২০১৮ সালে প্রণিতার বিয়ে হয় গৌরব অগ্নিহোত্রীর সঙ্গে, যিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন মেজর, বর্তমানে জলন্ধরে পোস্টেড। তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে।

মেয়ের ডিভোর্স উদযাপন
শেষ আপডেট: 6 April 2026 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিভোর্স (Divorce) মানেই লজ্জা, সমাজের চাপ, কানাকানি, লোকেদের সামনে মাথা নিচু করে থাকতে হবে- একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও ভারতের বহু পরিবারের চিন্তাভাবনা এখনও এমনই। বিশেষ করে মেয়েরাই সমাজের প্রশ্ন, দোষারোপ আর চাপের মুখেই পড়েন। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের মীরাট (Meerut divorce celebration) শহরের এক পরিবার সেই প্রচলিত ধারা ভেঙে দিল। লুকোচুরি বা আড়ালে নয়, মেয়ের পাশে থেকে ঢাকঢোল বাজিয়ে ডিভোর্স উদযাপন করলেন বাবা।
আদালতের সামনেই ঢাক, নাচ আর মিষ্টি
মীরাটের (Meerut) বাসিন্দা প্রণিতা, দীর্ঘদিন ধরেই বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা (Divorce case) চলছিল। মিরাটের ফ্যামিলি কোর্ট (Meerut Family Court) সেই আবেদন মঞ্জুর করে, ঠিক সেই মুহূর্তেই তাঁর বাবা, যিনি নিজে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ড. জ্ঞানেন্দ্র শর্মা- ঢাক বাজিয়ে, মিষ্টি করে আনন্দ প্রকাশ করেন। আত্মীয়রাও সামিল হন সেই উদযাপনে। মুহূর্তে এই ভিডিও ভাইরাল (Video Viral) হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সেই ভিডিওতে নেটিজেনদের নজর কেড়েছে আরও একটি দিক। প্রণিতার পরিবারের সদস্যরা পরেছিলেন কালো টি শার্ট, সেখানে তরুণীর ছবি আর লেখা ছিল, 'I Love My Daughter. My Heart, My Soul.' প্রণিতার গায়েও ছিল টি-শার্ট, 'My Family, My Life.'
“জন্মের সময় ঢাক বাজানো হয়েছিল, আজও তাই”
মেয়ের বাবার আবেগঘন বার্তা, “ওর জন্মের সময় ঢাক বাজিয়েছিলাম। আজ ডিভোর্স পাওয়ার দিনও বাজালাম। কারণ মেয়ের মূল্য জীবনের সব সময়েই সমান।” প্রণিতা বলেন, তিনি বিয়েটা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। “২০২১ সাল থেকেই মামলা চলছিল। আমি পরিবারকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাবাই সবসময় সাহস দিয়েছেন। সবাই যেন এমন পরিবার পায়।”
Vineeta got married in 2018. The marriage soon turned bitter and didn't last long. After 7 years, divorce was formalized recently and Vineeta's parents celebrated it with Dhol, dance and sweets in the court premises in Meerut, Uttar Pradesh. Attendees were seen wearing T-shirts… pic.twitter.com/L4JAVH4jxx
— Piyush Rai (@Benarasiyaa) April 5, 2026
বিয়ের পর থেকেই অশান্তি- শেষমেশ কোর্টের সিদ্ধান্ত
২০১৮ সালে প্রণিতার বিয়ে হয় গৌরব অগ্নিহোত্রীর সঙ্গে, যিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন মেজর, বর্তমানে জলন্ধরে পোস্টেড। তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে প্রণিতার ওপর মানসিক চাপ ও হয়রানি বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সহ্যের বাইরে বেরিয়ে গেলে তিনি ডিভোর্সের পথ বেছে নেন। এদিকে পরিবার ইতিমধ্যেই বড় ক্ষতির মধ্য দিয়ে গেছে- ২০২২ সালে প্রণিতার ভাই এক দুর্ঘটনায় মারা যান। এই দুঃসময়ে প্রণিতা প্রতিদিন নতুন সমস্যার মুখোমুখি হতেন।
ডিভোর্স মানে শেষ নয়- নতুন শুরু, এই বার্তাই দিল মীরাটের পরিবার
আদালত ডিভোর্স মঞ্জুর হতেই পরিবার বাইরে ঢাক বাজিয়ে, মালা আর মিষ্টি নিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। শহরজুড়ে শুরু হয় আলোচনা- ডিভোর্স লুকিয়ে রাখার বদলে কীভাবে তাঁকে শক্তি আর স্বাধীনতার উৎস করে তোলা যায়, তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ এই পরিবারটি।