ঘটনার দিন অর্থাৎ ১৯ জুন জে বেন্নিক্স জানতে পারেন যে তাঁর বাবাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। তিনি থানায় গিয়ে বাবার উপর নির্যাতন কেন হচ্ছে তা জানতে চান। এরপর তাঁকেও জেলে ভরে দেওয়া হয়। শুরু হয় অকথ্য নির্যাতন, চলে ধাক্কাধাক্কি, লাঠিপেটা।

তামিলনাড়ুর ৯ পুলিশ কর্মীকে ফাঁসির সাজা
শেষ আপডেট: 7 April 2026 08:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২০ সালের জুন মাসে তামিলনাড়ুর জেলে (Tamilnadu Jail Custody) ঘটে যায় এক নৃশংস ঘটনা। পুলিশের চরম নির্যাতনে জেলেই মৃত্যু হয় ব্যবসায়ী পি জয়রাজ (৫৯) এবং তাঁর ছেলে জে বেন্নিক্সের (৩১) (Father Son killed in custody)। সেই ঘটনায় ছ’বছরের দীর্ঘ শুনানির পর মাদুরাই আদালত (Madurai Court) সোমবার অভিযুক্ত ন’জন পুলিশকর্মীর ফাঁসির সাজা (death sentence) ঘোষণা করেছে। আদালত রায়কে চরম নির্মমতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের 'সর্বাধিক বিরল' (rarest of rare case) উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত পুলিশকর্মীর (Tamilnadu Cops) মধ্যে আছেন ইনস্পেক্টর এস শ্রীধর, সাব-ইনস্পেক্টর পি রঘু গণেশ ও কে বালাকৃষ্ণন, হেড কনস্টেবল এস মুরুগান ও এ সামাদুরাই, কনস্টেবল এম মুধুরাজ, এস চেল্লাদুরাই, এক্স থমাস ফ্রান্সিস এবং এস ভেইলুমুতো। মামলার দশম অভিযুক্ত বিশেষ সাব-ইনস্পেক্টর পলদুরাই কোভিডে মারা যাওয়ায় সাজা ঘোষণা করা হয়নি।
ঘটনার দিন অর্থাৎ ১৯ জুন জে বেন্নিক্স জানতে পারেন যে তাঁর বাবাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। তিনি থানায় গিয়ে বাবার উপর নির্যাতন কেন হচ্ছে তা জানতে চান। এরপর তাঁকেও জেলে ভরে দেওয়া হয়। শুরু হয় অকথ্য নির্যাতন, চলে ধাক্কাধাক্কি, লাঠিপেটা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাতে থানায় প্রৌঢ়কে দেখতে পাননি কেউই। পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় দু'জনকেই দীর্ঘ সময় লাঠি ও অন্যান্য অস্ত্র দিয়েও মারধর করা হয় বলে জানা গেছিল।
পরিবারের অভিযোগ, জে বেন্নিক্স যৌন নির্যাতনের শিকারও হয়েছিলেন। পুলিশি হেফাজতের এই নির্মম নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়রা দোকান বন্ধ করে প্রতিবাদ জানান এবং রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, অনেকেই জর্জ ফ্লয়েড হত্যার সঙ্গে তুলনা করেন।
মামলাটির তদন্তভার যায় সিবিআই-এর হাতে। তদন্তে উঠে আসে যে নির্যাতন পূর্বপরিকল্পিত এবং তা চলেছিল রাতভর। আদালত এই ঘটনাটিকে 'রেয়ারস্ট অব রেয়ার' হিসেবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়।
এই রায়ের মাধ্যমে দেশে পুলিশি হেফাজতে ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা পাঠানো হলো। সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোও আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে।