প্রায় এক বছর আগে বিয়ে হয়েছিল তরুণীর। স্বামী অবধেশ অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রীকে নাকি জোর করে আটক করে রেখেছে অন্য এক যুবক- অনুজ কুমার (Anuj Kumar)। তিনি আদালতে পিটিশন দাখিল করেন।

ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 6 April 2026 14:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক পাশে দাঁড়িয়ে স্বামী, বাবা-মা অন্য পাশে, আর আরেক কোণে অপেক্ষা করছিলেন সেই মানুষটি, যাঁর হাত ধরে নতুন জীবন শুরু করতে চায় ১৯ বছরের তরুণী। গোয়ালিয়রের (Gwalior) কোর্টরুমে সেদিন ছিল এক অদ্ভুত নীরবতা! সবাই যখন তাঁর দিকে তাকিয়ে, মেয়েটি তখন মাথা তুলে দৃপ্ত কণ্ঠে বললেন, 'আমি প্রাপ্তবয়স্ক। আমি আমার জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেই নেব।' এই কয়েকটি বাক্য যেন বদলে দিল তার ভবিষ্যৎ।
পরিবার, সমাজ, সম্পর্কের টানাপড়েন- এসব ছাড়িয়ে সবচেয়ে উপরে উঠে এল এক তরুণীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার (right to live with lover)। আর সেই অধিকারকেই মান্যতা দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট (Madhya Pradesh High Court)।
আদালতেই নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিলেন তরুণী
তরুণী কোনও দ্বিধা ছাড়াই আদালতে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “আমি প্রাপ্তবয়স্ক (Adult), নিজের ইচ্ছেতে থাকছি। স্বামী বা পরিবারের সঙ্গে ফিরতে চাই না।”
কীভাবে শুরু হল মামলা?
প্রায় এক বছর আগে বিয়ে হয়েছিল তরুণীর। স্বামী অবধেশ অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রীকে নাকি জোর করে আটক করে রেখেছে অন্য এক যুবক- অনুজ কুমার (Anuj Kumar)। তিনি আদালতে পিটিশন দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ মেয়েটিকে খুঁজে পায় এবং ‘ওয়ান স্টপ সেন্টার’-এ (One Stop Centre) রাখে, পরে আদালতে তিনি হাজিরা দেয়।
‘আমার বয়স ১৯, তাঁর ৪০’ - আদালতে স্পষ্ট বক্তব্য
আদালত যখন জানতে চায় তিনি কী চান, তখন মেয়েটি স্পষ্ট বলেন, ২১ বছরের বয়সের ব্যবধান, দাম্পত্যে (Married life) অশান্তি ও মানসিক কষ্টের কথা। জানান, স্বামীর কাছে আর ফিরতে চান না। তিনি নিজের ইচ্ছেতেই অনুজের সঙ্গে থাকতে চান। স্বামী, মা–বাবা, প্রেমিক, সকলের সামনেই একটুও ইতস্তত বোধ না করেই একথা বলেন তরুণী।
কাউন্সেলিংও টলাতে পারল না সিদ্ধান্ত
আদালত শেষ চেষ্টা হিসেবে কাউন্সেলিংয়ের নির্দেশ দেয়। কিন্তু তাতেও অবস্থান বদলাননি বছর ১৯-এর তরুণী। বিচারপতি আনন্দ পাঠক ও বিচারপতি পুষ্পেন্দ্র যাদবের বেঞ্চ শেষ পর্যন্ত জানিয়ে দেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর মতামতই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রেমিকের সঙ্গেই যাওয়ার অনুমতি
মেয়েটি যখন জানালেন, কোনও জোরজবরদস্তি নেই, নিজের ইচ্ছেতেই সিদ্ধান্ত- তখন মামলার ভিত্তিই আর থাকল না। হাইকোর্ট তাঁকে অনুজ কুমারের সঙ্গে যাওয়ার অনুমতি দেয়। একইসঙ্গে নির্দেশ দেয়, পরবর্তী ছ’মাস ‘শৌর্য দিদি’ নামে নিযুক্ত সরকারি দেখা-শোনার কর্মীরা মেয়েটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন, নিরাপত্তা ও সুস্থতার খোঁজ নেবেন।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক মন্তব্যও উঠে এল
শুনানি চলাকালীন উঠে আসে সম্প্রতি দেওয়া এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ও। যেখানে বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের সম্মতিতে সহবাস আইনত কোনও অপরাধ নয়। আদালত জানিয়েছিল, নৈতিকতা ও আইনের বিচার এক নয়- সমাজের মতামত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
এই মামলার শুরু হয়েছিল ‘কাকে ফিরিয়ে আনা হবে’ তা নিয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালত বলল, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের নিজের জীবনের পথ বেছে নেওয়ার অধিকার সবচেয়ে বড়। পরিবার, সমাজ বা বিয়ের চাপ, কিছুই সেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে ছাপিয়ে যেতে পারে না।