কীভাবে আলাপ হয়েছিল দু'জনের? জ্যাকির কথায়,‘‘বাসের জানালায় দাঁড়িয়ে ছিল মেয়েটি, হাতে ছিল পতাকা। কোনও মার্চ পাস্ট করে ফিরছিল। আমি বাইকে বসে শুধু তাকিয়ে বলেছিলাম—এই মেয়েটাকেই বিয়ে করব।’’ তখনই হৃদয়ে বাজে প্রেমের প্রথম সুর।

এয়ার মার্শালের মেয়ে হয়েও ঝুপড়িতে সংসার
শেষ আপডেট: 7 July 2025 18:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চওড়া বুক, রাফ অ্যান্ড টাফ চেহারা, বলিউডে ‘ভিড়ু’ ইমেজ— তিনি জ্যাকি শ্রফ। তাঁর প্রেমকাহিনি শুনলে চোখে জল আসবে। একটা সময় যার পকেটে ছিল মাত্র ৩০ টাকা আজ তিনিই কোটি কোটি টাকার মালিক। আর এই জার্নি সম্ভবই ছিল না যদি না জীবনে আগমন ঘটত আয়েশার, তাঁর স্ত্রী, তাঁর বন্ধু, তাঁর আত্মার সঙ্গী। তাঁকে যখন ভালবেসেছিলেন জ্যাকি তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৪। আর আজ, তিন দশক পেরিয়েও, তাঁদের সম্পর্ক রূপকথাকেও হার মানায়।
কীভাবে আলাপ হয়েছিল দু'জনের? জ্যাকির কথায়,‘‘বাসের জানালায় দাঁড়িয়ে ছিল মেয়েটি, হাতে ছিল পতাকা। কোনও মার্চ পাস্ট করে ফিরছিল। আমি বাইকে বসে শুধু তাকিয়ে বলেছিলাম—এই মেয়েটাকেই বিয়ে করব।’’ তখনই হৃদয়ে বাজে প্রেমের প্রথম সুর।
পরদিন দেখা, পরিচয়। দু’দিনের মধ্যে আয়েশার বান্ধবী এসে বলেন, ‘‘তুমি অ্যাক্টিং কর? আয়েশা বলেছে, তোমার হিরো হওয়ার সব গুণ আছে।’’ জ্যাকি আর যান কোথায়? তাঁর কিছু দিন পর ‘তেরি বাহোঁ মে’ ছবির জন্য একসঙ্গে অডিশন দিতে যান দু’জনে। আয়েশা পান প্রধান চরিত্র। জ্যাকিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়—কারণ হিসেবে জানানো হয় তিনি‘খুব পাতলা’! তবু ভালবাসা ফিরিয়ে দেননি আয়েশা, সম্পর্ক অটুট থাকে। ১৯৮৭ সালে তাঁরা বিয়ে করেন।
তবে এই প্রেম বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের নয়, এক কামরার ছোট্ট ঘরেই বোনা হয়েছিল এর প্রথম আখ্যান। জ্যাকি বলেন, ‘‘আমার তখন দৈনিক খরচ ৩০ টাকা। আয়েশা উঁচু ঘরের মেয়ে, বাবাও এয়ার ভাইস মার্শাল ছিলেন। তবুও সে আমার সঙ্গে ঝুপড়িতে এসে থাকতে রাজি হয়। শৌচালয়ের লাইনে দাঁড়াত, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শুরু হয়েছিল আমাদের লড়াই।’’
একসময় নিজের ফ্ল্যাট বিক্রি করে জ্যাকির জন্য বাড়ি কেনেন আয়েশা। জ্যাকিও মান রেখেছেন ভালবাসার। তাঁর কথায়, ‘‘ও আমায় ভরসা করেছিল, আর আমি সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখার চেষ্টা করেছি।" আজ এত বছর পেরিয়েও আজও একসঙ্গে তাঁরা। এত বছরে সম্পর্কে আগমন ঘটেনি কোনও তৃতীয় ব্যক্তির।