হালফিলের সিনেমায় কোর্টরুম ড্রামা বলতেই প্রথমেই মনে আসে জলি এলএলবি (Jolly LLB) ফ্র্যাঞ্চাইজি। সুভাষ কাপুর পরিচালিত এই সিরিজের দুটি ছবিই দর্শকমনে দাগ কেটেছিল। আর এবার ‘জলি এলএলবি ৩’ (Jolly LLB 3 review) সেই জনপ্রিয়তা ও প্রত্যাশাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।

জলি এলএলবি।
শেষ আপডেট: 19 September 2025 11:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়ের দশকে কোর্টরুম ড্রামা বললেই ভিড় করে আসত অনেক ছবি। তার মধ্যে রাজকুমার সন্তোষীর ‘দামিনী’ অন্যতম। ডিফেন্স ল-ইয়ার অমরেশ পুরী তথা ইন্দ্রজিৎ চাড্ডা বা সানি দেওলের ‘তারিখ পে তারিখ’ সংলাপ এখনও কিংবদন্তী হয়ে আছে। কিন্তু হালফিলের সিনেমায় কোর্টরুম ড্রামা বলতেই প্রথমেই মনে আসে জলি এলএলবি (Jolly LLB) ফ্র্যাঞ্চাইজি। সুভাষ কাপুর পরিচালিত এই সিরিজের দুটি ছবিই দর্শকমনে দাগ কেটেছিল। আর এবার ‘জলি এলএলবি ৩’ (Jolly LLB 3 review) সেই জনপ্রিয়তা ও প্রত্যাশাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। ট্রেলারে ছবিটিকে যতটা হালকা মনে হয়েছিল, বাস্তবে কিন্তু ততটা নয়। বরং সিনেমা হলের পর্দায় এটি হয়ে উঠেছে এক তীক্ষ্ণ, হৃদয়গ্রাহী ও শক্তিশালী কাহিনি, যেখানে রয়েছে সামাজিক বার্তা, তীব্র ব্যঙ্গ, হাস্যরস আর দারুণ সব অভিনয়।
এই ছবির মূল স্রোতে রয়েছে এক কৃষক রাজারাম সোলঙ্কির আত্মহত্যা। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী জানকি (সীমা বিশ্বাসের অসাধারণ অভিনয়ে) দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যবসায়ী হরিভাই খেতান (গজরাজ রাও)-এর বিরুদ্ধে মামলা করেন। খেতানের ‘বিকানের টু বস্টন’ প্রকল্প আসলে ২০১১ সালের উত্তরপ্রদেশের জমি অধিগ্রহণ আন্দোলনের পটভূমিতে আঁকা, যা ছবিকে আরও জুড়ে দিয়েছে বাস্তবের সঙ্গে।
অক্ষয় কুমার ও আরশাদ ওয়ারসির ফেরত আসা ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য স্বপ্নের মতো। অক্ষয়ের তীক্ষ্ণ সংলাপ আর আরশাদের আন্ডারস্টেটেড কমেডি দর্শককে মুগ্ধ করবে বলেই আশা করা যায়। তবে তাঁদের চরিত্র কেবল মজার নয়, নৈতিক দ্বন্দ্বে জর্জরিত সাধারণ মানুষ হিসেবেও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। কখনও কৌতুক, কখনও আবেগ—এই টানাপোড়েনই প্রাণবন্ত করে তুলেছে ছবিকে।

তবে আসল নায়ক সৌরভ শুক্লই (Sourav Shukla Jolly LLB)। জলি এলএলবি-র আগে দুটি পর্বের মতোই বিচারক সুন্দরলাল ত্রিপাঠীর চরিত্রে সৌরভ শুক্লা পুরো ছবির মেরুদণ্ড। এ বার তাঁকে আরও নতুন স্তরে দেখা যায়—রসিকতায় ভরা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের পাশাপাশি আছে রোম্যান্টিক আভাস এবং এক ধরনের মানবিক কোমলতা। একজন বিধুর মানুষের নতুন প্রেম, শরীরচর্চা, প্রোটিন শেক আর গ্রিন-টির অভ্যাস—সব মিলিয়ে তাঁর চরিত্র একেবারে অন্য মাত্রা পেয়েছে। তাঁর প্রতিটি দৃশ্য দর্শকদের জন্য আলাদা আনন্দের। সিনেমার এক গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে তিনি আদালতে নিজের অবস্থান বোঝানোর পর ক্যামেরা যখন তাঁর টেবিলে রাখা জাতীয় পতাকা ও লাল গোলাপে স্থির হয়, সেটিই ছবির অন্যতম সেরা প্রতীকী মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
ছবির সংলাপে রয়েছে ব্যঙ্গের দারুণ ঝাঁজ, হাসির মুহূর্তও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জমে যায়। কৃষক আত্মহত্যার মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে পরিচালক সুভাষ কাপুর অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ না হয়ে ভারসাম্যের সঙ্গেই তুলে ধরেছেন।
তবে কিছু জায়গায় দুর্বলতাও আছে—অতিরিক্ত টেনে আনা একটি গান এবং মরুভূমিতে উট দৌড়ের দৃশ্য ছবির গতি খানিক ব্যাহত করে হতে পারে।
শেষমেশ বলা যায়, ‘জলি এলএলবি ৩’ শুধু কোর্টরুম কমেডি নয়, বরং এক প্রাসঙ্গিক সামাজিক বার্তা বয়ে চলা ছবি। সিস্টেমকে প্রশ্ন করে, দর্শককে হাসায় আবার ভাবায়ও। অক্ষয়-আরশাদের জুটি, সীমা বিশ্বাস ও গজরাজ রাওয়ের অভিনয় এবং সৌরভ শুক্লার অসাধারণ উপস্থিতি ছবিটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।
এই ছবির রায়? জলি এলএলবি ৩ আবারও প্রমাণ করল কেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজি আজও গুরুত্বপূর্ণ—এই ছবি দশর্ককে একইসঙ্গে হাসাবে, ভাবাবে এবং হাততালি দিতেও বাধ্য করবে।