অভিনেতা-রাজনীতিক কমল হাসান এই বহুচর্চিত মামলার রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া (Kamal Haasan death penalty reaction) জানাতে গিয়ে একদিকে যেমন বিচারব্যবস্থার এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেছেন, তেমনই তাঁর দীর্ঘদিনের আদর্শগত অবস্থান নিয়েও ফের সরব হয়েছেন।

অভিনেতা-রাজনীতিক কমল হাসান
শেষ আপডেট: 7 April 2026 12:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তামিলনাড়ুর সাথানকুলমে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (Sathankulam custodial death case) মামলায় ৯ জন পুলিশকর্মীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করলেও, ব্যক্তিগতভাবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতার কথা আবারও স্পষ্ট করলেন কমল হাসান। অভিনেতা-রাজনীতিক কমল হাসান এই বহুচর্চিত মামলার রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া (Kamal Haasan death penalty reaction) জানাতে গিয়ে একদিকে যেমন বিচারব্যবস্থার এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেছেন, তেমনই তাঁর দীর্ঘদিনের আদর্শগত অবস্থান নিয়েও ফের সরব হয়েছেন।
পি. জয়রাজ এবং তাঁর ছেলে জে. বেন্নিক্সের মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের এই রায় প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে কমল লিখেছেন, এই ঘটনা তাঁদের উপর চালানো নির্মমতার এক যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। তিনি বলেন, “যাঁদের দায়িত্ব মানুষের সুরক্ষা দেওয়া, তাঁদের হাতেই এমন নৃশংস অত্যাচারের (police brutality India) কথা ভাবলেও হৃদয় বিদীর্ণ হয়।” দেশজুড়ে যে হেফাজতে নির্যাতনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গও তিনি তুলে ধরেন।
এই ঘটনা ২০২০ সালের জুন মাসের, তামিলনাড়ুর থুথুকুডি জেলার সাথানকুলম শহরে। কোভিড ১৯-এর সময় লকডাউন বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে স্থানীয় পুলিশ জয়রাজ ও বেন্নিক্সকে গ্রেফতার করে। পরে পুলিশ হেফাজতে তাঁদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের মৃত্যু হয়। এই ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ, ক্ষোভ এবং দায়বদ্ধতার দাবিকে সামনে এনে দেয়।
জনমতের চাপে তদন্তভার পরে দেওয়া হয় সিবিআই-এর হাতে। সিবিআই একাধিক পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দায়ের করে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বিশেষ আদালত ৯ জন পুলিশকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে, যা হেফাজতে মৃত্যুর মামলায় অত্যন্ত বিরল নজির।
রায়ের প্রেক্ষিতে কমল হাসান নিহতদের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা, আন্দোলনকারী এবং তদন্তকারীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তবে একইসঙ্গে তিনি মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতার অবস্থানও পরিষ্কার করেন। তাঁর কথায়, “ব্যক্তিগতভাবে আমি মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী। আমার মতে, যারা জঘন্য অপরাধ করে, তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া উচিত - কোনও রকম ছাড় ছাড়াই, কঠোর পরিশ্রমের শাস্তিসহ।”
তিনি আরও বলেন, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৯ জনের পরিবারগুলির কথাও তাঁর মনে পড়ছে। “এই অমানবিক কাজের মাধ্যমে তারা নিজেদের নির্দোষ পরিবারগুলির ওপর কত বড় শাস্তি চাপিয়ে দিল, সেটাও ভাবার বিষয়,” মন্তব্য করেন তিনি।
একইসঙ্গে এই ঘটনার দায় শুধু অভিযুক্ত পুলিশদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয় বলেও মনে করেন কমল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই পুরো ঘটনার শৃঙ্খলে যুক্ত অন্যদের ভূমিকা নিয়েও। তাঁর মতে, যারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, এমনকি যিনি যথাযথ পরীক্ষা না করেই আহতদের সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন, কিংবা যারা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
কমল বলেন, “পুলিশের এই মারাত্মক হামলায় গুরুতর আহতদের না দেখেই যে চিকিৎসক সার্টিফিকেট দিয়েছেন, যিনি রিমান্ডের নির্দেশ দিয়েছেন, যাঁরা তথ্য গোপন করার চেষ্টা করেছেন, এবং শাসক দলের সেই নেতারা, যারা বিন্দুমাত্র অনুশোচনা ছাড়াই বলেছিলেন, দু’জনের মৃত্যু শ্বাসকষ্টে হয়েছে, তাঁদেরও শাস্তি হওয়া উচিত।” এই ঘটনার বৃহত্তর প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, ক্ষমতার অপব্যবহার শেষ পর্যন্ত নির্দোষ পরিবারগুলিকেই গভীর ও অপূরণীয় যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে দেয়।
সবশেষে কমল হাসান স্পষ্ট বার্তা দেন, কোনও ব্যক্তি, তাঁর পদ বা প্রভাব যাই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে হতে পারেন না। “ক্ষমতার নেশায় যে সব অত্যাচার হয়, তা নির্মূল করতেই হবে,” এই কথার মাধ্যমে তিনি ব্যবস্থাগত দায়বদ্ধতা এবং ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
অভিনেতা কমল হাসানকে শেষ দেখা গিয়েছিল 'ঠাগ লাইফ' ছবিতে, যেটি পরিচালনা করেছেন মণি রত্নম। ছবিতে তিনি এক শক্তিশালী মাফিয়া চরিত্রে অভিনয় করেন, যেখানে প্রতারণা ও প্রতিশোধের গল্প উঠে আসে। বহু বছর পর এই ছবির মাধ্যমে তাঁদের জুটি ফের বড়পর্দায় ফিরে আসে।
এখন তিনি একাধিক বড় প্রজেক্টের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার মধ্যে রয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত 'কেএইচ x আরকে', যেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা যাবে রজনীকান্তকে, প্রায় ৪৭ বছর পর এই দুই কিংবদন্তির অনস্ক্রিন পুনর্মিলন ঘটতে চলেছে। পাশাপাশি ‘বিক্রম ২’-এর মতো সিক্যুয়েল নিয়েও তিনি ব্যস্ত।