের দরজায়। গত সপ্তাহের টিআরপি এল দেরিতে—সোমবারে প্রকাশ পেল ২০২৬ সালের প্রথম রেটিং। ঠিক সেই রেশ কাটতে না কাটতেই, কয়েক দিনের ব্যবধানে হাজির হয়ে গেল নতুন বছরের দ্বিতীয় সপ্তাহের ফলাফল। আর এই হঠাৎ-হঠাৎ আসা সংখ্যার খেলায় সবচেয়ে বড় হাসিটা ফুটেছে একটাই মেগার দর্শকদের মুখে—পরশুরাম আজকের নায়ক আবারও ফিরেছে শীর্ষাসনে। (Bengali TRP 2025, TRP Chart, TRP Bengali Serial)
৭.৩ রেটিং নিয়ে ফের এক নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে তৃণ-ইন্দ্রজিৎ জুটির এই ধারাবাহিক। যেন হারিয়ে যাওয়া রাজ্য আবার দখল করে নেওয়ার আনন্দ—পরশুরামের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে সপ্তাহের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্ত। তার ঠিক পেছনেই, মাত্র সামান্য ব্যবধানে, ৭.১ রেটিং নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্বস্তিকা দত্তের ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’। বিদ্যার বুদ্ধিদীপ্ত যাত্রা থামেনি, শুধু এই সপ্তাহে তাকে এক ধাপ নীচে নামতে হয়েছে।
শীর্ষ দু’য়ের এই টানাড়েনের মাঝেও নিজের জায়গা শক্ত করে ধরে রেখেছে ‘পরিণীতা’। স্লট হারালেও, দর্শকের ভালবাসা হারায়নি—৬.৯ রেটিং নিয়ে তৃতীয় স্থানটি অটুট রেখেছে এই মেগা। চতুর্থ স্থানে রয়েছে ‘রাঙামতি তীরন্দাজ’, যার কাহিনি এখন এমন এক মোড়ে পৌঁছেছে, যেখানে বাস্তবের সঙ্গে কল্পনার সীমানা মুছে গিয়ে গল্পে ঢুকে পড়েছে এলিয়ন পর্যন্ত। অবাক করা হলেও, ৬.৬ রেটিং বলছে—দর্শক আপাতত এই সাহসী পরীক্ষায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন না।
এই সপ্তাহের আর এক উল্লেখযোগ্য লড়াই পঞ্চম স্থানে। মাত্র ০.১ পয়েন্টের ব্যবধানে ‘রাঙামতি’র কাছে স্লট হারিয়েছে ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’। ৬.৫ রেটিং নিয়ে এই ধারাবাহিক ধীরে, স্থির পায়ে এগোচ্ছে সামনে। পল্লবী শর্মার মেগা এই সপ্তাহে সেরা পাঁচে ঢুকে পড়েছে, আর ইঙ্গিত স্পষ্ট—আগামী কয়েক সপ্তাহে হয়তো স্লটের ছবিটাও বদলে যেতে পারে।
ছয় নম্বরে উঠে এসেছে ‘চিরসখা’। ৬.১ রেটিং নিয়ে শুধু তালিকায় নয়, স্লটের দখলেও পরিবর্তন এনেছে এই মেগা—জোয়ার ভাঁটাকে পিছনে ফেলে দিয়েছে সে। সেই ধাক্কা সামলাতে না পেরে জোয়ার ভাঁটা নেমে এসেছে ৫.৮ রেটিং নিয়ে, তালিকার নীচের দিকে। তার ঠিক এক ধাপ উপরে, ৫.৯ রেটিং নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে ‘আমাদের দাদামণি’, যে কিনা এই সপ্তাহে বিদ্যা ব্যানার্জির কাছে স্লট হারিয়েছে।
তালিকার নীচের দিকে ছবিটা আরও কড়া। ‘লক্ষ্মী ঝাঁপি’র নম্বর এই সপ্তাহে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ৫.৭-এ। মাত্র ০.১ পয়েন্টের ব্যবধানে স্লট হাতছাড়া হয়েছে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ওয়ান অফ দ্য সেনসেশনাল হিরো’ তকমা পেলেও, টিআরপি তালিকায় সে আবারও দশ নম্বরেই থেমে রইল—৫.৬ রেটিং নিয়ে, ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’-র সঙ্গে যুগ্মভাবে।
সব মিলিয়ে এই সপ্তাহের সেরা দশের ছবিটা এমনই—শীর্ষে পরশুরাম (৭.৩), তার পরেই প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি (৭.১), পরিণীতা (৬.৯), রাঙামতি তীরন্দাজ (৬.৬), তারে ধরি ধরি মনে করি/ও মোর দরদিয়া (৬.৫), চিরসখা (৬.১), আমাদের দাদামণি (৫.৯), জোয়ার ভাঁটা (৫.৮), লক্ষ্মী ঝাঁপি (৫.৭) এবং চিরদিনই তুমি যে আমার/বেশ করেছি প্রেম করেছি (৫.৬)।
এর বাইরেও সপ্তাহটি ছিল কিছু আলাদা হিসেবের সাক্ষী। এই সময়েই প্রকাশ পেয়েছে জোয়ার ভাঁটার পিঠেপুলি উৎসব স্পেশালের রেটিং—৫.৩। নন-ফিকশনের ময়দানে ‘দিদি নম্বর ১ সানডে ধামাকা’ পেয়েছে ৪.৫, আর ‘সারেগামাপা’ একটু এগিয়ে ৪.৮-এ থেমেছে।
সংখ্যাগুলো শেষ পর্যন্ত শুধু সংখ্যা নয়—এগুলো দর্শকের নিঃশ্বাস, অভ্যাস আর আবেগের মানচিত্র। কোথাও প্রত্যাবর্তনের উল্লাস, কোথাও ধীরে এগোনোর আশা, কোথাও আবার স্লট হারানোর নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস। ২০২৬-এর দ্বিতীয় সপ্তাহের টিআরপি সেই কারণেই শুধু একটি তালিকা নয়—এ এক চলমান গল্প, যেখানে প্রতি সপ্তাহে বদলে যায় নায়ক, বদলে যায় ভাগ্য, কিন্তু দর্শকের চোখ থেকে গল্পের প্রতি টান এক মুহূর্তের জন্যও সরে যায় না।