কলকাতার মাটিতে তৈরি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি আন্তর্জাতিক স্তরে একের পর এক স্বীকৃতি পেয়ে চলেছে। প্রথমবার পরিচালনা করে এমন সাফল্য খুব কম নির্মাতার ভাগ্যেই আসে।

শেষ আপডেট: 17 February 2026 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার মাটিতে তৈরি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি আন্তর্জাতিক স্তরে একের পর এক স্বীকৃতি পেয়ে চলেছে। প্রথমবার পরিচালনা করে এমন সাফল্য খুব কম নির্মাতার ভাগ্যেই আসে। বিশিষ্ট কেরিয়ার কোচ অভিষেক দে সরকার পরিচালিত প্রথম ছবি ‘ইতি: দ্য বিগিনিং’ ইতিমধ্যেই প্রমাণ করে দিয়েছে, তিনি শুধু পেশাগত সাফল্যের পথপ্রদর্শক নন, একজন সংবেদনশীল গল্পকারও। ( Abhishake De Sarkar, ‘ITI: The Beginning’)
ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন দেবলীনা দত্ত এবং বিশ্বনাথ বসু (Debleena Dutt, Biswanath Basu)। তাঁদের অভিনয় ছবির আবেগকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। ছবিটির প্রিমিয়ার হয় ইন্টারন্যাশনাল কলকাতা শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এ। সেখানেই এটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে মনোনয়ন পায় এবং সেরা নবাগত পরিচালকের পুরস্কার জিতে নেয়। প্রথম ছবিতেই এমন স্বীকৃতি পরিচালকের আত্মপ্রকাশকে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য করে তুলেছে।
এরপর আন্তর্জাতিক স্তরেও ছবিটি প্রশংসা অর্জন করেছে। Indo-Dubai International Festival-এ এটি সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবির পুরস্কার পেয়েছে। পাশাপাশি, New York Film & Cinematography Awards এবং Berlin Lift-Off Film Festival-এ অফিসিয়াল সিলেকশন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। বর্তমানে ছবিটি বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ Cannes Film Festival-সহ আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক উৎসবে বিবেচনার তালিকায় রয়েছে।
‘ইতি: দ্য বিগিনিং’-এর গল্প মূলত একটি শিশুর জীবনকে ঘিরে। এমন একটি শিশু, যে বড় হচ্ছে বাবা-মায়ের স্বপ্ন, দায়িত্ব এবং ব্যস্ততার মধ্যে। আধুনিক সমাজে অনেক সময় বাবা-মায়ের পেশাগত সাফল্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যে সন্তানের আবেগিক চাহিদা অজান্তেই উপেক্ষিত হয়। ছবিটি সেই বাস্তবতাকে খুব শান্ত এবং সরলভাবে তুলে ধরেছে। কোথাও সরাসরি অভিযোগ নেই, কিন্তু গল্পটি দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে— সাফল্যের পথে এগোতে গিয়ে আমরা কি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলিকে হারিয়ে ফেলছি?
এই ছবি পরিচালনা করা অভিষেক দে সরকারের কাছে শুধুই একটি পেশাগত পদক্ষেপ নয়, এটি তাঁর ব্যক্তিগত উপলব্ধির ফল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছাত্রছাত্রীদের কেরিয়ার গড়তে সাহায্য করেছেন। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝেছেন, শুধুমাত্র পেশাগত সাফল্য জীবনের পূর্ণতা দেয় না। তিনি জানিয়েছেন, এই ছবি তাঁর একটি ছোট চেষ্টা— মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়া, সাফল্যের পিছনে ছুটতে গিয়ে যেন আমরা বাড়িতে অপেক্ষা করা মানুষগুলোর আবেগকে ভুলে না যাই। তাঁর কাছে এই ছবি ভবিষ্যতে আরও অনেক গল্প বলার সূচনা।
দেবলিনা দত্ত জানিয়েছেন, প্রথমবার চিত্রনাট্য পড়ার সময়ই তিনি গল্পটির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়েন। তাঁর মতে, ইতি শুধু একটি চরিত্র নয়, বরং এমন অনেক শিশুর প্রতীক, যাদের অনুভূতি অনেক সময় কেউ শোনে না। এই ছবির অংশ হতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন, কারণ এটি এমন একটি গল্প, যা প্রতিটি বাবা-মা এবং সন্তানের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিশ্বনাথ বসুও জানিয়েছেন, এই ছবির বিশেষত্ব তার সরলতায়। ছবিটি কোনও জোরালো বার্তা দেয় না, বরং খুব স্বাভাবিকভাবে একটি বাস্তবতা তুলে ধরে। পরিচালকের লেখা গল্পটি যেমন ব্যক্তিগত, তেমনই সার্বজনীন। এই ছবির অংশ হওয়া তাঁর কাছে একটি অর্থপূর্ণ অভিজ্ঞতা।