
অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান।
শেষ আপডেট: 17 May 2024 17:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে মুম্বইয়ে হোর্ডিং ভেঙে পড়ে মামা ও মামির মৃত্যু। অন্যদিকে, আগামিকাল, শনিবার জন্মভিটে গোয়ালিয়রে চান্দু চ্যাম্পিয়ন ছবির ট্রেলার মুক্তি। এই দুইয়ের টানাপড়েনে রয়েছেন বলি অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান। শুক্রবার ঘাটকোপরে হোর্ডিং দুর্ঘটনায় মৃত সদ্য অবসরপ্রাপ্ত মুম্বই এটিসি জিএম মনোজ চাঁসোরিয়া (৬০) এবং তাঁর স্ত্রী অনিতার (৫৯) দেহ উদ্ধার হয়। তাঁরা সম্পর্কে কার্তিক আরিয়ানের মামা ও মামি। এদিন শোকবিহ্বল অভিনেতা মামা-মামির শেষকৃত্যে অংশ নিলেও আগামিকাল ট্রেলার মুক্তির অনুষ্ঠান নিয়ে সন্দেহ দানা পাকাচ্ছে।
একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে আঘাত পেলেও কাল চান্দু চ্যাম্পিয়নের ট্রেলার মুক্তির অনুষ্ঠান বাতিল করতে রাজি নন। তাঁর নিজের শহর গোয়ালিয়রে এই অনুষ্ঠানটি হবে। এদিন কার্তিক নিজেও ট্রেলার মুক্তি নিয়ে একটি এক্স পোস্ট করেন।
সেখানে তিনি লিখেছেন, আমার কেরিয়ারের সব থেকে গর্বের মুহূর্ত চান্দু চ্যাম্পিয়নে অভিনয় করা। ভারতীয় সেনার এক গরিমান্বিত জওয়ানের ভূমিকায় অভিনয় করা গর্বের বিষয়। সঙ্গে আরিয়ান ৮ মিনিটের যুদ্ধের সিঙ্গল টেক থেকে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেই ছবিতেও লেখা আছে আগামিকাল ট্রেলার প্রকাশ হবে।
The proudest moment of my career so far- playing a soldier of the Glorious Indian Army, one of the many facets of Chandu Champion’s life !!
— Kartik Aaryan (@TheAaryanKartik) May 17, 2024
Glimpse of the 8 min long single take War Sequence.
Salute to the Indian Armed Forces ! #ChanduChampion ????????????????
Trailer out tomorrow ????????… pic.twitter.com/ri1cJSlw7X
নির্মাতা সংস্থার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, কার্তিক বুঝতে পারছেন এই ছবির পিছনে তাঁর দীর্ঘ ৩ বছরের কঠোর পরিশ্রম রয়েছে। শুধু তাঁর নয়, গোটা ইউনিট হাড়ভাঙা খাটনি খেটেছে। সেখানে তাঁর ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তকে প্রাধান্য দিতে চাইছেন না নায়ক। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তিনিও চাইছেন কাল ট্রেলার মুক্তি পাক।
প্রসঙ্গত, মুম্বইয়ে হোর্ডিং ভেঙে পড়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার এক দম্পতির দেহ উদ্ধার হয়। যা নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬। গত সোমবার মুম্বইয়ের ঘাটকোপরের ছেড়ানগরে আড়াইশো টন ওজনের বিশাল একটি হোর্ডিং ঝড়বৃষ্টিতে জনবহুল এলাকার উপর ভেঙে পড়ে। প্রায় ১০০ জনের মতো তার নীচে চাপা পড়ে যান।
কার্তিকের মামা মনোজ ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ম্যানেজার। তাঁরা ১০০ ফুট হোর্ডিংয়ের নীচে চাপা পড়া গাড়ির মধ্যে ছিলেন। চাঁসোরিয়া গত মার্চেই মুম্বই এটিসির জেনারেল ম্যানেজার পদ থেকে অবসর নেন। অবসরের পর জব্বলপুরে চলে গেলেও তাঁরা সম্প্রতি মুম্বইয়ে এসেছিলেন ভিসার কিছু কাজের জন্য। স্ত্রীর ভিসার কাজ করে তাঁরা জব্বলপুরে ফিরে যাওয়ার জন্য রওনা হয়ে গিয়েছিলেন। পথে তেল ভরতে ওই পেট্রল পাম্পে ঢুকেছিলেন। যেখানে গাড়ির উপর ভেঙে পড়ে হোর্ডিংটি।
দম্পতির ছেলে আমেরিকায় থাকেন। তিনি বহুবার ফোন করে বাবা-মাকে না পেয়ে তাঁর এক বন্ধুকে জানান। তিনিই পুলিশকে জানান। পুলিশ মোবাইল ট্রাক করে দেখে তাঁদের শেষ লোকেশন ছিল ওই পেট্রল পাম্পেই। বুধবার গভীর রাতে তাঁদের দেহ দেখতে পাওয়া গেলেও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বের করতে বৃহস্পতিবার ভোর হয়ে যায়।