ভাণ্ডারার দিন সকালে পুজো হয়, তারপর সবাইকে খাওয়ানো হয় পুরি-সবজি। গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয় কৌতূহল, এ যেন এক মানুষের নিঃসঙ্গ জীবনের প্রতিবাদী ঘোষণা।

বেঁচে থাকতেই নিজের শ্রাদ্ধভোজ! (গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল)
শেষ আপডেট: 6 April 2026 12:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'হামে তো আপনোনে লুটা, গ্যারো মে কাহা দাম থা...।' অর্থাৎ “আমাকে তো লুটেছে আপনজনেরা, পরের তো সেই ক্ষমতা ছিল না।' কবি ফিরাক গোরাখপুরির (Firaq Gorakhpuri) এই বিখ্যাত পঙক্তি ছাপা ছিল উত্তরপ্রদেশের রাকেশ যাদবের নিমন্ত্রণ পত্রের (Invitation card for a bhandara) শুরতেই, যা তাঁর বাস্তব জীবনের সঙ্গেও যেন হুবুহু মিলে যায়। সেই যন্ত্রণার অনুভূতি শব্দে লিখে নিজের শ্রাদ্ধে আমন্ত্রণ জানালেন গোটা গ্রামকে।
'আমার তো কেউ নেই'- তাই নিজের হাতেই আয়োজন
অরাইয়ার (Auraiya) লক্ষ্মণপুর গ্রামের বাসিন্দা রাকেশ যাদব (Rakesh Yadav) অবিবাহিত। দুই ছোট ভাই- একজন অসুস্থতায় মারা গেছেন, অন্যজন খুন হয়েছিলেন জমি-সংক্রান্ত বিবাদে। একমাত্র বোনও অবিবাহিত। ঘনিষ্ঠ কোনও পরিবার নেই বললেই চলে।

তাই সাংবাদিকদের প্রশ্নে রাকেশ যাদবের সোজা উত্তর, 'মরার পর আমার জন্য শেষকৃত্যের কাজ, ভাণ্ডারা করবে এমন কেউ নেই। তাই বেঁচে থাকতেই করে ফেললাম। আমি একা… আমার কেউ নেই।”
তিনি জানান, জমিজমা কিছুই না থাকায় তিনি কখনও বিয়ে করেননি। এমনকি নিজের পূর্বপুরুষদের বাড়িটিও তিনি আত্মীয়কে দিয়ে দিয়েছেন; এখন তিনি থাকেন একটি ভাড়া ঘরে। প্রতিবেশীরা বলেন, তিনি ধর্মভীরু মানুষ, নিয়মিত পূজা-পাঠ করেন।
পুরি-ভোজন, পুজো আর গ্রামজুড়ে আলোচনার ঝড়
ভাণ্ডারার দিন সকালে পুজো হয়, তারপর সবাইকে খাওয়ানো হয় পুরি-সবজি। গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয় কৌতূহল, এ যেন এক মানুষের নিঃসঙ্গ জীবনের প্রতিবাদী ঘোষণা। কেউ এটিকে তাঁর সমাজবোধের প্রকাশ বলেছেন, কেউ বলেছেন, বিষাদের মধ্যেও মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাওয়া এক মনুষ্যের গল্প।
মানুষের ভিড়, কিন্তু অন্তরে গভীর নিঃসঙ্গতা
জীবিত অবস্থায় রাকেশ যাদবের ‘ভাণ্ডারা’ আজ অরাইয়া জেলার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। জীবিত অবস্থায় মৃত্যুবন্দনা শোনায় অদ্ভুত, কিন্তু এর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক প্রবীণ মানুষের যন্ত্রণা, হারিয়ে যাওয়া পরিবার, এবং সমাজের প্রতি এক শেষ আস্থা।
একদিন মৃত্যুর পর হয়তো তাঁকে নিয়ে আর তেমন আলোচনা হবে না। কিন্তু জীবিত অবস্থায় তিনি যে প্রশ্নটা ছুড়ে দিলেন,“একজন মানুষ কতটা একা হলে নিজেই নিজের শেষ ভোজের আয়োজন করে?” তা ভাবাচ্ছে সবাইকে।