‘হম দিল দে চুকে সনম’-এর প্রিমিয়ারে সলমন-ঐশ্বর্যাকে দেখে কিছু না বলে বেরিয়ে যান জয়া বচ্চন। বনসালি ভেবেছিলেন ছবিটি তাঁর অপছন্দ, পরে জয়া নিজেই ছবিটি পাঠান বার্লিন ফেস্টিভালে।

শেষ আপডেট: 3 August 2025 10:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুক্তির আগেই হয়েছিল বিশেষ প্রিভিউ স্ক্রিনিং। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জয়া বচ্চনও (Jaya Bachchan)। ছবি শেষ হওয়ার পর পরিচালকের দিকে তাকিয়ে হালকা এক হাসি, তারপর শব্দ না করে চলে যাওয়া—এতেই মনে তৈরি হয়েছিল ভুল ধারণা। ভেবেছিলেন হয়তো ছবিটা একেবারেই পছন্দ হয়নি। কিন্তু পরে জানা গেল, উল্টোটাই সত্যি। বরং জয়ার সুপারিশেই সেই ছবি জায়গা করে নেয় বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে।
সম্প্রতি একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে (Star Talk) সেই ঘটনার কথা স্মৃতিচারণায় শোনালেন পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনসালি (Sanjay Leela Bhansali)। বলেন, ১৯৯৯ সালের ‘হম দিল দে চুকে সনম’ ছিল তাঁর কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। ছবির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য তিনজনকে কৃতিত্ব দেন তিনি। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জয়া বচ্চন।
বনসালির কথায়, “জয়া বচ্চন ছবি দেখে বেরিয়ে একটা হাসি দিয়েই চলে যান। কিছু বলেননি। আমি ভাবি, উনি হয়তো একদমই পছন্দ করেননি ছবিটা। কয়েক দিন পর একদিন ফোন করে বলেন, ‘তুমি তো ভেবেছিলে আমি ঘৃণা করলাম ছবিটা, কিন্তু আমার পছন্দের প্রমাণ হল এটাই যে আমি বার্লিনে পাঠানোর সুপারিশ করেছি।’”
সলমন খান (Salman Khan), ঐশ্বর্যা রাই (Aishwarya Rai) ও অজয় দেবগণ অভিনীত এই ছবি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৯৯ সালে। প্রেম, আত্মত্যাগ ও আবেগের জটিল সমীকরণে বোনা হয়েছিল এই গল্প। বলিউডে প্রেমকাহিনির ঘরানা বদলে দেওয়া ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে ওঠে এটি। পরে ‘দেবদাস’, ‘বাজিরাও মাস্তানি’, ‘ব্ল্যাক’—প্রতিটিই নতুন করে প্রতিষ্ঠা দেয় বনসালির স্বকীয় স্টাইল।
সেই সাক্ষাৎকারে বনসালি জানান, শুধু জয়া বচ্চনই নন, আরও দু’জনের ভূমিকা ছিল ‘হম দিল দে চুকে সনম’কে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দেওয়ার পিছনে। তাঁদের মধ্যে এক জন ছিলেন বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভালের প্রতিনিধি ডরোথি। ভারতে এসে এক ট্যাক্সিচালকের পরামর্শে তিনি ছবিটি দেখতে যান। তার পরই নির্বাচিত হয় ছবিটি।
এই ছবির শ্যুটিং চলাকালীনই ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন সলমন খান ও ঐশ্বর্যা রাই। সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় অত্যন্ত বিতর্কিত পরিস্থিতিতে। পরে কিছুদিনের জন্য অভিনেতা বিবেক ওবেরয়ের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন ঐশ্বর্যা। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
এই প্রেম-পর্ব অনেক আগেই শেষ হয়ে গেলেও, ভবিষ্যতে ঐশ্বর্যা হয়ে ওঠেন জয়া বচ্চনের পুত্রবধূ। তবে জয়া যখন এই ছবিটি দেখেন, তখনও তাঁদের মধ্যে কোনও সম্পর্ক তৈরি হয়নি।