গত আট বছরে কাজ হারানো, কুসংস্কার ও ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে এ আর রহমানের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক। পাল্টা ইনস্টাগ্রামে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কঙ্গনা রানাউত।

কঙ্গনা রানাউত ও এ আর রহমান
শেষ আপডেট: 18 January 2026 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্কারজয়ী সুরকার ও গায়ক এ আর রহমান সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে করা মন্তব্যের জেরে তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছেন। রহমানের দাবি, গত আট বছরে তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হারিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বলিউডে কুসংস্কার এবং ধর্মীয় বিভাজনের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রহমানের এই বক্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বহু মানুষ তাঁর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ। এই আবহেই এ বার প্রকাশ্যে এ আর রহমানের কড়া সমালোচনা করলেন অভিনেত্রী ও সাংসদ কঙ্গনা রানাউত।
একটি অ্যাওয়ার্ড শো-তে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ আর রহমান বলেন, “গত আট বছরে ক্ষমতার বদল হওয়ার পর থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কারণ, এখন ক্ষমতা তাঁদের হাতেই রয়েছে, যাঁরা সৃজনশীল নন। ধর্মীয় বিভাজনও এর একটা কারণ হতে পারে। তবে এগুলো কেউ সরাসরি আমার মুখের উপর বলেনি।” রহমানের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের মুখে পড়তে হয়।
এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন কঙ্গনা রানাউত। ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে কঙ্গনা লেখেন, “প্রিয় রহমানজি, আমি বিজেপিকে সমর্থন করি বলে ইন্ডাস্ট্রিতে পক্ষপাতিত্ব ও বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু আপনার মতো পক্ষপাতদুষ্ট ও ঘৃণ্য মানুষ আমি আর কাউকে দেখিনি।” কঙ্গনার এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়।
কঙ্গনা আরও জানান, তিনি নিজের পরিচালিত ছবি ‘ইমার্জেন্সি’-র চিত্রনাট্য রহমানকে শোনাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, গল্প পড়া তো দূরের কথা, রহমান তাঁর সঙ্গে দেখা করতেও রাজি হননি। কঙ্গনার কথায়, তাঁকে জানানো হয়েছিল যে, রহমান কোনও একপেশে বা প্রচারমূলক ছবি করতে চান না। এই প্রসঙ্গে কঙ্গনা আরও লেখেন, “হিংসা আপনার চোখ অন্ধ করে দিয়েছে। অথচ বিরোধী দলের মন্ত্রীরাই আমার ছবির প্রশংসা করেছেন।”
তবে শুধু কঙ্গনাই নন, এ আর রহমানের মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন ইন্ডাস্ট্রির আরও একাধিক পরিচিত মুখ। জাভেদ আখতার, শান এবং অনুপ জালোটা প্রকাশ্যে রহমানের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত নন। গায়ক শান বলেন, “২৫ বছর ধরে আমি গান গাইছি। শ্রোতাদের ভালবাসা পেয়েছি। কিন্তু এমন বহু সময় এসেছে, যখন হাতে কাজ ছিল না। ধর্মীয় বিভাজনের কারণে আমার সঙ্গে অন্তত এমন কিছু কখনও ঘটেনি।”