দুর্গাপুজো মানেই নতুন গান, নতুন মুখ, উৎসবের আবহে রঙিন চমক। সেই আবেগকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে এ বছর হাজির হয়েছেন পরিচালক অংশুমান প্রত্যুষ।

মদন মিত্র-জন-শুভাঙ্কি
শেষ আপডেট: 22 September 2025 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুজো মানেই নতুন গান, নতুন মুখ, উৎসবের আবহে রঙিন চমক। সেই আবেগকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে এ বছর হাজির হয়েছেন পরিচালক অংশুমান প্রত্যুষ। তাঁর হাত ধরে আসছে একেবারে নতুন জুটি—জন ভট্টাচার্য ও রুতভি (শুভাঙ্কি) ধর। তাঁদের প্রথম মিউজিক ভিডিয়োর নামেই লুকিয়ে আছে উৎসবের হৃদয়স্পর্শী অনুভব—‘বলো দুগ্গা মায়ের জয়’।
পুজোয় নতুন গান যেন অপরিহার্য। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অন্বেষা দত্তগুপ্ত ও সুপ্রতীপ ভট্টাচার্যের কণ্ঠে গান, সুরে সম্রাট রায়। বৃহস্পতির তপ্ত দুপুরে একের পর এক শট দিচ্ছিলেন জন-শুভাঙ্কি। নায়ক-নায়িকার রসায়ন দেখে বোঝাই গেল, পুজোর আবহে জমবে ক্ষীর। জনের পরনে ডেনিম জিন্স আর কালো নেটের শার্ট, শুভাঙ্কির গায়ে রানিরঙা লেহেঙ্গা—চোখে পড়ার মতো সাজ। প্রেম, নাচ, গান, উৎসব—সব মিলিয়ে এ যেন একেবারে টলিউডের ফ্রেশ জুটি।
জন বললেন, "প্রতি বছর পুজোতেই আমি একটা না একটা গানের ভিডিয়ো করার সুযোগ পাই। আমি ধন্য এর জন্য। এবারেও আমি আছি এই মিউজিক ভিডিয়োটাতে। আমার সঙ্গে আছে শুভাঙ্কি। খুব ভালো অভিনেত্রী। ভালো লাগছে ওঁর সঙ্গে কাজ করে। তা ছাড়া আমাদের সঙ্গে আছেন মদনদা, মদন মিত্র। ওঁর সঙ্গে কাজ করলে আলাদা মজা হয়।"
অভিনেতার জীবনের প্রথম পর্বের কথাও শোনালেন জন। "আমি কখনও নাচ শিখিনি। অভিনয়ও শিখিনি। আট বছর বয়সে পাড়ার পুজোর প্যাণ্ডেলে 'অবাক জলপান' নাটকে পথিকের চরিত্রে অভিনয় করি। আর মাইকেল জ্যাকসনের নাচ করি। ওখান থেকেই আমার জার্নি শুরু। আমি মাইকেল জ্যাকসনের নাচ ফলো করি। আমি আমার ভাইকেও শেখাতাম। দুজনেই পারফর্ম করব বলে। আমাদের সোসাইটিতে অনেকে আমাদের তাই জ্যাকসন ব্রাদার্স বলে ডাকত। বাবা মাকে বলেছিলাম আমি অভিনয় করব। বাবা, মা বলেন, আগে লেখাপড়া করো, স্কুলে যাও। বাকি সব পরে হবে। কিন্তু ইচ্ছেটা আমি বাঁচিয়ে রেখেছিলাম। আর তাই আজ এখানে। ভাবিনি এত দর্শকের ভালোবাসা আর আশীর্বাদ পাবো।"
অন্যদিকে শুভাঙ্কি বললেন, "নতুন পুজোর গান নিয়ে আসছে অংশুমান দা। বাঙালিদের কাছে পুজো একটা ইমোশন। আর তার সঙ্গে গান অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে। এবার একটা খুব সুন্দর গানের সঙ্গে কাজ করছি। সকলের আশীর্বাদ চাই, সাপোর্ট চাই। জন আছে আমার সঙ্গে। এই গানে প্রেম, গান, নাচ সবই আছে। পুজো আর প্রেম একে অপরের পরিপূরক। এখানেও জন আমাকে পুজোর সময় ফ্লার্ট করতে চাইছে। এরকমই একটা গল্প আছে গানটাতে।"

অংশুমান, শোভনদেব ও শুভাঙ্কি
আর এখানেই আসছে বিশেষ চমক। অতিথি শিল্পী হিসেবে থাকছেন বিধায়ক মদন মিত্র। হলুদ ধুতি-পাঞ্জাবিতে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে হাজির হয়ে শট দিয়েছেন তিনি। জন ও শুভাঙ্কির সঙ্গে আগেও কাজ করেছেন বলে জানালেন। খোলাখুলি বললেন, "পুজোর এই মিউজিক ভিডিয়োটা দারুণ হবে। সবাইকে পুজোয় বলতে চাই 'ওহ লাভলি'।"
শুধু মদন মিত্র নন, শুটিং ফ্লোরে হাজির ছিলেন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও। কলকাতার হৃদয়ে, পুজোর আবহ সাজানো সেটে হয়েছিল এই বৃহৎ আয়োজন। প্রযোজনার দায়িত্ব সামলেছেন দ্বৈপায়ন এম, সম্রাট মণ্ডল ও অমিত বেরা। প্রোডাকশন হাউজ সাই ক্রিয়েটিভ সার্ভিসেস ও এসএস পিকচারও ইতিমধ্যেই আলোচনায়। নির্মাতাদের দাবি, এটিই হবে পুজোর সবচেয়ে বড় স্কেলের গান।
উৎসব মানেই নতুন আবেগ, নতুন স্মৃতি। দেবীপক্ষের সূচনায় যখন ঢাকের আওয়াজ প্রতিটি হৃদয়ে বাজবে, তখন জন-শুভাঙ্কির এই নতুন জুটি হয়তো জয় করবে অগণিত মন। কারণ দুর্গাপুজোর গান কেবল বিনোদন নয়—তা আসলে আবেগ, একতার বার্তা আর আনন্দের রঙে ভিজে থাকা স্মৃতি। এ বার সেই স্মৃতিরই অংশ হয়ে উঠতে চলেছে ‘দুগ্গা মায়ের জয়’।