এ যেন সিনেমার বাইরের আরেক সিনেমা! যেখানে একদিকে নতুন প্রেমের গল্পে মন ভাসিয়ে দিচ্ছেন করণ জোহর, অন্যদিকে ট্রোলের তীর এসে বিদ্ধ করছে তাঁকেই। কিন্তু উত্তর দিতে জানেন তিনি—অভিমানের বদলে আবেগ, আর কটাক্ষের জবাবে আত্মবিশ্বাস।

করণ জোহর
শেষ আপডেট: 21 July 2025 13:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন সিনেমার বাইরের আরেক সিনেমা! যেখানে একদিকে নতুন প্রেমের গল্পে মন ভাসিয়ে দিচ্ছেন করণ জোহর, অন্যদিকে ট্রোলের তীর এসে বিদ্ধ করছে তাঁকেই। কিন্তু উত্তর দিতে জানেন তিনি—অভিমানের বদলে আবেগ, আর কটাক্ষের জবাবে আত্মবিশ্বাস।
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে পরিচালক মোহিত সুরির প্রেমের ছবি ‘সাইয়ারা’। আর সেই ছবিকে এমন মুগ্ধ হয়েছেন করণ জোহর যে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ইনস্টাগ্রামে লেখেন, ‘শেষ কবে সিনেমা দেখে এমন অনুভূতি হয়েছিল মনে নেই... চোখে জল, অথচ মনে এক অদ্ভুত আনন্দ। ভালোবাসার গল্প আবার পর্দায় ফিরেছে, আর গোটা দেশ, নতুন করে প্রেমে পড়েছে।’
ছবির প্রশংসা করতে করণ ভুললেন না তাঁর ‘আলমা মাটার’ যশ রাজ ফিল্মসকেও, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর যাত্রা। লিখলেন, ‘সবচেয়ে গর্বের বিষয় যে আমার শিকড়ের জায়গা যশ রাজ ফিল্মস আবার প্রেমকে ফিরিয়ে এনেছে পর্দায়! আদি (আদিত্য চোপড়া), তোমায় ভালোবাসি। আমি চিরদিনের যরাজ ফিল্মস-এর ছাত্র!’
প্রযোজক হিসেবে এই ছবিতে আত্মপ্রকাশ করেছেন অক্ষয় উইধানি, আর নতুন মুখ হিসাবে এসেছেন আহান পান্ডে এবং অনীত পাড্ডা। করণের চোখে তাঁদের অভিনয় যেন এক অনন্য মাধুর্য। আহানের চোখে তিনি দেখেছেন গল্প, অনীতের নিঃশব্দতায় পেয়েছেন ভাষা—‘তোমরা জাদুকর! পর্দায় তোমাদের দেখা এক অভিজ্ঞতা।’
তবে আনন্দের মাঝেও জুটেছে কটাক্ষ। এক ট্রোল মন্তব্য করেছে, করণ নাকি ‘নেপো বেবিদের দিদা।’ এর জবাবে করণ লিখলেন, ‘চুপ করুন! ঘরে বসে শুধু বিষ ছড়াবেন না! দুই নতুন ছেলের কাজ দেখুন, আর নিজেও কিছু করুন!’
এই উত্তরে করণ যেন শুধুই ট্রোলকে চুপ করাননি, বরং এক ভিন্ন বার্তাও দিয়ে গেলেন—প্রতিভা আসলে রক্ত দেখে নয়, কাজ দেখে বিচার হয়।
আহান পান্ডে—অভিনেত্রী অনন্যা পান্ডের ভাই। হ্যাঁ, পরিচিত পরিবার থেকে এসেছেন, কিন্তু তাঁর কাজ? সেটা দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। ‘সাইয়ারা’ প্রমাণ করল, গল্প আর মন একসঙ্গে হলে, নতুনরাও পারে ইতিহাস লিখতে। ৮৩ কোটি টাকার ওপেনিং, হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে নতুন মুখদের নিয়ে এত বড় সাফল্য এর আগে আসেনি।
শেষমেশ, করণ যখন আহানের চোখে স্বপ্ন দেখেন আর অনীতের অভিব্যক্তিতে ভালোবাসার ব্যথা খুঁজে পান, তখন দর্শক মন বলে ওঠে—হ্যাঁ, এটাই তো সিনেমা, এটাই তো আবেগ। আর যাদের চোখে শুধুই ‘নেপোটিজম’, তারা হয়তো কখনও বুঝবেই না এই সিনেমার প্রতি নীরব প্রেম।