মাথায় ফেজ টুপি, চোখে সুরমা—ভাইরাল ভিডিও দেখে হতবাক নেটদুনিয়া।

জাভেদ আখতার
শেষ আপডেট: 2 January 2026 11:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঈশ্বরে বিশ্বাসী নন, এই পরিচয়েই বরাবর নিজেকে প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন জাভেদ আখতার (Javed Akhtar)। নিজেকে ‘নাস্তিক’ বলতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন তিনি। অথচ সেই প্রবীণ গীতিকারকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (fake AI video) কারসাজিতে একেবারে উল্টো রূপে তুলে ধরার চেষ্টা হল। সম্প্রতি নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ফেজ টুপি পরে চোখে সুরমা লাগিয়ে মসজিদে নমাজ পড়তে যাচ্ছেন জাভেদ আখতার। এই দৃশ্য দেখে অনুরাগীরা যেমন হতবাক, তেমনই কটাক্ষ করতে শুরু করেন নিন্দুকরাও। অনেকের প্রশ্ন, মুফতি নদবীর সঙ্গে আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে তর্কের পরই কি তবে জাভেদ আখতার ধর্মমুখী হয়ে পড়লেন?
ভাইরাল সেই ভিডিও দেখেই চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রবীণ গীতিকার। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ওই ভিডিওকে ‘আবর্জনা’ বলে আখ্যা দেন। জাভেদ আখতার স্পষ্ট করে লেখেন, “একটি ভুয়ো ভিডিও ভাইরাল করা হচ্ছে, যেখানে আমার মাথায় টুপি পরানো হয়েছে। কম্পিউটার জেনারেটেড সেই ছবিকে ব্যবহার করে দাবি করা হচ্ছে যে অবশেষে আমি নাকি আল্লাহর শরণাপন্ন হয়েছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।” তিনি আরও জানান, এই ভুয়ো ভিডিওর বিরুদ্ধে সাইবার সেলে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং যাঁরা এইভাবে তাঁর মানহানি করার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করেছেন।
ভাইরাল ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়েছিল, মুফতি নদবীর সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের পরেই নাকি জাভেদ আখতার আল্লাহর অস্তিত্ব মেনে নিয়ে মসজিদে গিয়ে নমাজ পড়তে শুরু করেছেন। এই দাবিকেও সরাসরি খারিজ করেছেন তিনি।
A fake video is in circulation showing my fake computer generated picture with a topi on my head claiming that ultimately I have turned to God . It is rubbish . I am seriously considering to report this to the cyber police and ultimately dragged the person responsible for this…
— Javed Akhtar (@Javedakhtarjadu) January 1, 2026
প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে এক বিতর্কসভায় অংশ নিয়েছিলেন জাভেদ আখতার। সেখানেই মুফতি নদবীর সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। সেই সময় জাভেদ বলেছিলেন, “আল্লা বা ঈশ্বর যদি সর্বশক্তিমান হন, সর্বত্র যদি তাঁর উপস্থিতি থাকে, তাহলে গাজাতেও তো আল্লাহ রয়েছেন। সেখানে শিশুদের ছিন্নভিন্ন দেহ বোমা হামলায় উড়ে যেতে দেখেও ঈশ্বর কিছুই করেননি। এরপরও আপনি চাইছেন আমি ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখি?”
এখানেই থেমে না থেকে তিনি আরও বলেন, “আল্লাহর তুলনায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনেক ভাল। অন্তত তিনি কিছু না কিছু খেয়াল রাখেন। সব প্রশ্ন আর আলোচনা কেন শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরকে ঘিরেই আবর্তিত হয়? এ কেমন ঈশ্বর, যিনি শিশুদের বোমা হামলায় মরতে দেখেন? যদি তিনি থেকে থাকেন এবং এই সব কিছু নির্বিকারভাবে দেখেন, তাহলে ঈশ্বর বা আল্লাহর না থাকাটাই শ্রেয়।”