কয়েকটা দিনের অপেক্ষা মাত্র। আর তারপরই সারা বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেতে চলেছে অভিনেতা-পরিচালক ঋষভ শেট্টির ‘কান্তারা: চ্যাপ্টার ১’। মুক্তির আগেই ছবিটিকে ঘিরে হাওয়া তুলেছে উন্মাদনা, অথচ তেমন কোনও জমকালো অফলাইন প্রচারই হয়নি।

শেষ আপডেট: 22 September 2025 15:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েকটা দিনের অপেক্ষা মাত্র। আর তারপরই সারা বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেতে চলেছে অভিনেতা-পরিচালক ঋষভ শেট্টির ‘কান্তারা: চ্যাপ্টার ১’। মুক্তির আগেই ছবিটিকে ঘিরে হাওয়া তুলেছে উন্মাদনা, অথচ তেমন কোনও জমকালো অফলাইন প্রচারই হয়নি।
২০২২-এ মুক্তিপ্রাপ্ত জাতীয় চর্চিত সিনেমা ‘কান্তারা’-র এই প্রিক্যুয়েল বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত ভারতীয় ছবি হয়ে উঠেছে ইতিমধ্যেই। এবার অবশেষে মুক্তি পেল ছবির ট্রেলার, যা দর্শকদের উত্তেজনাকে পৌঁছে দিল শীর্ষবিন্দুতে।
তিন মিনিটের প্রায় এই ঝলক শুরু হয় এক ছোট্ট শিবার কৌতূহলী প্রশ্ন দিয়ে—“আপ্পা (বাবা) ঠিক এই জায়গা থেকেই কেন হারিয়ে গেলেন?” মুহূর্তেই ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় দর্শককে প্রথম কিস্তির প্রথম দৃশ্যের স্মৃতিতে। প্রশ্নের উত্তরে শোনা যায় এক অদ্ভুত সত্য—“এটাই আমাদের উৎপত্তির স্থান। এখানে আমাদের পূর্বপুরুষরা বাস করতেন। এটা এক উপকথা।” কিন্তু কিসের সেই উপকথা? ট্রেলারের সংলাপ বলে দেয়—“মানুষ যখনই অধর্মের পথে পা বাড়ায়, তখনই ধর্ম রক্ষায় নেমে আসেন ঈশ্বরের প্রেরিত কেউ।” আর সেই মুহূর্তেই সামনে আসে এক চরিত্র—বের্মে (ঋষভ শেট্টি), ঈশ্বর-নির্বাচিত এক যোদ্ধা!
ক্রমশ রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। সতর্কবাণী শোনা যায়—“কান্তারায় প্রবেশ করো না। সেখানে বাস করে ব্রহ্মরাক্ষস।” অন্যদিকে রাজপুত্র কুলশেখর (গুলশন দেবাইয়া) বিদ্রূপ করে বলে ওঠেন, “এই ভূমিতে কিছুই নেই, সব গল্প বানানো।” তিনি শুরু করেন স্থানীয় আদিবাসী মানুষদের শৃঙ্খলে বাঁধতে। এদিকে বের্মে আর রাজকন্যা কঙ্কাবতী (রুক্মিণী বসন্ত)-র সম্পর্কও কাঁপিয়ে তোলে রাজপরিবারকে। তাদের ভয়, বের্মের মনে নাকি সিংহাসনের লালসা রয়েছে।
রাজপুত্র কুলশেখর প্রতিজ্ঞা করে বলেন—“কান্তারার মানুষের রক্ত দিয়ে আমি আমাদের বংশের অপমান ধুয়ে ফেলব।” ক্রমে স্পষ্ট হয়, ‘কান্তারা: চ্যাপ্টার ১’ শুধু এক পৌরাণিক কাহিনি নয়, বরং প্রান্তিক মানুষের আত্মমর্যাদা ও ভূমির অধিকারের লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা প্রতিরোধের ইতিহাসকে তুলে ধরবে এই চলচ্চিত্র।
প্রথম কিস্তির শিল্পকলা যেমন চোখ ধাঁধানো ছিল, এবার ঋষভ শেট্টি যেন দশগুণ বেশি উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন তার প্রযোজনা ও ভিজ্যুয়াল গৌরবে। দর্শককে তিনি এবার দিতে চাইছেন প্রত্যাশারও বহু গুণ বেশি। আর সেই সঙ্গে উত্তর মিলবে ‘কান্তারা’ যে রহস্যগুলো অমীমাংসিত রেখে গিয়েছিল—তাদের উৎপত্তি, তাদের ঐতিহ্য আর পূর্বপুরুষদের দ্বন্দ্বের মূলকথা।
হোমওয়ালে ফিল্মস-এর ব্যানারে বিজয় কিরাগান্দুর প্রযোজিত এই ছবিতে রয়েছেন চিত্রগ্রাহক অরবিন্দ এস কাশ্যপ, সুরকার বি অজনীশ লোকনাথ, প্রযোজনা নকশায় বাংলান এবং সম্পাদনায় সুরেশ। সবকিছু মিলিয়ে কান্তারা: চ্যাপ্টার ১ এক মহাকাব্যিক প্রতিশ্রুতি নিয়েই আসছে আগামী ২ অক্টোবর।
অবশেষে মনে হয়, এই ছবি শুধু পর্দায় নয়, মনের ভেতরেও জ্বালিয়ে দেবে এক আগুন—অস্তিত্ব, অধিকার আর বিশ্বাসকে রক্ষা করার সেই অনন্ত লড়াইয়ের আগুন। কান্তারার অরণ্য তাই হয়ে উঠবে এক উপাখ্যান—যেখানে প্রতিটি দর্শক খুঁজে পাবে সিনেম্যাটিক সুর।